সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০১ জানুয়ারী, ২০১৮, ১১:৩০:২৮

মনোনয়ন পেতে মরিয়া দুই বড় দলে চার প্রার্থী

মনোনয়ন পেতে মরিয়া দুই বড় দলে চার প্রার্থী

ঢাকা-২০ আসন। এটি ঢাকা জেলায় অবস্থিত জাতীয় সংসদের ১৯৩নং আসন। ঢাকা-২০ আসনটি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত। আগামী একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নির্বাচনের অনেক সময় বাকি থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে মাঠে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ আসনে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চার প্রার্থী মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

এসব প্রার্থী দল ও দলের বাইরে জনপ্রিয়তা তৈরিতে অবিরামভাবে দলীয় প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখছেন। এ ছাড়া যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি ঢাকার আসনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হওয়ায় নিজ নিজ দলের প্রধান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সুদৃষ্টিতে পড়তে নানা পদেক্ষপ নিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যারা রয়েছেন তারা হলেন বর্তমান এমপি এমএ মালেক, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান, গোলাম কবীর, আবদুল আলীম খান সেলিম ও মনোয়ার হোসেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান তনয়, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, মহিলা দলের প্রভাবশালী নেত্রী সুলতানা আহমেদ ও তমিজ উদ্দীন আহমেদ। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন খান মুহাম্মদ ইসরাফিল খোকন।

তবে আগামী নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন পেতে দুই বড় দলের চার প্রার্থী জোরেশোরে তৎপরতা শুরু করেছেন। তাদের তৎপরতায় ধামরাই এলাকা এখন বেশ উত্তপ্ত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন নেয়াকে কেন্দ্র করে যেমন একদিকে রাজনৈতিক খেলা হচ্ছে ঠিক একইভাবে দেশের অপর বৃহৎ দল বিএনপির মধ্যেও ওই এলাকায় চলছে মনোনয়ন প্রাপ্তির লড়াই।

বেনজীর আহমেদ ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও এই এলাকার এমপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খান আতাউর রহমান তনয় ডিগ্রিফাইড পলিটিশিয়ান ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছিলেন। বিএনপির পরাজয় এবং ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ধামরাই এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে কিনা তা বলতে পারবেন ব্যারিস্টার জিয়া। এদিকে বেগম জিয়ার হালের ভীষণ আস্থাভাজন নেত্রী সুলতানা আহমেদ কিংবা তমিজউদ্দীনের মতো গণমুখী নেতারাও মাঠে রয়েছেন সক্রিয়ভাবে। তবে যাই হোক সুখে নেই আওয়ামী লীগ নেতা বেনজীর আহমেদ। তিনি ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে হোক কিংবা অনিবার্য কোনো ঘটনার পরম্পরায় হোক ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিতে পারায় আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক। যিনি ধামরাই আওয়ামী লীগের সভাপতি। আসন্ন একাদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন হারাতে চাইবেন না। তিনি বলছেন, আমার অযোগ্যতাটা কোথায়! আমিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এই আসন থেকে।

অপরদিকে শুরু হয়েছে দুই প্রার্থীর শো ডাউন করার সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক লড়াই। এমএ মালেক সারাদিন এলাকায় চষে বেড়ান। তার জনপ্রিয়তাও এখন চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে বেনজীর আহমেদ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছেন। কথিত আছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তাকেই দলের প্রার্থী করা হয় কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন ওই নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা টিকতে পারবেন না। যেমনটি ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপিও পারেনি। তাই তিনি ঋণ খেলাপী বলে নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকেন।

এদিকে মহিলা দলের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী সুলতানার চেয়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা জিয়াউর রহমান খানের অনেক বেশি হলেও এলাকার মানুষ অনেক ক্ষেত্রে তাকে বেগম জিয়াপন্থি হিসেবে বিবেচনা করেন না। এর কারণ তিনি একসময় দল ছেড়ে এলডিপিতে গিয়েছিলেন- সেটাকে বারংবার স্মরণ করিয়ে দিতে এক শ্রেণির মানুষ উৎসুক থাকেন। নানা বিবেচনায় জিয়া একজন সৎ সত্তা হিসেবে এই এলাকায় সমাদৃত রাজনীতিক হলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক ধারণা, এই আসনে সুলতানা আহমেদ মনোনয়ন পেলে ধামরাই এলাকার অভূতপূর্ব উন্নতি হবে। কারণ, তিনি বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠ মানুষ। তবে বিএনপিকে জিততে হলে ব্যারিস্টার জিয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই বলে এলাকার মানুষ মনে করে।

একদিকে আওয়ামী লীগে বেনজীর আহমেদ আর এমএ মালেকের লড়াই। আর অন্যদিকে ব্যারিস্টার জিয়া বনাম সুলতানার মনোনয়নের লড়াই। একটা চতুষ্কোণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আবার যেন শক্তিশালী রিজার্ভ হয়ে দুটি বিশেষ দলের প্রতিনিধি যথাক্রমে মিজানুর রহমান এবং তমিজউদ্দীন।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে খান মুহাম্মদ ইসরাফিল খোকন কম যান না। তিনিও নির্দিষ্ট কিছু ভোট পাবেন বলে মনে করার সুযোগ আছে। ধামরাই আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আগামীতে কাউকে দেখা যেতে পারে। আবার রাতের আঁধারে কৌশলে তমিজউদ্দীনকে কেউ দাঁড় করিয়ে দিলে বিএনপির ক্ষতি হয়ে যাবে। এমনটাও ধারণা করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে সুলতানাকে বাদ রেখে ব্যারিস্টার জিয়াকে যদি মনোনয়ন দেয়াই হয় তবে সুলতানার হারানোর কিছু নেই। কারণ, খুব সম্ভবত তিনি একাদশ সংসদে যাবেনই। প্রশ্ন হলো কীভাবে? তিনি সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়ে সেখানে যেতেই পারেন।



আজকের প্রশ্ন