রবিবার, ২৪ মার্চ ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৬ এপ্রিল, ২০১৮, ০৬:৩৯:০২

রথীশের মরদেহের উপর কোচিং করাতে চেয়েছিলেন কামরুল

রথীশের মরদেহের উপর কোচিং করাতে চেয়েছিলেন কামরুল

ঢাকা : স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে খুন হন আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর স্ত্রীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব।

রথীশের স্ত্রীর নাম স্নিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিক। তিনি রংপুরের তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার প্রেমিক কামরুল ইসলামও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পুলিশ বলছে, খুনের সাথে পুরোপুরি সম্প্রক্ত ছিলেন কামরুল। তবে খুনের ঘটনায় কেউ যেন তাকে সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু আর শেষ রক্ষা হয়নি।

রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর, জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি কামরুল নিজেই প্রচার করেছিলেন বাবু সোনার বাড়িতে আসা লোকজনদের সামনে। এমনকি বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে দীপার হাতে দিয়ে তাকে সান্ত্বনাও দিয়েছিলেন।

তদন্ত সূত্রগুলোর তথ্য মতে, ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শনিবার স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও প্রেমিক কামরুল ইসলাম তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান,  শনিবার সকালে বাবু সোনার নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর তার বাড়িতে ছুটে যান কামরুল। তারপর বিকেলের দিকে বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে ওই বাড়িতে আবার আসেন। এ সময় দীপাকে ফল খেতে বলেন ও সান্ত্বনা দেন।

তাজহাট মোল্লাপাড়ার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান,  যে বাড়িতে রথীশের মরদেহ পাওয়া গেছে, তা দীপার সহকর্মী কামরুল ইসলামের ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ি। ওই বাড়িতেই মরদেহ গুম করে সেখানে প্লাস্টার করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং ক্লাস করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

তদন্ত সংস্থাগুলোর সূত্র মতে, ১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর একই দিনে ইসলাম ধর্মের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান কামরুল ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান দীপা। তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন সেই সময়ে স্কুলের সহসভাপতি আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক।

স্কুলে নিয়োগ পাওয়ার পরপরই কামরুলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দীপা। একই স্কুলের আরেক শিক্ষক মতিয়ার রহমান ও বাবু সোনার অফিস সহকারী মিলন মোহন্ত ছাড়াও আরো কয়েকজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে কামরুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট।

র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, নিহতের দুই মাস আগেই রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্তরা। তবে নানা কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। পরে গত ২৯ মার্চ রাতে নিজ ঘরেই খুন করা হয় রথীশ চন্দ্রকে। রথীশের স্ত্রী দীপার সহায়তায় তার কথিত প্রেমিক কামরুল তাকে হত্যা করেন।

যে দিন খুন করা হয়, সে দিন রাতে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাইয়ে রথীশ চন্দ্রকে অচেতন করেন দীপা। এরপর দীপা ও তার কথিত প্রেমিক কামরুল মিলে রথীশ চন্দ্রকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন।

প্রসঙ্গত, রথীশ চন্দ্র জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষী ছিলেন তিনি। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদকও। এছাড়া জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক। হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ছিলেন এই আইনজীবী।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?