মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৪ মার্চ, ২০১৮, ১০:৩৪:১৩

গরমে সানস্ট্রোক ঠেকাবে আখের রস

গরমে সানস্ট্রোক ঠেকাবে আখের রস

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ি এ বছর গরমটা একটু বেশিই পড়বে। এমনটাই যদি হয় তাহলে গরমে শরীর সুস্থ রাখতে নানান ধরণের পানীয়র কদরটাও বেড়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে আখের রস। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রাকৃতিক পানীয়টিতে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে সানস্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও শরীরের গঠনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। চলুন দেখে নেয়া যাক আখের রসের আরো উপকারিতা-

১. ত্বকের বয়স কমায়: শরীরের বয়স বাড়লে ত্বকের বয়স তো বাড়বে। কিন্তু এমনটা আপনার সঙ্গে নাও হতে পারে। একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত আখের রস খেলে দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্লেবোনয়েডের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। এই দুটি উপাদান ত্বক এবং শরীরের টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের বয়স বাড়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

২. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়: হাই কোলেস্টেরলের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে আজ থেকেই আখের রস খাওয়া শুরু করুন। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা বেশ কিছু উপাদান খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সাহায্য করে।

৩. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়: প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকার কারণে নিয়মিত আখের রস খেলে হাড় শক্ত তো হয়ই, সেই সঙ্গে দাঁতও ভালো থাকে। ক্যাভিটি এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়।

৪. কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা দূর করে: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে আখের রসে উপস্থিত ল্যাক্সেটিভ প্রপাটিজ বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমতে সময়ই লাগে না। সেই সঙ্গে আখে থাকা অ্যালকেলাইন প্রপাটিজ গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: আখের শরীরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবার বুঝেছেন তো আখের রস খাওয়াটা কতটা জরুরি।

৬. মুখের দুর্গন্ধ দূর করে: আখের রসের অন্দরে থাকা ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলেও অনেক সময় মুখ থেকে বাজে গন্ধ বেরতে শুরু করে। এক্ষেত্রেও আখের রস বিশেষ ভূমিকা নেয়। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ এবং মিনারেল, যা দেহের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৭. কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ায়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আখের রসে থাকা উপকারি উপাদান ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন সারাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে কিডনি স্টোনের মতো সমস্যা দূর করতেও সাহায্য় করে। প্রসঙ্গত, কিডনি ফাংশনকে ঠিক রাখতেও আখের রসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৮. ব্রণর প্রকোপ কমায়: আখের রসে থাকা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড স্কিন সেলের উৎপাদন বাড়ায়ে ব্রণর প্রকাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ব্রণর দাগ কমাতেও সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো আখের রস নিয়ে মুলতানি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্ট ভাল করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ভেজা তোয়ালের সাহায্যে ভাল করে মুখটা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৯. লিভার ঠিক রাখে: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র সম্পর্কিত একাধিক বইয়ে এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে লিভারকে সুস্থ রাখতে আখের রস দারুন কাজে আসে। সেই কারণেই তো জন্ডিসের প্রকোপ কমাতে রোগীকে আখের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। শুধু তাই নয়, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতেও আখ বিশেষ ভূমিকা নেয়।

১০. এনার্জির ঘাটতি দূর করে: সারা দিন অফিস করে কি বেজায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন? তাহলে ঝটপট এক গ্লাস আখের রস খেয়ে ফেলুন। দেখবেন একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। আসলে আখে থাকা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অন্য়ান্য় উপকারি উপাদান এনার্জির ঘাটতি দূর করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মন এবং শরীর, দুইই চনমনে হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, আখের রস শরীরে প্লাজমা এবং বডি ফ্লইডের ঘাটতি মেটায়।

১১. রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে একেবারে তলার দিকে থাকার কারণে আখের রস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না। বরং এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ম করে আখের রস খাওয়া পরামর্শ দেয়া হয়। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে আখের রস খাওয়া উচিত।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?