মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:৪৯:০৯

খালেদা জিয়ার দেখা না পেয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা

খালেদা জিয়ার দেখা না পেয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন। সেখানে পারিবারিকভাবেই সময় কাটাচ্ছেন। প্রায় পৌনে দুই মাস ধরে অবস্থান করলেও নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। জেষ্ঠ্য পুত্র তারেক রহমানের কিংস্টন এলাকার বাসভবনে সীমিত করা হয়েছে নেতাকর্মীদের আনাগোনাও। শুধুমাত্র চিকিৎসা আর একবার মার্কেট করার জন্য বাইরে বের হয়েছিলেন বিএনপির এই কর্ণধার। পারিবারিক নিরবিচ্ছিন্ন থাকার জন্য বাতিল করা হয়েছে একাধিক দলীয় কর্মসূচিও। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে লন্ডনে আসা নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে গাটের পয়সা খরচ করে লন্ডনে অবস্থান করে এখন হতাশ।

এদিকে খালেদা জিয়া কবে দেশে ফিরবেন তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। দলের কোন দায়িত্বশীল মহলই নিশ্চিত করতে পারেননি কবে দেশে ফিরবেন তিনি। ঈদ-উল আযহা পরবর্তী ৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে তা ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর তার চোখ ও হাটুর চেক আপ রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির এক আলোচনা সভায় তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমকে আশান্বিত করে বলেছিলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন। ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে আসার তারিখও ঠিক হয়েছি। কিন্তু তারপর চিকিৎসকের সঙ্গে তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে। পরে জানা যায় তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর আসবেন।  কিন্তু লন্ডন বিএনপি সূত্র জানায়, তার হাটুর সমস্যা এখনও সমাধান না হওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বরের আগে দেশে ফেরা অনিশ্চিত।

এদিকে খালেদা জিয়া লন্ডনে অবস্থান করার পর থেকেই তার সাথে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে নেতাকর্মীদের সাক্ষাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। খালেদা জিয়া কাউকে না ডাকলে কেউ যেতে পারছেন না। ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিনসহ ইউরোপিয় ইউনিয়নভূক্ত দেশ সমুহের বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভা এমনকি কোরবানি ঈদের শুভেচ্ছা কর্মসূচিও বাতিল করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ এমনকি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া দলের নেতৃবৃন্দের সাথেও দেখা করেননি তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন তার সাথে দেখা করতে চাইলেও দেখা দেননি খালেদা জিয়া।

আবার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি বাতিল করলেও ঈদের দিন বিকালে তারেক রহমানের বাসভবনে ২০/৩০ জন নেতাকর্মী যান। সেখানে খালেদা জিয়া তাদের আপ্যায়ন করেন। এদিকে ইইউ ভূক্ত দেশ সমুহের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার সাথে দেখা ও বৈঠক করার জন্য লন্ডনে আসলেও তিনি ওই বৈঠক বাতিল করেন।

চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য  গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য এ সফর বলা হলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ আগ্রহ দেখা দেয়।



আজকের প্রশ্ন