শনিবার, ২১ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮, ০৬:৩৭:১৫

মৌলভীবাজারের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মৌলভীবাজারের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মৌলভীবাজার: টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু নদ ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে প্লাবিত হয়েছে উপজেলা সংযোগ সড়কগুলো। এমন কি বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গেও রয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এতে কার্যত মৌলভীবাজারের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রোববার সকাল থেকে পৌরসভাধীন বড়হাট এলাকায় মৌলভীবাজার-সিলেট রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসি মানুষ।

এর আগে, শনিবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় শহরটি। রাতের বেলা হঠাৎ করে শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় পানি ঢুকেছে শহরের চারটি খাদ্য গুদামেও। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চাল ও গম নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

রাতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দোকানের মালামাল পর্যন্ত সরাতে পারেনি মানুষ। মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমানের বাসা দেড় ফুট পানিতে প্লাবিত হয়। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বারইকোণাতে ভেঙে যায় শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ।

এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তোফায়েল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। শহরের বাইরে থেকে নৌকা এনে পানিবন্দিদের উদ্ধার কাজ চলছে। উপজেলাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এই পাঁচটি স্থানকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার ও মনু রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু কুশিয়ারা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১ সেন্টিমিটার পানি কমে বর্তমানে তা বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলাব্যাপী গত ৪ দিনে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন আরো ৩ জন। পানির স্রোতে পড়ে এদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। জেলাব্যাপী সেনাবাহিনী বন্যার্তদের সহযোগিতায় কাজ করছে।



আজকের প্রশ্ন