শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭, ১১:৫৩:১১

কী ঘটেছিল সৌদি আরবে? যা বললেন সাদ হারিরি

কী ঘটেছিল সৌদি আরবে? যা বললেন সাদ হারিরি

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, ‘সৌদি আরবে যা হয়েছে তা নিজের মধ্যেই রাখতে চাই। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি এখনই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়বেন না। সম্প্রতি সৌদি আরব সফরকালে নিজের পদত্যাগের ঘোষণার পর দেশে ফিরে তা স্থগিত করেন হারিরি। এরপর সোমবার এক বিবৃতিতে আবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম সি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হারিরি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি তার স্থান থেকে সরে না দাঁড়ায় তবে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিবো। এ ছাড়া ভবিষ্যতে পরামর্শের ভিত্তিতে সরকারের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে এবং আমরা প্রাথমিক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

গত ৪ নভেম্বর সৌদি সফরে গিয়ে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সংগঠন হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন তিনি। হারিরি বলেছিলেন, খুন হওয়ার ভয়েই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, সৌদি আরবের চাপেই পদত্যাগ করেছেন তাদের মিত্র হারিরি। হিজবুল্লাহর মুখোমুখি হতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ‘সরিয়ে দিয়েছে’ সৌদি কর্তৃপক্ষ।

তবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। তিনি জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। এরপর দেশে ফিরেই সাদ হারিরি জানান, পদত্যাগ করছেন না তিনি। অন্য দিকে ২ নভেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন অভিযানের নামে ১১ জন প্রিন্সসহ প্রায় ২০০ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময়ই পদত্যাগের ঘোষণা দেন হারিরি। বিশ্লেষকেরা বৃলছেন, একদিকে অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান, অন্য দিকে আঞ্চলিক আধিপত্য জোরদারে লেবানন ও ইয়েমেনকে ইরানবিরোধী ছায়াযুদ্ধের নাট্যমঞ্চ বানায় সৌদি আরব।

‘মধ্যপ্রাচ্যকে সৌদি মোড়লিপনা’

এ দিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন কাতারের উপ প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আলে সানি। লন্ডনে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সৌদি সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর মোড়লিপনা করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সঙ্ঘাত শুরুর ঝুঁকি তৈরি করছে। আর সৌদি আরবের এ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযানের সবশেষ লক্ষ্যবস্তু লেবানন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

৪ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। এর পর থেকে তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। লেবানন তখন দাবি করেছিল, হারিরিকে বলপূর্বক আটকে রেখে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ইঙ্গিত দেয়া হয় ইরানকে ঠেকাতে সৌদি আরব লেবাননকে নাট্যমঞ্চ বানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশে না ফিরলে হারিরির পদত্যাগপত্র গ্রহণযোগ্য নয়। পরে লেবাননের স্বাধীনতা দিবসের দিন দেশে ফিরে যান হারিরি, জানিয়ে দেন তিনিই প্রধানমন্ত্রী থাকছেন।

লন্ডনে এক গোলটেবিল আলোচনায় কাতারের উপ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেবানন একটি দুর্বল দেশ। এ দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়া এবং দেশটিতে সরকারশূন্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করাটা সবার জন্য খুব স্পর্শকাতর ও অফলপ্রসু নীতি। এটা হলো একটি ছোট দেশের ওপর একটি বড় দেশের উৎপীড়ন। আমরা এমনটা কাতারের ক্ষেত্রে হতে দেখেছি এবং এখন লেবাননের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখছি।’

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?