মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:০৯:৪৮

সরকারি আট ব্যাংকের খেলাপিঋণ ৪০ হাজার কোটি টাকা

সরকারি আট ব্যাংকের খেলাপিঋণ ৪০ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপিঋণের অর্ধেকের বেশি রয়েছে সরকারি আট ব্যাংকে। অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া বড় অংকের ঋণ আদায় না হওয়ায় বেড়েই চলেছে এসব ব্যাংকের খেলাপিঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে ওই আট ব্যাংকের খেলাপিঋণ দাড়িয়েছে ৪০ হাজার ৯৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫৪ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ১১ হাজার ৪২১ কোটি ১১ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ হাজার ৯০৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৭ হাজার ৩৯০ কোট টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৭৬৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৫ হাজার ৪৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শ্রেণিকৃত খেলাপিঋণ রয়েছে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

একই সময়ে ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপিঋণ ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর খেলাপিঋণ ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ফলে ছয়মাসে বেড়েছে ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।

পরিচালন মুনাফা কমে যাওয়ায় খেলাপিঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে সরকারি সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে কয়েকটি ব্যাংকে ঋণ বিতরণে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণও মিলেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অতিরিক্ত ঋণের কারণে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে খেলাপিঋণ। এভাবে খেলাপিঋণ বেড়ে গেলে ব্যাংকের অনেক টাকা আটকে যায়। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে ও মূলধন ঘাটতি হতে পারে। খেলাপিঋণ বেশি হলে অনেক টাকা প্রভিশনও রাখতে হয়। ফলে ব্যাংকগুলো এ খরচ সামাল দিতে ঋণের সুদ কমাতে পারে না।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলো ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ব্যাংকিং সেক্টরে আর্থিক স্থিতিশীলতা এখন যা আছে, তা আরও হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত খেলাপিঋণ আমানতকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করবে। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুরো আর্থিক খাতের স্বার্থে খেলাপিঋণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়কে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নিয়েছে। বড় বড় গ্রাহকদের ঋণ পূন:তফসিলের সুযোগ দিয়েছে। নিয়ম-নীতির মধ্যে রাখতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষকও বসানো হয়েছে।
উৎসঃ   বাংলানিউজ

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 



আজকের প্রশ্ন