বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৬ জুলাই, ২০১৮, ০৭:০৫:১৩

ঐক্যের নেতৃত্ব নিয়ে ধুম্রজাল, আশা অচিরেই সমাধান বিএনপির

ঐক্যের নেতৃত্ব নিয়ে ধুম্রজাল, আশা অচিরেই সমাধান বিএনপির

ঢাকা: সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির জাতীয় ঐক্য আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে ২০দলীয় জোটের শরীকদের মধ্যে। তারা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত জোট হবে না। তবে যুগোপৎ আন্দোলনের বিষয়ে হয়তো একটা সমঝোতা হতে পারে তাও অনেকটাই অনিশ্চিত। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, ঐক্য এখন সময়ের ব্যাপার। প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আর জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাচ্ছে এসবের কোনো সত্যতা নেই।

জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জামায়ত সর্ম্পক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্য হলে সেখানে দলগুলোর মধ্যে কাকে সমন্বয়ক করা হবে তা নিয়ে রয়েছে এক ধরণের জটিলতা। বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন কিংবা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কিংবা এলডিপির সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ এই চার নেতার মধ্যে সমন্বয়কের দায়িত্ব নিয়ে যেমন জটিলতা আছে আবার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অথবা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসতে পারেন। এছাড়া অন্তত দশটি বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। তবে বিষয়গুলো খুব বেশী জটিল নয় বলে জানান এই প্রকিয়ার সঙ্গে জড়িত এক নেতা। বলেন, একটা ঐক্য হতে হলে অবশ্যই তার কিছু শর্ত থাকে কিছু বোঝাপরা থাকে। এগুলো মিমাংসা করেই সুনিদির্ষ্ট কিছু বিষয়ে একমত হওয়ার পরই একটা প্লাটফর্ম তৈরি হয়। এজন্যই একটু সময় লাগছে।

এদিকে নিবার্চন যত এগিয়ে আসছে ততই ২০দলীয় জোটের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। জোটের কয়েকজন নেতা জানান, সামনে নির্বাচন এর আগেই বিএনপির সঙ্গে আসনভাগাভাগি নিয়ে একটা সমঝোতা চায়। আর তা নাহলে নির্বাচনের আগেই জোটের কয়েকটি দল বের হয়ে যেতে পারে। নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপি জোট থেকে কয়েকটি দল যোগ দিতে পারে।

এবিষয়ে ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা জানান, জোটের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত যে আটটি দল রয়েছে এবার নির্বাচনে তারা অনেকই অংশ নিতে চান। তা নাহলে এসব দলগুলো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকির মধ্যে পড়তে চায় না।

বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অখণ্ডতা ধরে রাখা পাশাপাশি প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া আবারও থমকে গেছে জামায়াত প্রশ্নে। এরই মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধী তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভেতরে জামায়তের বিরোধী অবস্থান রয়েছে।

জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মনে করেন জামায়াতকে নিয়ে সমস্যা আছেই। কারণ তাদের ভূমিকা সকলের জানা রয়েছে। নতুন করে বলার কিছু নেই। বলেন, বিএনপির সহযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু তাদের নেতৃত্বে এবং কর্তৃত্বে জাতীয় ঐক্য হবে না।

দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মিমাংসা জরুরী। জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আন্তরিক বলে জানা গেছে।

২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, জোটের শরিকদের কারো দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ও হতাশা থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ অতীতেও বিএনপির সঙ্গে শরীকরা আন্দোলন করেছে। আগামীতেও যেকোনো পরিস্থিতি আমরা সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে চাই।

ঐক্যের বিষয়ে আশাবাদী বিএনপির নীতিনির্ধারক ও দল সর্মথক বুদ্ধিজীবীরা। তারা মনে করেন ঐক্য গঠনে ছোট ইস্যুকে বড় করে দেখার কিছু নেই। এখানে জামায়ত বাধা হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিছ’ কিছ’ বিষয়ে ছাড় দিয়ে হলেও ঐক্য হওয়া জরুরী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আলোচনা চলছে। আশাকরি অচিরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আযম বলেন, আমাদের একটি বড় দাবি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। এজন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি উদ্যোগ বড় দল হিসেবে বিএনপি নিয়েছে। দলগুলোকে দেশের প্রয়োজনে, গণতন্ত্র ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার তাগিদ থেকেই এক মঞ্চে আসা জরুরী। জাতীয় ঐক্যে আসবে, কে আসবে না তা নিয়ে বলার মত সময় এখনও আসেনি। এজন্য একটু ধৈয্য ধরতে হবে অপেক্ষা করতে হবে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 



আজকের প্রশ্ন