বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৭, ০১:২৬:৫১

লেবাননের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক অবরোধ দিতে চায় সৌদি

লেবাননের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক অবরোধ দিতে চায় সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাতারের ওপর যেভাবে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, সেভাবে লেবাননের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে চাইছে সৌদি আরব।

 

লেবাননের রাজনীতিক ও ব্যাংকাররা এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, তাদের কথা অনুযায়ী না চললে সৌদি আরব তার অনুসারীদের নিয়ে হয়তো সে পথেই হাঁটবে। যদি তা হয়, তাহলে লেবাননের অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

বিশ্বে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী কাতার। দেশটিতে জনসংখ্যা মাত্রা ৩ লাখের মতো। সৌদি আরবের নেতৃত্বে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ চাপিয়ে দিলেও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে তারা ধকল সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে। কিন্তু লেবাননের না আছে প্রাকৃতি সম্পদ, না আছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এ অবস্থায় সৌদি আরবের সম্ভাব্য অবরোধ নিয়ে দেশটির লোকজন আতঙ্কে আছে।

 

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে লেবাননের প্রায় ৪ লাখ লোক কাজ করে। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার (রেমিট্যান্স) ওপর দেশটির অর্থনীতি বেশ খানিকটা নির্ভরশীল। প্রবাসী লেবানিজরা বছরে প্রায় ৭০০-৮০০ কোটি ডলার পাঠায়। ঋণগ্রস্ত লেবানন সরকার ও তাদের আর্থিক ব্যবস্থাকে চাঙ্গা রাখে এই অর্থ।

 

একজন জ্যেষ্ঠ লেবানিজ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘লেবাননের অর্থনীতি এমনিতেই মারাত্মক হুমকির মুখে আছে, যা এরই মধ্যে চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। এখন তারা যদি রেমিট্যান্স স্থানান্তর বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে।’

 

সৌদি আরবে গিয়ে ৪ নভেম্বর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। লেবাননের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের দাবি, সৌদি আরব তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। সাদ হারিরি সৌদি আরবের পক্ষে কথা বলছেন।

 

প্রায় ৮ দিন চুপচাপ থাকার পর রবিবার লেবাননের একটি টেলিভিশনে কথা বলেন সাদ হারিরি। তাকে সৌদি আরবে আটকে রাখার যে অভিযো উঠেছিল, তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। সাদ হারিরি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, আরব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে লেবানন। যদি তাই হয়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবাসী লেবানিজরা জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম সংকটে পড়বে।

 

সৌদি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাল লেবানন

 

লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবরান বাসিল বলেছেন, তার দেশের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া বা পদচ্যুত করার অধিকার বাইরের কারো নেই।

 

রাজধানী বৈরুতে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, লেবাননের সরকারে কে থাকবে আর কে থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র অধিকার দেশের জনগণের; অন্য কারো নয়।

 

বিশ্বের অনেক দেশ কোনো কিছু গঠন করার চেয়ে ধ্বংস করার কাজে বেশি মনযোগী বলে অভিযোগ করেন বাসিন। লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, অন্য দেশের সরকারের পতন ঘটিয়ে এসব দেশ গর্ববোধ করে।

 

লেবাননের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার জন্য তার দেশকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। কাজেই এত সহজে একজন প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।

 

সৌদি আরব সফরে গিয়ে সাদ হারিরি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার কয়েক দিন পর এ প্রতিক্রিয়া জানালেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাদ হারিরি গত শনিবার রিয়াদে বসে এক লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান যাতে তার নিজের পদত্যাগের কথা লেখা ছিল।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ’র ক্ষতি করার জন্য সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে সৌদি আরব। তারা বলছেন, সাদ হারিরি এক মাসেরও কম সময় আগে হিজবুল্লাহর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কাজেই তিনি যাতে সে কাজ করতে না পারেন সেজন্য রিয়াদ এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

এদিকে লেবানন সরকার মনে করছে, দেশটির পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরবে আটকে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেবাননের একজন পদস্থ কর্মকর্তা ওই আশঙ্কা প্রকাশ করে সাদ হারিরিকে লেবাননে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?