শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯, ০১:৪৬:৫৮

ড্রাগন ফলে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

ড্রাগন ফলে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

শেরপুরের নকলা উপজেলার ড্রাগন ফল চাষিরা সফলতা পেয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি মূল্যবান এ ফলটির ভালো উৎপাদন ও দাম পাওয়ায় আরো উদ্যোগী হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার পোলাদেশী, বাছুর আলগা, ছোট মোজার, বড় মোজার, বাউসা, জানকিপুর ও রামপুর এলাকার অনেকে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন। সম্ভাবনার ফল হিসেবে সৌখিন চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে মনোযোগী তারা।

এমন এক সৌখিন চাষি হলেন উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউপি’র রামপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম। তার বাগানের ড্রাগন গাছে সাদা-হলুদের মতো দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য ফুল ঝুলছে। ঝুলছে ছোট-বড় অনেক লাল-সবুজ, কাঁচা-পাকা ড্রাগন ফল। এ চিত্র দেখে চাষির চোখ ও মুখে আনন্দের ঝিলিক।

রফিকুল ইসলাম জানান, তার বাগানে ছোট-বড় ৩২০টি ড্রাগনের গাছ রয়েছে। কয়েক বছর ধরে তার বাগানে প্রতি মৌসুমে ৪০০ থেকে ৫০০টি ফল ধরেছে। খুচরা হিসেবে আকারের ভিত্তিতে প্রতি ফল ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা করে এবং পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। তাছাড়া প্রতিটি কাটিং করা চারা আকার অনুযায়ী ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন।

এ ফল চাষে সফলতা দেখেছেন ভূরদী খন্দকার পাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার ২৫ সদস্য। তারা ড্রাগন গাছের কাটিং চারা পেতে পুরাতন চাষি হালিম, কিতাবালী, পারুল, রফিকুলকে বলে রেখেছেন। এ সংস্থার সভাপতি মো. ছাইয়েদুল হক, হেলাল, বেলাল, ঈসমাইল ও কামালসহ আরো তিন থেকে চার জন চাষি দুই-একটি করে চারা সংগ্রহ করে রোপন করেছেন।

তারা জানান, উপজেলার বানেশ্বরদী ও চন্দ্রকোনা ইউপির ৩২০ কৃষকের মাঝে ড্রাগন গাছের কাটিং চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ২০১২ সালে এর আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টার ও নকলা কৃষি অফিস।

উপজেলার রামপুরের রফিকুল ইসলাম, ছোট মোজারের মোশা শেখ ও আবুবাক্কার, মোজারের কিতাবালি, পোলাদেশীর আব্দুল হালিম, সাজু ও আকাব্বর আলী, বানেশ্বরদীর চুন্নু মিয়া, মিরাজ আলী ও আজিজুল হক, বাউসা গ্রামের পারুল বেগম ও বাছুর আলগার সাজু সাঈদ সিদ্দিকীসহ অনেকের গাছে চার বছর ধরে নিয়মিত ফল আসছে। তারা এখন লাভের মুখ দেখছেন। এতে লাভজনক ড্রাগন ফল চাষে নতুন রঙিন স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

এ উপজেলায় চার শতাধিক বাড়িতে অন্তত দুটি করে ড্রাগন গাছ রয়েছে। এছাড়া সাজু ও রফিকুলের বাগানে অন্তত পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে।

নকলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মনি জানান, ক্যাকটাস গোত্রের ড্রাগন ফল গাছে রাতে ফুল ফোটে, সুগন্ধ ছড়ায়। তাই একে নাইট কুইন বলা হয়। ড্রাগন ফলের চাষ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পরামর্শসহ সব সহযোগিতা দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, পুষ্টিমানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় ড্রাগন ফল চাষে সৌখিন কৃষকের পাশাপাশি সব শ্রেণির কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায়। তবে বেলে, দোঁ-আশ মাটিতে ড্রাগন ফল চাষ উত্তম।

তিনি আরো জানান, উচ্চ ফলনশীল বাউ ড্রাগন-১ ও বাউ ড্রাগন-২ বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য উপযোগী। এ ফলের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারেন।



আজকের প্রশ্ন