বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৮, ০২:২৪:৪৩

স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ান

স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ান

স্বাস্থ্য ডেস্ক : স্বাস্থ্যকর খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরের অন্যতম অপরিহার্য অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক। আমরা যেসব কাজ করি, যা চিন্তা করি তা মূলত মস্তিষ্ক দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। আমরা যা খাই তা আমাদের মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে। সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে হলে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যের। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। মস্তিষ্ক সতেজ ও সচল রাখতে তাই প্রয়োজন কিছু বিশেষ ধরনের খাবার। আসুন জেনে নেই মস্তিষ্ক ভাল রাখে যে খাবারগুলো-

সাইট্রাস ফল
সাইট্রাস ফল যেমন লেবু বা কমলাজাতীয় খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। গবেষণায় বলা হয়, যেসব লোক প্রতিদিন সাইট্রাস ফল খান, তাঁদের মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ হয়। তাই এ ধরনের সাইট্রাস ফল আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

বাদাম
বাদাম মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো খাবার। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-ই, মোনোস্যাচুরেটেড চর্বি, এবং উপকারী মিনারলে থাকে। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখলে মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি সাধন করে।

চকলেট
মনযোগ বাড়াতে সাহায্য করে ডার্ক চকলেট। তাছাড়া এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের উৎস। এসব উপাদান রক্তচাপ ঠিক রাখে, শরীর চাঙ্গা রাখে।

চা ও কফি
চা ও কফি আপনাকে সজাগ থাকতে সাহায্য করা ছাড়াও আলঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের দক্ষতার উন্নতি ঘটায়। মস্তিষ্কের উপর চায়ের সুরক্ষাকারী প্রভাব দেখা যায়। গবেষণায় বলা হয়, নিয়মিত কফি পান স্মৃতিভ্রম রোধ করে। তবে এর মধ্যে ক্রিম ও চিনি যোগ না করাই ভালো হবে।

ডিম
ডিম মস্তিষ্কের কোষ ভালো করতে সাহায্য করে। ডিমের ভিটামিন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং এটা স্নায়ুকেও সুস্থ রাখে।

অপরিশোধিত শস্যজাত খাবার
এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ যাতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে। এই উপকারী উপাদান সমূহ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, ওটস ইত্যাদি মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাবার।

মিষ্টি কুমড়োর বীজ
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে জিঙ্ক বেশ জরুরি একটি খনিজ উপাদান। মিষ্টি কুমড়োর বীজে রয়েছে প্রচুর জিঙ্ক এবং আরও কিছু উপকারী খনিজ উপাদান। যা মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

গাজর
গাজর চোখের জন্য ভালো এটা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এটি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী এটা অনেকেই জানি না। গাজরে উচ্চমাত্রার লুটিওলিন থাকে, যা বয়স সংক্রান্ত স্মৃতিক্ষয় এবং মস্তিষ্কের ইনফ্লামেশন কমাতে পারে।

ব্লুবেরি
ব্লুবেরির মধ্যে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি মস্তিষ্কের চাপ কমায়। শেখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ভিটামিন সমৃদ্ধ বেরি বা জাম জাতীয় ফল আপনার ডায়েটে যুক্ত করাটা আপনার স্মৃতিশক্তির উন্নতির জন্য ভালো। তবে আমাদের দেশে এই ফল অতটা সহজলভ্য না হলেও, একটু খোঁজ করলেই পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বেগুন, কালো জাম, গাজর, লালশাক, বিট, কালো আঙুর ইত্যাদি ফল খাওয়া উপকারী। এই খাবারগুলোর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।

পালংশাক
পালংশাক মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে পালংশাক। এতে আছে বিটা ক্যারটিন, লুটেইন ও ফোলেট, যা ভুলে যাওয়ার রোগ কমায়।

আখরোট
আখরোট মূলত একটি বাদাম জাতীয় খাবার, দেখতে অনেকটা মস্তিষ্কের মত। মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা এবং তথ্য বিন্যাসের ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে এই বাদামটি।

মাছ
ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া বয়সের সাথে সাথে মস্তিষ্কের দক্ষতা কমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে। গবেষণা মতে আলঝেইমার্স রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে ভিটামিন বি ১২ যা মাছে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।
প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানিতে শরীরের কোষ সজীব থাকে। ফলে কর্মক্ষম থাকে মন ও শরীর। তা না হলে ব্রেইন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। উপরে উল্লেখিত খাবার গুলি মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?