সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১২:২৫:১৯

বিএনপিতে হতাশা-ক্ষোভ! মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি ছয় মাসেও

বিএনপিতে হতাশা-ক্ষোভ! মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি ছয় মাসেও

ঢাকা: আন্দোলন-সংগ্রাম আরো জোরদার ও সংগঠনকে মজবুত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন পর ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগ করে নতুন আংশিক কমিটির ঘোষণা দেয় বিএনপি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু কমিটি গঠনের প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি মহানগর বিএনপি। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটির পুনর্গঠন ও নতুন কমিটি না হওয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এমন কিছু থানা রয়েছে, যেগুলোর কমিটির বয়স প্রায় দুই যুগ। ফলে তৃণমূলের সাথে সিনিয়র নেতাদেরও দূরত্ব বাড়ছে।

এ দিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য, তরুণ ও ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে, এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী। তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম জোরদার করতে হলে বিগত দিনে মাঠের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। তা না হলে খুব বেশি সাফল্য আসবে না। সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। স্বল্পসময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে থানা কমিটি গঠনে সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

গত ১৮ এপ্রিল রাতে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়। দুই ভাগে বিভক্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বিএনপির ৭০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি হন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। অন্য দিকে ৬৬ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর উত্তরে বিএনপির সভাপতি হন এম এ কাইয়ুম এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির দুর্বল নেতৃত্বকে দায়ী করেন দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের অনেকে। এ জন্য বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা এবং মির্জা আব্বাসের আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দল থাকায় দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করতে পারেনি মহানগর বিএনপি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ৭০ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরে ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্যসচিব করে ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কোন্দল ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি।

পাশাপাশি সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি মহানগর বিএনপি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি ঘোষণার পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা জানতে পারে বিএনপির কমিটি ঘোষণার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করছে সংস্থাগুলো।

নতুন কমিটির কার্যক্রম ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল নয়া দিগন্তকে বলেন, নতুন কমিটি হওয়ার পর আমরা সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। খুব অল্পসময়ের মধ্যেই মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন



আজকের প্রশ্ন