শনিবার, ২৩ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৭ জুলাই, ২০১৯, ০৭:৩৮:২৩

কুড়িগ্রামে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

কুড়িগ্রামে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম পায়রাডাঙ্গা নলবাড়ী এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৪৬) কে হত্যার অপরাধে ৫জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম

কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সি রফিউল আলম এই আদেশ প্রদান করেন। রায়ে অপর ৩ আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।

এডিশনাল পিপি নাজমুল ইসলাম জানান, ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ১৯ তারিখ রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার পূর্ব পায়রাডাঙ্গার হাশেমবাজার এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের পূত্র নজরুল ইসলাম উপজেলা শহরে ব্যবসায়িক কাজ শেষে সঙ্গী মৃত বহর উল্ল্যাহর পূত্র শাফিসহ বাড়ীতে ফিরছিলেন।

তারা পশ্চিম পায়রাডাঙ্গা নলবাড়ী এলাকায় শ্রী রণজিৎ সরকারের বাড়ীর কাচারী ঘরের সামনে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী আব্বাছ আলীর পূত্র আব্দুর রহিম (৩০) ও আসাদুজ্জামান ওরফে রাজা (২৪), পশ্চিম পায়রাডাঙ্গা এলাকার আলহাজ¦ আশরাফ আলীর পূত্র সাইফুর রহমান ওরফে হেজী (৩৫), পূর্ব পায়রাডাঙ্গার মৃত টাঙ্গুরা শেখের পূত্র মঞ্জুরুল হক (৪৬), একই এলাকার আব্বাস আলীর পূত্র সৈফুর রহমান ওরফে কাচু (৪০), মকবুল হোসেন (৪৫), আমিনুল (৩৭) ও আব্দুর রশিদ (২৬)সহ অনেকে ধারাল মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে নজরুল ইসলামকে ঘিরে ফেলে।

সে সময় আসামী আব্দুর রহিম রাম’দা দিয়ে প্রথমে তার মাথার উপরে আঘাত করে। তারপর অন্যান্য আসামীরাও তার উপর হামলা চালায়। উপর্যুপরী আঘাতে নজরুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পরেন। তার সঙ্গী শাফি প্রাণভয়ে সেখান থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে পাশর্^বর্তী পিকলু মি

য়ার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আসামীরা সেখান থেকে সটকে পরে। গুরুতর আহত নজরুল ইসলাম রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরে নিহতের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম ২০ মার্চ ২০০৮ সালে সকাল ১০টায় নাগেশ্বরী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত, চার্জশীট এবং সাক্ষি-প্রমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানীর পর রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সি রফিউল আলম দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামী আব্দুর রহিম, আসাদুজ্জামান রাজা, সাইফুর রহমান হেজী, মঞ্জুরুল হক ও সৈফুর রহমান কাচুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত মকবুল হোসেন, আমিনুল হক ও আব্দুর রশিদকে বেকসুর খালাস প্রদান করে ।

বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এটিএম এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ।



আজকের প্রশ্ন