সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭, ১২:৫০:৫৭

সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ বিএনপি

সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ বিএনপি

ঢাকা: আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের জন্য সারাদেশে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। এই কর্মসূচির প্রথম মাসে ব্যাপক সাড়া পেলেও চলতি মাসে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি।

এক কোটি সদস্য সংগ্রহ লক্ষ্য থাকলেও দুই মাসে ৬০ লাখ সদস্য ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূ্ল্য ১০টাকা। সেই হারে ৬ কোটি টাকা আয় হয় দলটির।

অবশ্য লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ক্ষমতাসীনদের বাধাকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যার কারণেও বিএনপির এ অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।

নতুন প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নে বিএনপির ঘোষিত দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার ( ৩১ আগস্ট)। হাতে আর মাত্র দুদিন বাকি আছে। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬০ ভাগ অর্জন হয়েছে বলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ এ কর্সমূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, হাতে আরও দুই দিন আছে। এরমধ্যে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানো হবে কি হবে না। তাছাড়া সদস্য সংগ্রহ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বেঁধে দেওয়ার সময়ের পরও সদস্য ফরম জমা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে বিএনপি প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমরা আগামীকাল (বুধবার) কার্যালয়ে বসব। তারপর বলতে পারব।’

দলের সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, ‘দুই এক দিনের মধ্যেই সদস্য সংগ্রহ অভিযান সম্পর্কে দলীয়ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি হবে না সেটাও বলে দেয়া হবে। তবে এটা তো চলমান প্রক্রিয়া। ফরম জমা দেওয়া যাবে নির্দিষ্ট সময়ের (দুই মাস ঘোষিত কর্মসূচি) পরও।’

বিএনপি নেতাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীনদের নির্দেশে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় আবার কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ধানমণ্ডি থানা ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, খাগড়াছড়ি, কুষ্টিয়া, মাদারীপুরের শিবচর ও নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, ‘এটা ঠিক শুরুতে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দলের বাধার কারণে আমরা এ কর্মসূচিটা ভালোভাবে করতে পারনি।’

‘এছাড়া ২৭ জেলায় বন্যার কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছি। অন্যান্য জায়গায় কার্যক্রম চলমান আছে। এটা সত্য বন্যা ও সরকারি বাধায় আমাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১ জুলাই রাতে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রথম মাসেই প্রায় ৩৬ লাখ ফরম বিক্রি হয় বলে জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। পুলিশ ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০, পৌরসভার ওয়ার্ডে ৩০০ এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ওই সময় বিএনপির সদস্য সংগ্রহের টার্গেট ছিল ৫০ লাখ।



আজকের প্রশ্ন