শনিবার, ২৩ মার্চ ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৫ জুন, ২০১৮, ১০:২৩:৫১

বিএনপির ‌ঢাকা মহানগর উত্তরে ‘পকেট’ কমিটির অভিযোগ

বিএনপির ‌ঢাকা মহানগর উত্তরে ‘পকেট’ কমিটির অভিযোগ

ঢাকা: ‘সংকট আর বির্তক’ যেন পিছু ছাড়ছে না ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির। অভিযোগ উঠেছে দলের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ‘অর্থের বিনিময়ে অনুগতদের’ দিয়ে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষিত কমিটি নিয়ে দলের কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্যক্তি বিশেষের ভাগাভাগির ‘পকেট’ কমিটি হয়েছে বলে উত্তরের অনেক সিনিয়র নেতাই এই কমিটি প্রত্যাখান করেছেন।

দলের দায়িত্বশীল নেতা, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের কোনো মতামত না নিয়ে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

পদবঞ্চিতরা উত্তরের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে ‘পকেট’ কমিটি দেয়ার অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি দেয়ার প্রস্ততি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তবে উত্তরের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিতে কমিটি করা হয়েছে। যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী পদ পাননি তাদেরকে মহানগর উত্তরের নির্বাহী কমিটিতে পদ দেয়া হবে।

ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল, শেরে-বাংলানগর ও রমনা) বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন অভিযোগ করে জানান, এই কমিটি কোথা থেকে, কিভাবে হয়েছে তা তিনি বলতে পারছেন না।

তবে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দিয়েই কমিটি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি পেয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী পদ পাননি তাদের উত্তরের নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে লেয়াজু করে চলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তুরাগ থানা বিএনপির সভাপতি করা হয় আমান মেম্বারকে। তিনি সর্বদা আওয়ামী লীগের সঙ্গে লেয়াজু করে রাজনীতি করেন।

উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. দুলালকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে নতুন কমিটিকেই প্রত্যাখান করেছেন একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন। তিনি বলেছেন, দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাদের পাস কাটিয়ে ওই সকল নেতারা তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য কমিটি গঠন করেছেন। টাকার বিনিময়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভাপতি সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক বলেন, যার রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নাই, যে কখনো ছাত্রদল যুবদল করেনি এবং দলের জন্য জেল-জুলুম মামলার শিকার হয়নি, এই অযোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করা হয়েছে।

উত্তরা পূর্ব থানার সভাপতি আবদুস সালাম সরকার রাজনীতিতে কয়েক বছর নিষ্ক্রিয় ছিলেন। কিন্তু মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুমের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে ওই পদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এফ ইসলাম চন্দনও প্রায় ১০ বছর নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

মিরপুর থানা বিএনপিতে হাজী আবদুল মতিনদের মতো ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আর নিষ্ক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত আবুল হোসেনকে সভাপতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে ২০১১ সালে বিএনপিতে যোগদানকারী দলিল লেখক ওয়াজউদ্দিন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৪৮টি মামলায় ‘বিপর্যস্ত ও কারা নির্যাতিত’ নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলুকে কোনো পদ পদবীতে রাখা হয়নি। এর বাইরেও মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ, আবুল বাশারদের মতো নেতাদেরকেও মূল্যায়ন করা হয়নি।

পঁচাত্তর বছর বয়স্ক হাজী আবদুর রহমানকে সভাপতি করা হয়েছে দারুস সালাম থানা বিএনপির। ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সাইদ দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তাকে ‘বঞ্চিত’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপির সাবেক ডাকসাইটে নেতা ও কমিশনার মরহুম নিউটনের ছোট ভাই ১৮টি মামলার আসামি ডা. মিল্টনকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত ‘দুর্বল’ নেতা এসএম কায়সার পাপ্পুকে শাহ্ আলী থানা বিএনপির সভাপতি করা হয়েছে একাংশ অভিযোগ করেছে।

গিয়াসউদ্দিন দেওয়ান, মো. আজমদের বাদ দিয়ে ছাত্রদলের নিষ্ক্রিয় সাবেক নেতা হুমায়ুন কবির রওশনকে সাধারণ সম্পাদক করার অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জুর পছন্দানুযায়ী এই কমিটি করা হয়েছে বলে জানান মিরপুর, দারুস সালাম আর শাহ্ আলী এলাকার নেতাকর্মীরা।

তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল, শেরে-বাংলানগর ও রমনা থানায় যারা বিগত দিনে রাজপথে কাজ করেছেন, আন্দোলন করেছেন ঘোষিত মহানগর কমিটিতে তারা নেই। এর মধ্যে সাবেক কমিশনার মাহমুদুল হক মন্টু, গোলাম সারওয়ার কিরণ, তেজগাঁও থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল আহমেদ রয়েছেন।

একইভাবে দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, কাফরুল, মোহাম্মদপু অন্যান্য থানাগুলোতেও পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম মালয়েশিয়া থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে মহানগর উত্তর বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৫টি থানায় ১২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ থানা কমিটি এবং ৫৮টি ওয়ার্ডে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি অনুমাদন দেয়া হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এসব কমিটি অনুমোদন করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রত্যেক থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদক হবেন। একইভাবে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে থানা কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

এই বিভাগের আরও খবর

  ওআইসির সভায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান বাংলাদেশের

  ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের

  আন্দোলন আসবে, খালেদা জিয়া মুক্ত হবে: আমির খসরু

  গণধর্ষণকারী দুই আসামি আবাসিক হোটেল থেকে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রেফতার

  ৬০ সরকারি কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল

  বিএনপির কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না: তোফায়েল

  ‘অলিখিত বাকশাল’ বেশিদিন টিকবে না: মঈন খান

  সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

  ডাকসু ভিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নুরের

  পাকিস্তানে আল্লামা তাকি উসমানীর গাড়িবহরে হামলা, নিহত ২

  বাস-মাহেন্দ্রের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫



আজকের প্রশ্ন