মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৭ অক্টোবর, ২০১৮, ০৯:৫৮:৩৪

স্ত্রীর সুন্দরী বান্ধবী দেখে পাগল হয়ে যায় ইরফান, এরপর

স্ত্রীর সুন্দরী বান্ধবী দেখে পাগল হয়ে যায় ইরফান, এরপর

ঢাকা : হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ছাত্রী রোমানা (ছদ্মনাম) বান্ধবীর বিয়েতে গিয়ে খুব মজা করেছিলেন। তাঁরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে নতুন বরের সঙ্গেও নানা রঙ্গ-তামাশা করেন। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে যথারীতি পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। এরই মধ্যে একদিন ফেসবুকে দুবাই প্রবাসী ইরফান আহমদের কাছ থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পান। যথারীতি বন্ধু আহ্বানে সাড়া দেন রোমানা।

রোমানা চট্টগ্রাম আদালতের একজন আইনজীবীর বোন। থাকেন নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায়। প্রবাসী ইরফানের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে দিনে দিনে সম্পর্ক গভীরতা পায়। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে দুজন।

ইরফান আহমেদ ফেসবুকে এবং মোবাইল ফোনালাপে রোমানার জন্য ‘পাগল’ হয়ে পড়েন। এভাবেই চলছিল। কখনো কখনো নিজের হাত কেটে রক্ত বের করার দৃশ্যও দেখিয়েছেন ইরফান। এতে রোমানার বিশ্বাস বাড়ে। গভীর প্রেমের সময়ই তাঁরা ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি আদান-প্রদান করেন। স্পর্শকাতর বেশ কিছু ছবি চলে যায় ইরফান আহমেদের হাতে।

রোমানার বন্ধু হওয়ার সুবাদে ইরফান আহমেদও পর্যায়ক্রমে রোমানার বন্ধুদের তালিকায় যুক্ত হন। আর ইরফান আহমেদ হয়ে উঠেন রোমানার ভালোবাসার পুরুষ। এরই মধ্যে গত মার্চ মাসের একদিন ইরফান আহমেদ রোমানাকে জানান, তিনি দেশে আসবেন। সেই সঙ্গে নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন। জানিয়ে দেন, ইরফান আহমেদ ছদ্মনাম ধারণ করেই তিনি ফেসবুকে বন্ধুত্ব ও প্রেম করেছেন। মূলত তিনি বান্ধবী রিয়া ইসলামের (ছদ্মনাম) স্বামী শহিদুল আলম (ছদ্মনাম)।

হঠাৎ করে নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে এমন কথা শুনে বিস্মিত হন রোমানা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরই মধ্যে শহিদুল আলম নতুন প্রস্তাব দেন তিনি দেশে এলে যতোদিন থাকবেন, ততোদিন রোমানাকে তাঁর সঙ্গে থাকতে হবে। সময় ও সঙ্গ দিতে হবে। এবার আকাশ থেকে যেন পড়লেন রোমানা। কারণ, শহিদুল শর্ত দিয়েছেন, যদি তাঁকে সময় ও সঙ্গ দেওয়া না হয়, তাহলে রোমানার যেসব ছবি তাঁর কাছে আছে, সবই তিনি রোমানার বন্ধু, আত্মীয়সহ সবার কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

কলেজছাত্রী রোমানার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে মুহূর্তেই। এতোদিন যাকে প্রেমিক ভেবেছিলেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে বান্ধবী রিয়ার স্বামী। এখন বান্ধবীর স্বামীই প্রস্তাব দিচ্ছেন, সময় ও সঙ্গ না দিলে নিজের স্পর্শকাতর ছবি ফাঁস করার।

এবার আইনজীবী ভাইকে নিজের সমস্যার কথা বলতে বাধ্য হন রোমানা। শেষে আইনজীবী মাফরু হাসান (ছদ্মনাম) যান নগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে। ভাই-বোনের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (পশ্চিম) মঈন ইসলাম। তিনি শুরুতেই দুবাই প্রবাসী ইরফান আহমেদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেন। কৌশলে ইরফানের বন্ধু হয়ে যান ফেসবুকে। এবার ইরফানের কাছ থেকেই কৌশলে জেনে নেন তিনি কবে দেশে ফিরবেন। ইরফানও বন্ধুত্বের খাতিরে নতুন বন্ধুকে দেশে ফেরার তথ্য দেন।

নির্ধারিত দিনে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন কথিত ইরফান আহমেদ ছদ্মবেশী শহিদুল আলম। তাঁকে আনতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন বাবা, মাসহ আত্মীয় স্বজন। বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে বহনকারী গাড়িটি নজরদারিতে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এক পর্যায়ে দুবাই ফেরত শহিদুল আলমকে তাঁর স্বজনসহ নিয়ে আসা হয় নগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে।

শুরুতে শহিদুল আলম বুঝতেই পারেন না কেন তাঁকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হলো। তাঁর বাবাসহ স্বজনরাও অন্ধকারে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মঈন ইসলামের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শহিদুল আলম স্বীকার করেন, তিনি ইরফান আহমেদ ছদ্মনাম ধারণ করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রোমানার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। প্রেমের অভিনয় করেছিলেন। তিনি যে হাত কেটে রক্ত ঝরনোর ছবি রোমাকে দেখিয়েছেন, সেগুলো ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। আর দেশে এলে রোমানার সঙ্গ ও সময় চেয়েছিলেন এটাও তিনি স্বীকার করেন। আর রোমানার সব ছবিই তিনি ফাঁস করে দেবেন বলে হুমকির দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন। কেন স্ত্রীর বান্ধবীর সঙ্গে এমন প্রতারণা?-এই বিষয়ে শহিদুল আলম দাবি করেন, বিয়ের দিন রোমানার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। স্ত্রীর চেয়েও সুন্দরী রোমানা তাঁর সঙ্গে আলাপের সময় কিছুটা অহংকার দেখিয়ে কথা বলেছিলেন। এই কারণে তিনি রোমানার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এমন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে রোমানা ও শহিদুল আলমের পরিবারের সদস্যদের সামনেই কয়েকটি ছবি দেখানো হয়। এসব ছবি ছিল মোবাইল ফোনে। পরক্ষণে মোবাইল ফোন নিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে ধ্বংস করা হয়। আর রোমানার বিয়ের আগে স্পর্শকাতর ছবির বিষয়ে আইনজীবী ভাই থানায় মামলা করতে রাজি হননি। কারণ, এতে রোমানার বিয়েতে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে আইনজীবী ভাই শহিদুল আলমকে আইনের আওতায় আনার পথে হাঁটেননি। তাই দুই পরিবার বিষয়টি নিজেরাই মীমাংসা করে ফেলে। শেষে শহিদুল আলমের কাছ থেকে অঙ্গীকার নামা নিয়ে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মঈন আলম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত না হয়ে ভার্চুয়াল বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো মানে নিজেকে বিপদে ফেলা। ফেসবুকে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রেম করে নিজের স্পর্শকাতর ছবি দিলে নিজের সর্বনাশের পাশাপাশি পারিবারিক সম্মানও বিলীন হয়। তাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করা উচিত।’ সূত্র: কালের কন্ঠ



আজকের প্রশ্ন