সোমবার, ২৬ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯, ০৯:৩০:০০

ভারতের নির্বাচন: তারকাদের কাছেই তারকাদের পরাজয়

ভারতের নির্বাচন: তারকাদের কাছেই তারকাদের পরাজয়

ভারত ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পালে নতুন করে হাওয়া লাগলো। লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমে আরও ৫ বছরের জন্য নবায়ন হলো এ ধারা। আর সেই হাওয়ার সঙ্গে টক্কর লড়তে না পেয়ে বহু হেভিওয়েট ও তারকা প্রার্থী মুখ থুবড়ে পড়েছেন। এমনকি নিজের এলাকাতেই সুপার ফ্লপ খোদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও।

মোদীর ক্যারিশমায় সালমান খুরশিদ কিংবা শীলা দীক্ষিতের মতো জনপ্রিয় প্রার্থীরাও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের আধিপত্য হারিয়েছে অনেক আঞ্চলিক দলগুলোও।

বিপরীতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের আওয়াজ তুলে বিজেপির প্রায় সকল প্রার্থীই ভোটের মাঠে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, মানেকা গান্ধী, হেমা মালিনী কিংবা স্মৃতি ইরানি—এবার কাউকেই পরাজয়ের তিক্ততা স্বীকার করতে হয়নি।

ভারতের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৮০টি আসন বিশিষ্ট উত্তরখণ্ডকে বাড়তি গুরুত্ব দেন বিভিন্ন দলগুলো। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের মতো হেভিওয়েটদের লড়াই হয়।

উত্তরখণ্ডের বারানসিতে মোদী প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রায় কোনও লড়াই-ই করতে পারেননি। যদিও রাইবেরিলি আসনে বিজেপি প্রার্থী দীনেশ প্রতাপ সিংকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন সোনিয়া গান্ধী।

এবার রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্ব আসনে কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী শীলা দীক্ষিতের ভরাডুবি হয়েছে। তবে বিতর্কিত ও উত্তেজিত এলাকা কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে জয় পেয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা (জেকেএনসি) ফারুক আব্দুল্লাহ। কিন্তু  জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ আসনে জয় পাননি পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

ভোটে কেরালার তিরুবনন্ত পুরম আসনে কংগ্রেস প্রার্থী শশী থারুর বিজয়ী হলেও নয়াদিল্লিতে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী অজয় মাকেন হেরে গেছেন। যদিও পূর্ব দিল্লি আসনে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী ও সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। গুজরাটের গান্ধীনগর আসনে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন।

এদিকে বহু বছর নিজেদের দখলে থাকলেও ‘বাপ-দাদার’ আসন হিসেবে পরিচিত আমেঠিতে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবার পরাজিত হয়েছেন। জয়ী হয়েছেন বিজেপির স্মৃতি ইরানি। অপর দিকে আজমগড়ে বিজয়ী হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রেসিডেন্ট অখিলেশ যাদব। মনপুরী আসন থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব।

একই প্রদেশের মাথুরা থেকে বিজেপি প্রার্থী ও বলিউডের ড্রিম গার্ল হেমা মালিনী জয় পেয়েছেন। ফতেহপুর সিকরি আসনে কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেতা রাজ বাবর হেরে গেছেন। লক্ষ্মৌতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঠিকই জয় তুলে নিয়েছেন।

এবার উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরে মানেকা গান্ধী ও পিলভিত আসনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন তার পুত্র বরুণ গান্ধী। ভোটে মা-ছেলে দুজনই বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু রামপুরে বিজেপি প্রার্থী জয়াপ্রদা নাহাতা হেরে গেছেন।

ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এবার ডায়মন্ড হারবার আসনে তৃণমূল প্রার্থী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি বিজয়ী হয়েছেন। আসানসোলে তৃণমূলের আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী মুনমুন সেন বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র কাছে পরাজিত হয়েছেন।

এবার মহারাষ্ট্রের নাগপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী নীতিন গড়করি, পাঞ্জাবের গুরদাসপুরে বিজেপি প্রার্থী চলচ্চিত্র অভিনেতা সানি দেওল বিজয়ী হয়েছেন। আর হেভিওয়েটদের মধ্যে মধ্যপ্রদেশের ভূপাল আসনে কংগ্রেসের দিগ্বিজয়া সিং ও মুম্বাই উত্তর আসনে কংগ্রেসের আরেক প্রার্থী ও অভিনেত্রী উর্মিলা মাতন্ডকার পরাজিত হয়েছেন। তবে চণ্ডিগড়ে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও অভিনেত্রী কিরণ খের বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?