শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২০, ১২:১৪:০১

শরীরে রক্ত চলাচল বাড়াতে

শরীরে রক্ত চলাচল বাড়াতে

স্বাস্থ্য ডেস্ক : শরীরে রক্ত চলাচল ব্যাহত করতে পারে ধুমপান। এছাড়া শারীরিকভাবে অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন, ফাস্টফুড খাওয়া, উচ্চ/নিম্ন রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলও রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। হৃৎপিণ্ড এবং শিরা-উপশিরাগুলোই রক্তকে দেহে চলাচলের জন্য সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করে।

ধমনী হৃদপিণ্ড থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত নিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। তাই রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আসুন জেনে নিই শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ানোর ১৪টি উপায়।

১. মদপান ত্যাগ করুন
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানে হৃৎপিণ্ডে সমস্যা হয়। সুতরাং আজই মদপান ত্যাগ করুন। অত্যধিক মদ্যপান করলে পাঁচ সাত বছরের মধ্যে লিভার সিরোসিস হতে বাধ্য। প্রথমে লিভার ফুলে যায়, তারপরই ক্রনিকরূপ ধারণ করে। এরপর হেপাটাইটিস আর অন্তিম পর্যায়ে সিরোসিস। লিভার সিরোসিস হলে ৪০ শতাংশ রোগী ৭ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন। অন্যথায় ৬০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু ঘটে।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানিই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে ভালো ওষুধ। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করলে মাথার যন্ত্রণা, অম্বল, শরীরের ব্যথা এবং ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।দেহকে সচল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে হবে। পানি আমাদের দেহ থেকে ট্রক্সিন বা বিষ বের করে দিতে সহায়ক। আর দেহকে যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়িয়ে রক্তচলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

৩. বাদাম খান
প্রতিদিন বাড়তি টাকা খরচ করে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস না খেয়ে বাদাম খান নিশ্চিন্তে। কাজুবাদাম এবং আখরোট খেলে রক্ত চলাচল বেগবান হয়। ভিটামিন এ, বি, সি ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম এবং ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ বাদাম খেতে হবে। বাদাম ধমনীতে প্রদাহ এবং পঁচনজনিত ক্ষয়রোধ করে রক্ত চলাচল বাড়ায়।

৪. গ্রিন টি
দুধ চা না খেয়ে বরং গ্রিন টি খান, যা আরো বেশি স্বাস্থ্যকর এবং দেহের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করে। ৪ হাজার বছর পূর্বে চীনে মাথা ব্যথার ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে সারা বিশ্বে এর ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। গ্রিন টি রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে প্রশস্ত করে যার ফলে রক্ত প্রবাহের গতিও বাড়ে।

৫. স্নায়ু উত্তেজক উপাদান এড়িয়ে চলুন
ক্যাফেইন এর মতো স্নায়ু উত্তেজক উপাদান এড়িয়ে চলুন। তাহলে কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আপনার দেহের সব অংশে রক্তচলাচল করতে পারবে। ক্যাফেইন শরীরকে শুষ্ক করে তোলে। কিন্তু রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি। ক্যাফেইনের বহুল পরিচিত উৎস হচ্ছে কফি।

৬. লবণ খাওয়া কমান
অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে এবং স্ফীতি দেখা দেয়। যার ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এজন্য ক্যানজাত খাবারের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্রিজে জমাট খাবার, কেচাপ সস বাদ দিতে হবে। কেননা এসবে উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম থাকে।

৭. রসুন, আদা, পেঁয়াজ
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রসুন, আদা এবং পেঁয়াজের পরিমাণ আরেকটু বাড়ান। এসব আপনার রক্ত চলাচল প্র্রক্রিয়ার স্বাস্থ্য উন্নত করবে। এছাড়া এসবে আছে প্রদাহরোধী এবং জীবাণুরোধী উপাদান যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এছাড়া রোগ-জীবাণুর সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কাজ করে এবং দেহকে বিষমুক্ত করে এসব উপাদান।

৮. ভেষজ খাওয়া বাড়ান
যে কোনো রোগের চিকিৎসায় ভেষজ অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর। ভেষজ পরিবারেরই সদস্য জিনসেং মূলসমুহ যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়।

৯. ডার্ক চকোলেট
৭০-৮৫ ভাগ কোকোয়াসমৃদ্ধ চকলেটকেই বলে ডার্ক চকলেট। এতে আছে আঁশ, লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাংগানিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম। দিনে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট খেলেও ৫০ ভাগ পর্যন্ত হৃদ্রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়। এতে আছে কোকোয়া যাতে আছে ফ্ল্যাভোনয়েড। যা রক্ত প্রবাহ উন্নত করে।

১০. গোলমরিচ
গোলমরিচে রয়েছে পিপেরিন নামক একটি বিশেষ উপাদান। এর পাশাপাশি এই মশলাটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং অন্যান্য খনিজ। গোলমরিচ বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করে। এবং ধমনি ও রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে শক্তিশালী করে।

১১. সূর্যমুখি বীজ
আমরা শিমের বীজ, কুমড়ার বীজ, লাউ এর বীজ সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি কিন্তু সূর্যমুখীর বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে। যা রক্তে জমাটবদ্ধতা প্রতিরোধ করে। এছাড়া জলপাই, বাদাম এবং তরমুজ বীজও উপকারী।

১২. সাইট্রাস ফল
ফল খেতে খুব ভালোবাসেন? এ অভ্যাস কিন্তু কখনও ছাড়বেন না। শুধু তাই নয়, যত পারবেন কমলা লেবুর মতো সাইট্রাস ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলে দেখবেন শরীর কেমন তাড়াতাড়ি উন্নতি করতে শুরু করে। সাইট্রাস জাতীয় ফলের অনেক গুণ রয়েছে। কমলা, লেবু এবং জাম্বুরারে আছে ভিটামিন সি এবং সুগার ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক। ফলে রক্ত চলাচল বাড়ে।

১৩. তরমুজ
তরমুজ কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, শরীর–স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এতে চর্বি নেই। প্রচুর ভিটামিন এ, বি৬, সি, পটাশিয়াম, লাইকোপেন ও সিট্রুলিনের মতো উপাদান থাকে। এর লাইকোপেন একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তচলাল উন্নত করে। টমেটো, অ্যাপ্রিকট এবং গোলাপি মোসাম্বি লেবুও রক্ত চলাচল অবাধ করে।

১৪. অ্যাভোকাডো
ফলটি আমাদের দেশীয় না হলেও আজকাল সুপারশপগুলোতে পাওয়া যায় ফলটি। প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যকর উপাদানসমৃদ্ধ ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে অ্যাভোকাডো। এতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা হৃদযন্ত্রকে সচল রাখে এবং রক্ত প্রবাহের গতি বাড়ায়। এছাড়া কাঁচা চীয়া বীজ এবং শ্বেতবীজেও একই উপকারীতা আছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?