বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ০৮:৪৮:২৪

রোগ প্রতিরোধে শীতকালীন সবজি

রোগ প্রতিরোধে শীতকালীন সবজি

স্বাস্থ্য ডেস্ক : এখন শীতের সবজিতে বাজার সয়লাব। টাটকা সবজি এখন নিত্যদিনের খাবার। আর এই শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে কিছু সবজি শুধু দেহের পুষ্টিচাহিদা পূরণ করে না, কিছু রোগের পথ্যেরও কাজ করে। চলুন দেখে নিই সেইসব সবজিগুলো-

বাঁধাকপি :
এই সময়ের টাটকা সবজি। শীতের এই সবজিটি বেশ উচ্চপুষ্টিমানসম্পন্ন। খেতেও সুস্বাদু। খুব সহজেই তা রান্না করা যায়। পরিপাক হতেও সময় লাগে না। বাঁধাকপিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। ‘ই’ও আছে প্রচুর পরিমাণে। এছাড়া আছে সালফারের মতো খনিজ উপাদান। প্রতি ৩ দশমিক ৫ আউন্স বাঁধাকপিতে থাকে ২৪ ক্যালোরি পুষ্টি। এক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, লেবুর জুস থেকে কাঁচা বাঁধাকপিতে ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। কাঁচা বাঁধাকপি পাকস্থলীর বর্জ্য পরিষ্কার করে। এছাড়া রান্না করা বাঁধাকপি খাদ্যদ্রব্য হজমে বেশ সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই সবজি দারুণ কার্যকর। বাঁধাকপি ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে এই শীতকালীন সবজি বেশ ভূমিকা রাখে। বাঁধাকপি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাঁধাকপি মানবদেহের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, আলসার নিরাময় এবং দেহের রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি সাধন করে। তাই এই শীতে অন্যান্য সবজির সঙ্গে বাঁধাকপি খেতে পারেন নিয়মিত।new_truss_tomatoes

টমেটো :
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিতে আছে লাইকোপেন নামের এমন এক উপাদান, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। মানুষের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই লাইকোপেন প্রোস্টেট, স্তন, ফুসফুস, প্যানক্রিয়াস এবং ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া টমেটোর এই লাইকোপেন চোখের রোগেরও উপশম করে। তাছাড়া টমেটোতে অন্যান্য ভিটামিনের সঙ্গে আছে প্রচুর পরিমাণ রিবোফ্লোবিন, যা ঘন ঘন মাথাব্যথা রোগের ওষুধের কাজ করে। এছাড়া ওজন কমানো, জন্ডিস, বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়ারিয়া ও রাতকানা রোগে টমেটো হতে পারে সবচেয়ে ভালো পথ্য।

ঢেঁড়শ :
এ সবজিটি আঁশে পরিপূর্ণ। একদিকে এই সবজিতে যেমন আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, অন্যদিকে কম মাত্রার ক্যালোরি। এ সবজিটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। ঢেঁড়শের সহজপাচ্য আঁশ। রক্তের সেরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ঢেঁড়শে আছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এ, আয়ামিন, ফলিক এসিড, রিবোফ্লোবিন ও জিংক। মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢেঁড়শ ভালো কাজ করে। এছাড়া মেদভুঁড়ি কমাতে চাইলে ঢেঁড়শ খান নিয়ম করে।Ladies-finger-health-benefits

গাজর :
ভারি সুন্দর ও হলুদ সবজিটি এখন বাজার ঘুরলেই চোখে পড়ে। পুষ্টিগুণ বিচারেও সবজিটি অনন্য। এছাড়া গাজরে বিটা ক্যারোটিন নামের এমন এক উপাদান আছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গাজর শরীরের উল্লেখযোগ্য যেসব কাজে লাগে, তার মধ্যে এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, শ্বাসতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে, দাঁত, হাড় ও চুল শক্ত করে, আলসার প্রতিরোধ ও চিকিত্সায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায় এই গাজর।morkov

মুলা :
প্রাচীনকালে মুলা শুধু সবজি হিসেবেই খাওয়া হতো না, ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। মুলায় আছে উচ্চমাত্রার কপার ম্যাঙ্গানিজ ও পটাসিয়াম। এছাড়া মুলা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিংক, সোডিয়ামেরও ভালো উত্স। মুলা হজমে সাহায্য করে। রক্ত বিশুদ্ধকরণ, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতেও মুলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।white-radish

তিল :
তিলের বীজ, তিলের নাড়ু, খাজা-গজায়ও তিল। সুস্বাদু অনেক খাবারে মসলা হিসেবেও তিল প্রচলিত। মধ্যপ্রাচ্যে তিলের বীজের মাখন ছড়িয়ে দেয়া হয় রুটির ওপর। হালভা ক্যান্ডিতে তিল প্রধান উপকরণ। তিলবীজে রয়েছে হৃদসুখকর পলিআন স্যাচুরেটেড তেল (৫৫%), উচ্চমাত্রায় প্রোটিন (২০%) এবং অন্যান্য ভিটামিন এ ও ই, বি। খনিজ দ্রব্য প্রচুর আছে তিলবীজে। আছে ক্যালসিয়াম, তামা, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, দস্তা ও পটাসিয়াম। এতে আছে মিথিওনিন ও ট্রিপটিফ্যান।0,,18037307_303,00

ধনেপাতা :
ধনেপাতা আমাদের দেশে ভীষণ পরিচিত। ধনেপাতা শুধু রান্নার উপকরণ নয়, এর রয়েছে নানাবিধ ঔষধি গুণ। তাই এই পাতাকে বলা হয় হার্বাল প্যান্ট বা ঔষধি পাতা। ধনেপাতার ইংরেজি নাম হলো মিলানট্রো। ভিটামিন ‘সি’ আছে ধনেপাতায়, রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ফলিক এসিড (গুরুত্বপূর্ণ এক ধরনের ভিটামিন, যা ত্বকের উপকারের জন্য যথেষ্ট প্রয়োজনীয়)। এই ভিটামিনগুলো প্রতিদিনের পুষ্টি জোগায়, ত্বক, চুলের ক্ষয়রোধ করে, মুখের ভেতরের নরম অংশগুলোকে রক্ষা করে। মুখ গহ্বরের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ধনেপাতার ভিটামিন ‘এ’ চোখের পুষ্টি জোগায়, রাতকানা রোগ দূর করতে ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরলমুক্ত ধনেপাতা দেহের চর্বির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ধনেপাতা দেঞের খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে দেয়। আর শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএল মাত্রা বৃদ্ধি করে, এলডিএলকে কমিয়ে দেয়। ধনেপাতায় উপস্থিত আয়রন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখতেও অবদান রাখে। এছাড়া ভিটামিন ‘কে’তে ভরপুর ধনেপাতা হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে শরীরকে করে শক্ত-সামর্থ্য। অ্যালঝেইমারস নামে এক ধরনের মস্তিষ্কের রোগ রয়েছে, যা নিরাময়ে ধনেপাতা রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ধনেপাতা শীতকালীন ঠোঁট ফাটা, ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া, জ্বর জ্বর ভাব দূর করতে রাখে যথেষ্ট।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?