মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১১:১৩:৩১

যে কারনে বাসায় পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না

যে কারনে বাসায় পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না

স্বাস্থ্য ডেস্ক : অসুস্থ হলে আমরা কমবেশি সবাই ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। কখনো কখনো আবার ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ঘরেই পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না বাসায় পড়ে থাকা সেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। এতে করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, একদল গবেষক দীর্ঘদিন বাড়িতে পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণায় তারা জানতে পারেন, ওইসব অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার বাড়িয়ে দেয়।ৎ

ওই গবেষক দলের একজন নিউ ইয়র্কের কোহেন চিলড্রেন মেডিক্যাল সেন্টারের ডা. রুথ মিলানাইক। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অনেক অভিভাবকই প্রেসক্রিপশন ডাইভারসন নামের সমস্যায় জড়িত, প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক চেয়ে আনা বা আগের প্রেসক্রিপশন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা আছে তাদের। যার জন্য যে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি তাকে সেটি দেওয়া শুধু তার জন্যই বিপজ্জনক নয়, পুরো জনসংখ্যার জন্য ভয়ের কারণ। কারণ একসময় শরীর এই অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দেয় না।’

ডা. রুথ মিলানাইক জানান, গবেষণার জন্য অ্যামাজন মেকানিক্যাল টার্কের মাধ্যমে অনলাইনে ৪৯৬ জন অভিভাবককে প্রশ্নাবলি বিতরণ করা হয়েছিল। প্রায় ৪৮.২ শতাংশ (অর্ধেক) অভিভাবক জানিয়েছেন যে তারা রোগ সারার পর অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রেখে দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ পরবর্তী সময়ে তাদের ভাই-বোন, বাচ্চাদের এবং সম্পর্কযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো দেন।

ডা. মিলানাইক আরও জানান, অনেক সময় দেখা গেছে, প্রেসক্রাইব করার বেশ কয়েক মাস পর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আবার ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেরাও অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহার করছেন।

এ সম্পর্কে ডা. মিলানাইক বলেন, ‘কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, সব অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারগুলোকে শিক্ষিত করার জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন। যদিও অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ফলে ওষুধের বিপ্লব ঘটেছে, তাও সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে এর সঠিক মাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

ওই গবেষকদের ফলাফল আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের জাতীয় সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান ডা. রুথ মিলানাইক।



আজকের প্রশ্ন