রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৪:৩৮:৩৪

দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে কয়েকটি উপায়

দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে কয়েকটি উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বর্তমানে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া খুব প্রচলিত একটি সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। বিশ্বে দৃষ্টিশক্তি হারানোর গড় প্রতি মিনিটে ১ জন সেখানে বাংলাদেশে ৪ জন। বয়স বেড়ে যাওয়া, অপুষ্টি, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আমাদের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং অন্ধত্ব দূর করতে সচেতন হওয়া জরুরি। শহর থেকে গ্রামে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রানত্ম শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের দেশে বছরে লক্ষাধিক শিশু ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত সমস্যায় অন্ধ হয়ে যায়।তবে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নিই দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এমন সাতটি খাবারের কথা-

১. গাজর খান : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়েল এয়ার ফোর্স-এর জন কানিংহাম নামের একজন দক্ষ জঙ্গী পাইলটের একটি গল্প ছড়িয়েছিল যিনি রাতের অন্ধকারে জঙ্গি বিমান চালিয়ে শত্রুদের ঘায়েল করতেন। তিনি নাকি গাজর খেতেন তাই তার এই প্রখর দৃষ্টিশক্তি তৈরি হয়। তাকে সবাই ‘বিড়াল চোখ’ নামে ডাকতেন। এটি যদিও এটি পুরনো গল্প, বাস্তবিক পক্ষে চিকিৎসকরা জানান গাজরে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী উপাদান রয়েছে। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন এ আপনার দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

২. মিষ্টি কুমড়া খান : পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে গাঢ় সবুজ শাক, কমলা হলুদ রঙের সবজি ও ফলে প্রচুর ক্যারোটিন থাকে। খাওয়ার পর ক্যারোটিন ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপানন্তরিত হয়। মিষ্টি কুমড়া হলুদ কমলা রঙের তাই একে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ সবজি হিসেবে ধরা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ায় ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ রয়েছে ৭২০০ মাইক্রোগ্রাম। ভিটামিন এ চোখ সুস্থ রাখে। ফলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে। এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়, রাতের বেলায় অল্প আলোতে দেখতে পায় না। ১০ বছরের নিচের শিশুরাই ভিটামিন এ-এর অভাবে বেশি ভোগে। শিশুদের অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া অত্যন্ত উপকারী সবজি। গর্ভবতী মহিলাদের দেহে ভিটামিন-এ এর অভাব হলে গর্ভস্থ শিশু দুর্বল ও ক্ষীণ স্বাস্থ্যের

৩. ভিটামিন এ, সি, ই ও জিংক খান : যদি গাজর, অন্যান্য ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে না চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এসব ভিটামিন সমৃদ্ধ ক্যাপসুল খেতে হবে। এসব ভিটামিন আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেবেনা তবে আরও খারাপ হওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ভিটামিন এ, ই , সি ও জিংক চোখের দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখার জন্য খুবি কার্যকরী।

৪. আপনার কম্পিউটার মনিটরের আলোর পরিমাণ সঠিক রাখুন: এখন প্রযুক্তির যুগ। বাংলাদেশের প্রায় সব যায়গায় কম্পিউটার ব্যাবহার হচ্ছে। হয়ত আপনাকে কাজের তাগিতে ঘন্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করে যেতে হচ্ছে এর ফলে একটানা কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব পড়ছে। এ প্রভাব এড়াতে আপনি আপনার কম্পিউটারের মনিটরটির আলো সহনীয় পর্যায়ে রাখুন। আপনি যদি আপনার কম্পিউটারের আলো বাড়াতে বা কমাতে বিরক্তি বোধ করেন তাহলে আপনি চাইলে এর জন্য f.lux নামের ফ্রি সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এটি দিনের বেলা ও রাতের বেলা নিজে থেকে আপনার কম্পিউটার মনিটরের আলো সঠিক পরিমানে রাখবে। এর ফলে চোখের উপর প্রভাব টা কমবে এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে চোখে যে জ্বালা পোড়া করে তাও কমে যাবে।

৫. আপনার চোখের ব্যায়াম করুন: আপনার চোখের পেশী সমূহের ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার চোখের আভ্যন্তরীণ রক্তসংবহন বৃদ্ধি পাবে ফলে চোখ ভাল থাকবে। তবে ব্যায়ামের ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হবেনা এটা কেবল চোখকে ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। Livestrong.com এ চমৎকার কিছু চখের ব্যায়াম দেয়া আছে সেখান থেকে দেখে ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

৬. UV রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন সানগ্লাস ব্যাবহার করুন: প্রখর সূর্যালোক এবং এর সাথে থাকা আল্ট্রা ভায়লেট রশ্মি আপনার চোখের খুব ক্ষতি সাধন করতে পারে। এ রশ্মি চোখের টিস্যু ড্যামেজ করা সহ কর্নিয়ার অনেক ক্ষতি সাধন করে। এ কারনে যখনই রোদে বের হবেন তখন চোখে সানগ্লাস লাগান।

৭. সঠিক পরিমাণ আলোতে কাজ করুণ: আপনি যদি স্বল্প আলোতে কোন কাজ বা পড়ালেখা করেন তাহলে আপনার চোখের পরিশ্রম অনেক হয়। যার ফলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। অন্যদিকে অতিরিক্ত আলোতে কাজ করাও চোখের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আলোর এসব কমবেশির ফলে যে চাপের সৃষ্টি হয় এ চপ কমাতে সব সময় চেষ্টা করবেন পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করতে।

মনে রাখবেন আপনিই কেবল আপনার দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে পারেন। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?