সোমবার, ২০ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২১ মে, ২০১৮, ১২:২৬:২৭

সৌদির সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে বাদশাহর তিন ছেলে

সৌদির সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে বাদশাহর তিন ছেলে

নিউজ ডেস্ক: বড় ভাই বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের কাছে হাত পেতে চলতেন সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। আর আজ তারই ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রাতারাতি ধনকুবের বনে গেছেন। শুধু যুবরাজ নয়, সম্পদের পাহাড় গড়ে ফেলেছেন তার অপর দুই সহোদর প্রিন্স তুর্কি বিন সালমান ও খালিদ বিন সালমান। বাবার বাদশাহী দাপট খাটিয়ে সরকারি ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাগ বসিয়ে আজ লাগামছাড়া সম্পদের মালিক সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মোহাম্মদ ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এককথায় সৌদি আরবকে ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে বাদশাহর তিন ছেলে। যুবরাজ মোহাম্মদ বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম। মোহাম্মদের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল প্রমোদ তরী। দেশের বাইরে ফ্রান্সে কিনেছেন বিশাল এক রাজপ্রাসাদ। হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ রয়েছে ব্যাংক, রিয়েল এস্টেট ও শিল্পখাতে। সরকারি ব্যবসা-বাণিজ্যের অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আল সৌদের অন্য ছেলেরা যখন সম্পদশালী হয়ে উঠেছেন, রাজধানী রিয়াদ শহরের তৎকালীন গভর্নর সালমান তখন তার ভাইদের সহযোগিতায় পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। যুবরাজ মোহাম্মদ তখন কিশোর। তিনি উপলব্ধি করলেন, চাচাদের তুলনায় বাবা সালমান নিতান্তই ‘কপর্দকশূন্য’। সেই বয়সেই নিজ পরিবারের এই আর্থিক অবস্থা বদলের সিদ্ধান্ত নেন মোহাম্মদ। প্রায় দুই দশক পর বাবা সালমান এখন সৌদি বাদশাহ। আর মোহাম্মদ নিজে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবার কপর্দকশূন্য অবস্থা থেকে একজন ধনকুবেরে পরিণত হয়েছে যুবরাজ মোহাম্মদ। বাবার ক্ষমতার হাত ধরে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যবহার, পারিবারিক ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তিনি। সরকারি অর্থের অপব্যবহার করে খুলেছেন একের পর এক নতুন ব্যবসা। সৌদির সরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজপরিবারের ব্যবসা এক না হলেও যেন একসূত্রে বাঁধা। এমনকি দেশটির বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস তেল কোম্পানিতে একটা বড় অংশের মালিক রাজপরিবার।
মোহাম্মদ বর্তমানে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজদরবারের প্রধান এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়নবিষয়ক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। ২০১৭ সালে ভাতিজা মুহাম্মদ বিন নায়েফকে যুবরাজের পদ থেকে অপসারণ করে ছেলে মুহাম্মদকে যুবরাজ মনোনীত করেন বাদশাহ। একই সঙ্গে রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে নায়েফকে তার সব পদ থেকে অপসারণ করে তার সব ক্ষমতা মুহাম্মদ বিন সালমানকে দেয়া হয়। সম্পদ বৃদ্ধির জন্য নিজের এসব পদের ব্যবহার করছেন তিনি।
সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিল্প-কারখানায় রাসায়নিক সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে ২০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে মোহাম্মদের। ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি মাত্র কোম্পানিকে ব্রডব্যান্ড লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। সেই কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক মোহাম্মদের দুই সহোদর। ২০১৭ সালে দেশটির সরকারি নথিপত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালে ইউরোপের বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের নিকট থেকে সৌদির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইন্সের জন্য কয়েকশ’ কোটি ডলার দিয়ে ৫০টি বিমান কেনা হয়। বিমানগুলোতে যুবরাজের ছোট তুর্কি বিন সালমানের মালিকানা ৫৪ শতাংশ। বিমানগুলো সৌদি এয়ারলাইন্সকে লিজ হিসেবে দেয়া হয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদের পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকা-ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, থারাওয়াত শিল্পগোষ্ঠী। ২০১৭ সালের এক সরকারি নথিমতে, এ কোম্পানির ৯৯ শতাংশের মালিক তুর্কি বিন সালমান।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?