শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৬ জুলাই, ২০১৮, ০৪:৩০:১৬

তবুও হাসছে ওরা ১২ জন! (ভিডিও)

তবুও হাসছে ওরা ১২ জন! (ভিডিও)

ঢাকা : ‘আমাদের খুব খিদে পেয়েছে। আমরা কিছু খেতে চাই’ মানুষের গলার আওয়াজ পেয়েই বলতে শুরু করল গুহায় আটকে পড়া শিশুরা। উদ্ধারকারীরা বলল, ‘আজ নয়, আমরা কাল আসব খাবার নিয়ে।’ দিন দশেক পর খোঁজ মিলেছে তাদের। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তাদের ছবি। আর গুহার বাইরে তখন একে অপরের পিঠ চাপড়াচ্ছে উদ্ধারকারীরা। যেন যুদ্ধজয়ের হাসি তাদের মুখে।

ক’দিন জোটেনি খাবার। চারপাশে জল। আর কোনোদিন ফেরা হবে মায়ের কাছে? এতদিনে ক’টা গোল দিল মেসি কিংবা রোনাল্ডোরা? আর কোনোদিন ফুটবল পায়ে ছোটা হবে সবুজ ঘাসে? ১০টা রাত ধরে হয়ত এসবই ভেবেছে ওরা। মানুষের গলা শুনে ফুটেছে হাসি। তবে, সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও যোজন দূরে। তবু ওদের হাসিটুকুও লড়াইয়ের শক্তি যোগাচ্ছে থাইল্যান্ডকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। গুহার বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের চোখে-মুখেও খুশির ছাপ। জায়গায় জায়গায় চলছে প্রার্থনা-পুজো।

দিন-রাত বড় বড় পাম্প চলছে। গুহা থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ জল পাম্প করে বের করা হয়েছে। কিন্তু তার পরেও এখনও যে পানি রয়েছে, তা উদ্ধারকাজ চালানোর পক্ষে যথেষ্ট বেশি। তার উপরে চোখ রাঙাচ্ছে বর্ষা।

প্রাথমিক ভাবে, উদ্ধারকারীদের সামনে এখন চারটি রাস্তা খোলা। প্রথম, জল নামার জন্য অপেক্ষা করা। ইতিমধ্যেই গুহা থেকে বেশ খানিকটা পানি পাম্প করে বের করে দেওয়া গিয়েছে। তবে থাইল্যান্ডে বর্ষাকাল শুরুর মুখে। শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও মিলেছে। তার ফলে গুহার ভিতরের পানি কমার বদলে আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়, নতুন একটি পথ তৈরি করে বাচ্চাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা। উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, তা প্রায় অসম্ভব। শুরু থেকেই গুহার আশপাশে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। ফুটবল দলটি যেখানে আটকা পড়েছে, সেখানে তেমন কোনও রাস্তা নেই বলেই দাবি তাঁদের। যদিও বা তাদের কাছাকাছি গিয়ে খোঁড়ার চেষ্টাও করা হয়, সে ক্ষেত্রেও গুহার রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাবে।

তৃতীয় রাস্তা, বন্দি ছেলেদের সাঁতার শেখানো এবং ওই পানির অংশটুকু পেরোনো। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গুহার মধ্যে ওই ধরনের সাঁতার কাটা বাঘা বাঘা সাঁতারুদের পক্ষেও কঠিন। ফলে একেবারে সাঁতার না জানা খুদেদের পক্ষে তা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

চতুর্থ পরিকল্পনা, যেটি বন্দি ছেলেদের জন্য তুলনামূলক ভাবে সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে, তা হল গোটা দলকে অক্সিজেন মুখোশ, শ্বাসপ্রশ্বাসের উপকরণ এবং হাইপোথার্মিয়া রুখতে বিশেষ পানিরোধী জ্যাকেট পরিয়ে বের করে আনা। তবে গুহার ভিতরের একেকটি অংশ এতটাই সংকীর্ণ যে সেই পদ্ধতিতেও বিপদ রয়েছে। ঝুঁকি রুখতে প্রত্যেককে এক এক করে বের করে আনতে হবে। যাতে এক জনের জন্য গোটা দল বিপদে না পড়ে।

ইতিমধ্যেই ১২ জন খুদে ও তাদের কোচের জন্য মোট ১৩টি সাঁতার কাটার উপকরণের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী থেকে শুরু করে বন্দিদের পরিজন—গোটা বিশ্বের এই মুহূর্তে একটাই চাওয়া, আবহাওয়া একটু প্রসন্ন থাকুক। বৃষ্টি যেন না হয়!

কবে হবে ঘরে ফেরা?

উত্তরটা সত্যিই কঠিন। সেদেশের সেনাবাহিনী বলেছে, উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসতে কয়েক মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। চিয়াং রাই প্রদেশের ওই পাহাড়ি গুহার ভেতর এমনভাবে জল ঢুকে পড়েছে যে তাদের সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার পথটি পুরোপুরি ডুবে গিয়েছে। ১৩ জনের ফুটবল দলটি সেই গুহার মধ্যে একটি কার্নিশের মতো শুকনো খাঁজে বসে আছে।

দলটি এমন জায়গায় আটকা পড়ে আছে যে গুহার বাইরে আসতে হলে তাদের ডুবুরির মতো জলের নিচ দিয়ে সাঁতার কাটা শিখতে হবে, অথবা কয়েক মাস গুহার মধ্যেই অপেক্ষা করতে হবে, যতদিন জল না নামে। চার মাস ধরে হয়ত বাইরে থেকে খাবার পাঠিয়ে যেতে হবে। এমনটাই আশঙ্কা সেনাবাহিনীর। কারণ, ক্রমাগত বাড়ছে জল।

নিখোঁজের আগে ও পরে

গত ২৩ জুন ‘ওয়াইল্ড বোর’-এর ১২ জন খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচ থাম লুয়াং ন্যাং নন গুহায় ঢুকে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রায় দশ দিন গুহায় আটকে থাকার পর গত ৩ জুন তাদের খোঁজ মেলে। ওই দিন সকালে গুহার মধ্যে ঢুকতে সক্ষম হয় ব্রিটিশ কেভ ডাইভারের একটি দল। সেই দলটিই নিখোঁজ ১৩ জনকে খুঁজে বার করে। ওই দলেরই এক সদস্য জানান, আটকে পড়া কিশোরদের প্রত্যেকেরই বয়স ১১ থেকে ১৬-এর মধ্যে। ওই দলে তাদের কোচও ছিলেন। তিনিই একমাত্র বড়। ২৫ বছর বয়স তাঁর। গুহার ভিতর ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর তার মধ্যেই একটি বড় পাথরের উপর গুটিসুটি মেরে বসেছিল ওই ১৩ জন। প্রত্যেকেরই গায়ে লাল জার্সি। মুখে টর্চের আলো পড়তেই চোখ ঝলসে ওঠে তাদের। ক্ষীণ কণ্ঠে উদ্ধারকারীর কাছ থেকে খাবার চাইছিল কেউ।

খোঁজ পাওয়ার পর তাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর সাত ডুবুরিকে গুহার ভিতরে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক জন চিকিৎসক ও নার্স। কিশোর দলের ছোটখাটো আঘাত-ক্ষতগুলির চিকিৎসা শুরু করেছেন তারা। পাশাপাশি তাদের অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ানোও শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে শক্তিবর্ধক জেল প্যাক ও হালকা খাবার ও পরে ভাত, গ্রিলড পর্ক ও দুধ দেওয়া হয়েছে।

দলটিকে সাহস দেওয়ার জন্য রক ব্যান্ডের এক গায়ককেও গুহার ভিতরে পাঠানো হয়েছে। দেওয়া হয়েছে বিশেষ কম্বল। গুহার ভিতরে টেলিফোন লাইন পৌঁছনোর চেষ্টাও করা হয়েছিল। যাতে পরিজনদের সঙ্গে বাচ্চাদের কথা বলানো যায়। সে চেষ্টা সফল হয়নি। তবে তাঁদের নতুন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। খুদেরা সেখানে জানিয়েছে, ‘ঠিক আছি।’

ইতিমধ্যেই স্কুবা ডাইভ শেখানোর এক বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষককে ভিতরে পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়েছে, একসঙ্গে সকলকে বার করা সম্ভব নয়। শক্তি, সামর্থ্য এবং শেখার ক্ষমতা অনুসারে এক এক করে তাদের বাইরে আনা হবে।

গত কালই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। তার উপরে পাম্প করে জল বের করে দেওয়ার জন্য এলাকার প্রায় ২০০টি পরিবারের ধানজমি প্লাবিত হয়েছে। তবু সে সবের পরোয়া করেই গুহার বাইরে প্রার্থনায় বসেছেন অসংখ্য তাইল্যান্ডবাসী। টুইটার উপচে পড়েছে প্রার্থনায়— ‘শক্ত থাকো: ১৩টি আশা’।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?