রবিবার, ০৭ জুন ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২০, ১১:৪৫:৪৭

কভিড-১৯ এর লক্ষণ অন্যান্য ফ্লুর চেয়ে যেখানে আলাদা

কভিড-১৯ এর লক্ষণ অন্যান্য ফ্লুর চেয়ে যেখানে আলাদা

জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টকে প্রাথমিকভাবে কভিড-১৯ এর লক্ষণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে অন্যান্য ফ্লু ও ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেকে আবার না বুঝেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশেও অনেক হাসপাতাল থেকে হাঁপানির রোগী ফিরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছ্নে, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণ উপসর্গের তালিকা বেশ ছোট। তবে প্রধান তিনটি লক্ষণ- জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অন্য ফ্লুর চেয়ে একটু ভিন্ন ধাঁচের। ভাইরাস সংক্রমণের ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম শ্যাফনার বলেন, সঠিক লক্ষণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বর

জ্বর কভিড-১৯ এর একটি প্রধান লক্ষণ। তবে জ্বর নিয়ে আমাদের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। মানুষের শরীরের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এর থেকে এক আধ ডিগ্রি বেড়ে যাওয়া মানেই জ্বর নয়। বয়স্ক ও শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত না ওঠা পর্যন্ত তাকে জ্বর বলা যাবে না। আর দিনের যে কোনো সময় জ্বর মাপার জন্য উপযুক্তও নয়। কেননা সব সময় আমাদের শরীরের তাপমাত্রা সমান থাকে না।

পিটসবার্গের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টার চিলড্রেনস হসপিটালের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশাস ডিজিস বিভাগের প্রধান ডা. জন উইলিয়ামস বলেন, সকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। জ্বরের সঠিক তাপমাত্রা পেতে হলে শেষ বিকালে বা সন্ধ্যার আগে মাপতে হবে।

ড. শ্যাফার বলেন, সারা দিন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা সমান থাকে না। সকাল ৮টায় তাপমাত্রা মাপলে স্বাভাবিক মাত্রা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সাধারণত শেষ বিকাল বা সন্ধ্যার আগে জ্বর বেড়ে যায়। আর ভাইরাস সংক্রমণজনিত জ্বরের ধরন এরকমই হয়।

কাশি

কাশি হলেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মনে করার কোনো কারণ নেই। যদিও অন্যান্য ফ্লুজনিত রোগের মতো এই রোগেরও অন্যতম লক্ষণ কাশি। করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত কাশির বিষয়ে ড. শ্যাফনার বলেন, এটি শুধুই গলায় খুসখুসানি নয়, বা কেশে গলা পরিষ্কার করার মতোও নয়। এ কাশিতে গলায় শুধু জ্বালাপোড়াই করবে এমন নয়। যতোই কাশি হোক না কেন গলা থেকে কিছুই বের হবে না। এ কাশি বিরক্তিকর। এ কাশি উঠে আসবে বক্ষঅস্থির সন্ধিস্থল থেকে। আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারবেন তার শ্বাসনালীতে (ব্রঙ্কিয়াল টিউব) প্রদাহ হয়েছে অথবা জ্বালাপোড়া করছে।

শ্বাসকষ্ট

কভিড-১৯- এর তৃতীয় এবং মারাত্মক লক্ষণ এটি। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন শ্বাস নেয়া। কাশি বা অন্য কোনো কারণ ছাড়াই এ সমস্যা শুরু হয়ে যেতে পারে। বুকে তীব্র চাপ ও ব্যথা অনুভূত হলে এবং গভীর থেকে আরাম করে বুক ভরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। এমন সমস্যা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডা. প্যাট্রিক হ্যারিস বলেন, আক্রান্তকে ঘন ঘন শ্বাস নিতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

সুতরাং শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে জরুরিভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারের হটলাইন ৩৩৩ অথবা স্বাস্থ্য বাতায়নের হটলাইন নম্বর ১৬২৬৩-এ কল করুন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, শ্বাসকষ্ট ও ঘন ঘন শ্বাস নেয়ার সঙ্গে বুকে অনবরত ব্যথা ও চাপ অনুভব করা, অক্সিজেনের অভাবে ঠোঁট ও মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া, হঠাৎ সংশয়গ্রস্ততা অথবা শরীর ছেড়ে দেয়া (চরম ক্লান্তি) এবং ঘুম থেকে উঠতে না পারা- এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত স্থানীয়  চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে অথবা হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে।

ফ্লু ও ঠাণ্ডা লাগার লক্ষণ

কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর মধ্যে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন শ্বাস নেয়া- কেবল এ তিনটি লক্ষণই দেখা যাবে এমন কিন্তু নয়। এই ফ্লুতে আরো কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ থাকতে পারে যেমন: মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা (ব্যথা, ডায়রিয়া), শরীর ব্যথা ও অবসাদ/ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। এসব সমস্যা গুরুতর পর্যায়েও যেতে পারে। এছাড়া ঠাণ্ডা লাগা বা অ্যালার্জির মতো কিছু লক্ষণও দেখা যেতে পারে যেমন:  নাক দিয়ে পানি ঝরা, গলা ব্যথা এবং হাঁচি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড-১৯ এ সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা বা ফ্লুর মতো জ্বর ও কাশি হতে পারে। তবে বিশেষ করে ঘন ঘন শ্বাস নেয়া, এবং এক সপ্তাহেও অবস্থার উন্নতি না হওয়া অথবা আরো অবনতির দিকে গেলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ হলো, ঠাণ্ডা লাগা এবং ফ্লুর মতো লক্ষণ উপসর্গগুলো মৃদু বা মাঝারি হলে বাড়িতে বিশ্রাম নেয়াই শ্রেয়। এসময় প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে এবং প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে গর্ভবতী ও ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির জন্য এ পরামর্শ প্রযোজ্য নয়। কারণ এই ধরনের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এছাড়া ধুমপায়ী ও গর্ভবতীদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী জটিলতা বেশি দেখা যায়।

এদিকে যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাঁপানি, ক্যান্সার, স্থূলতা, রক্তাল্পতা ও কিডনির সমস্যায় ভুগছেন তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঝুঁকি বেশি থাকে।

সিএনএন অবলম্বনে

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?