শনিবার, ২৮ মার্চ ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১০:০০:৩৬

২০১৯ সালে সন্ধান পাওয়া নতুন কিছু প্রাণী

২০১৯ সালে সন্ধান পাওয়া নতুন কিছু প্রাণী

ঢাকা : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য নিয়ে তাই অনেকেই শঙ্কিত। এই শঙ্কার মাঝেই চলতি বছরে বেশ কিছু নতুন প্রাণীরও সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমন কয়েকটি নতুন আবিষ্কৃত প্রাণী নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা।

নেলোপটোডোস গ্রেটা বিটল: সম্প্রতি গবেষকরা নতুন এক গুবরে পোকার সন্ধান পেয়েছেন। পোকাটির নামকরণ করা হয়েছে কিশোরী জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গের নামে। ক্ষুদ্র এই পোকাটির শারীরিক গঠনের কারণে এর নামকরণ একদম সার্থক মনে হয়। ১ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট এই পোকাটির কোনো পাখা বা চোখ নেই। পোকাটির অ্যান্টেনার মতো দেখতে দুটো শুঁড় আছে। গাছের পাতা এবং মাটিতে থেকে ছত্রাক খেয়ে বাঁচে এই পোকা। যুক্তরাজ্যের ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের গবেষক মাইকেল ডার্বি ছোট্ট এই পোকাটির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, সৃষ্টির অন্যতম ক্ষুদ্র এই পোকাটি পিলিডাই গোত্রের।

গ্রেটা থানবার্গের নামে কেন নামকরণ এর পেছনের কারণও জানিয়েছেন ডার্বি। সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ দেখে দারুণ প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি। গ্রেটার কাজ স্মরণীয় করে রাখতেই নতুন প্রজাতির এই পোকার এমন নামকরণ। তিনি চান তার নতুন এই নামকরণ যেন পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যাকে নিয়ে আলোচনা তোলে এবং সবাই যেন সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করে। ১৯৬০ সালে উইলিয়াম ব্লক কেনিয়াতে সর্ব প্রথম এই পোকাটির সন্ধান পান। গবেষণার জন্য এই পোকাটি তিনি ১৯৭৮ সালে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্টোরি অব মিউজিয়ামে দিয়ে দেন। সেখানেই মিউজিয়ামের অন্যতম সংগ্রহ হিসেবে এটি এতদিন ছিল। এতদিন ধরে নামহীন এই পোকা নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছিলেন ডার্বি। নামহীন নতুন এই পোকাটি এখন পতঙ্গ বিজ্ঞানীদের মাসিক ম্যাগাজিনের তালিকায় যুক্ত হলো। সন্ধানপ্রাপ্ত নতুন এই পোকাটির দায়িত্বে থাকা মিউজিয়ামের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর ম্যাক্স বার্কলে বলেন, গবেষকরা নামকরণ করার আগেই জীববৈচিত্র্যের নানা রকম ক্ষতির কারণে সন্ধান না পাওয়া অনেক প্রাণীই হারিয়ে যায়। তাই এমন নামকরণ একদম সার্থক যখন একজন ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এত আন্দোলন এবং পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

অনেমা স্পেসিস: ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্টার্ন সিয়েরা পাহাড়ের মনো লেকে প্রাণের সন্ধান পাওয়া বেশ কঠিনই বলা চলে। এই স্থানটির লবণাক্ত ও তীব্র আর্সেনিকযুক্ত পানিতে ব্যাকটেরিয়া আর শেওলা ছাড়া, কিছু চিংড়ি আর পোকার সন্ধান মেলে কেবল। তবে, চলতি বছরে এখানে আরও কয়েকটি নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি সম্প্রতি লেক এবং লেকের আশপাশ থেকে মোট আটটি নতুন প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান পায় যার মধ্যে একটি দেখতে বেশ অদ্ভুত। নেমাটোড প্রজাতির সন্ধানপ্রাপ্ত নতুন এই প্রাণীটির নাম দেওয়া হয়েছে অনেমা স্পেসিস। অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই প্রাণীটির মোট তিনটি লিঙ্গ পাওয়া গেছে। মানুষের সহনশীল মাত্রার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি আর্সেনিকে এরা বেঁচে থাকতে পারে। লিঙ্গ নির্ধারণের সময় নেমাটোড প্রজাতির প্রাণীদের সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। পুরুষলিঙ্গ এবং উভলিঙ্গ। কিন্তু অনেমা স্পেসিসের নারী লিঙ্গও আছে। প্রাণীটির সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতাও আছে। নেমাটোড দুনিয়ায় ডিম পাড়ার জন্য তারা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় এমন একটি নতুন প্রাণীর সন্ধান পাওয়ায় গবেষকরা বেশ অবাকই হয়েছেন। তাদের ধারণা, মনো লেকের মতো এত লবণাক্ত একটা জায়গায় বেঁচে

থাকার জন্য প্রাণীটির এমন অদ্ভুত গঠনই সাহায্য করে।

নতুন এই প্রাণীর সন্ধান পাওয়ার পর আরও একটি বিষয় নজরে এসেছে গবেষকদের। তারা জানতে পেরেছেন, ১ হাজারেরও বেশি প্রাণী কঠিন এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে। অন্য প্রজাতির মতো তাদের শরীরেও আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রজাতির অন্য কোনো প্রাণী এত উচ্চ মাত্রার আর্সেনিকের মাঝে বাস করে না। এদের বেশিরভাগেরই বাস মাটি অথবা গোবরের মধ্যে, যেখান থেকে তারা উচ্চমাত্রার ফসফেট গ্রহণ করতে পারে। শুধু এদেরই এভাবে বাস করার পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ আছে। সম্ভবত এই ধরনের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। তাদের মাঝে জন্ম থেকেই নিশ্চয়ই এক ধরনের নমনীয়তা আছে যার কারণে মনো লেকের মতো কঠিন জায়গাতেও তারা থাকতে পারে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণার পর গবেষকরা জানিয়েছেন, নেমাটোডদের বেঁচে থাকার জন্য এই ধরনের লেকগুলোই উপযুক্ত জায়গা।

লরিডা কলেনি স্পাইডার: ভেলভেট স্পাইডারকে বলা হয় ইউরোপের সব মাকড়সার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। এরা টেনেব্রিওনিডাই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এই প্রাণীটি সম্পর্কে নানা সময় কাগজে-কলমে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। বেশিরভাগ ভেলভেট স্পাইডার একদম আড়ালে লুকিয়ে থাকে অথবা গর্ত খুঁড়ে মাটির নিচে থাকে। তাদের এই রহস্যজনক আচরণের কারণ অবশ্য পুরোপুরিভাবে জানা যায়নি। মাকড়সার গায়ে চকচকে আর অন্ধকার দুটি ধরন একসঙ্গে থাকায় একে ভেলভেট বলা হয়। সাদা-কালো ছাড়াও লাল, সাদা আর কালোর মিশ্রণেও এই প্রজাতির মাকড়সার দেখা পাওয়া যায়। ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়াতে এদের দেখা মেলে। ভেলভেট স্পাইডারদের দেখা মেলে ব্রাজিল, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কিছু এলাকায়।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রজাতির প্রাণীগুলো প্রচুর পরিমাণে হতে পারে। জন্ম নেওয়ার পর শিশু মাকড়সার ওপর যেন বাইরের কোনো আক্রমণ না হয় সেজন্য তাদের সুরক্ষায় এই ধরনের পরিবেশ বেশ উপযোগী। ভেলভেট স্পাইডারসহ তাদের থাকার জায়গা নিয়ে বিজ্ঞানীদের নানা আকর্ষণ আছে। নানা সময় নানা ধরনের গবেষণাও হয়েছে এদের নিয়ে। নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি এবং ইরানের কয়েকজন জীববিজ্ঞানীকে নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল ভেলভেট স্পাইডারদের নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা করেছেন। মাকড়সাগুলোর বিভিন্ন ধরনের ছবি আর তথ্য তারা একত্রিত করেছেন। বিভিন্ন ধরনের রঙিন ছবিসহ ইলেকট্রন মাইক্রোগ্রাফে তাদের শারীরিক অবস্থানের সকল ছবিও তথ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে এই মাকড়সা নিয়ে বেশ মজার একটি তথ্য পেয়েছেন। চকচকে ভাবের কারণে এই প্রজাতির মাকড়সাগুলোকে সিল্ক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। জীবনবৃত্তান্ত, প্রকৃতিগত অবস্থান আর শারীরিক গঠন নিয়ে গবেষণাতেই বিজ্ঞানীরা থেমে যাননি। বর্তমানে এদের ডিএনএ দিয়ে প্রাচীন ভেলভেট স্পাইডারদের ইতিহাস জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে। ভেলভেট স্পাইডারের লরিডা নামকরণেরও একটি মজার গল্প আছে। ১৯৬০ সা
লের দিকে লরিডা নামক একজন মিউজিশিয়ান ‘দ্য ভেলভেট আন্ডারগ্রাউন্ড’ নামে একটি ব্যান্ড চালু করেছিলেন। ব্যান্ড আর মিউজিশিয়ান দুইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই বিজ্ঞানীরা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই মাকড়সার নাম দিয়েছেন লরিডা ভেলভেট।

ইউরোপ্লেটাস ফেটসি লিফ টেইলড গেকো: পাতার মতো লেজযুক্ত একটি নতুন প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইউরোপ্লেটাস ফেটসি। ধারণা করা হচ্ছে, এর অবস্থান আপাতত মাদাগাস্কারের আংকারানা নামক সংরক্ষিত ভূমিতেই। সহজ ভাষায় এই সংরক্ষিত ভূমিকে বিশাল আকারের পার্ক বলা যায়। ১৮২ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত জায়গা জুড়ে এই পার্কে প্রায় সময়ই নতুন নতুন প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায়। মাদাগাস্কারের এই সংরক্ষিত পার্কে যখন গত বছর পাতা আকৃতির লেজযুক্ত এই গেকোটি খুঁজে পাওয়া যায় তখন পর্যন্ত গবেষকরা নিশ্চিত ছিলেন না যে- এটি টিকটিকির একটি নতুন প্রজাতি। এটি দেখতে ‘ইউরোপ্লেটাস ইবেনাই’ নামক পাতার মতো চোখা লেজযুক্ত। ২০০৪ সালে এটির প্রথম নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখন ভাবা হয়েছিল এটি সম্ভবত ইউরোপ্লেটাস ইবেনাই গোত্রেরই প্রাণী। প্রথম দেখাতেই দুই প্রাণীর মাঝে খুব একটা আলাদা কিছু বোঝা যায় না। লেজ আর পিঠের নরম ত্বক ছাড়াও এদের মাঝে আরও কিছু ভিন্নতা ছিল। দুই প্রাণী নিয়েই বেশ কিছুদিন গবেষণা করা হয়। তাদের সংগ্রহ করা টিস্যু থেকে ২০১১ সালে জানা যায়, এদের মাঝে জেনেটিক ভিন্নতা আছে।

গবেষণায় এই তথ্য হাতে আসার পরও বিজ্ঞানীরা দুটি প্রাণীকে ভিন্ন গোত্রের বলে ঘোষণা দেননি। অবশেষে ২০১৮ সালে যখন নতুন ইউরোপ্লেটাস ফেটসির নতুন নমুনা সংগ্রহ করা হয় তখন তারা নিশ্চিত হন এরা আসলেই আলাদা। ইবেনাইয়ের মুখের ভেতরটা একদম কালো। অপরদিকে ফেটসির মুখের গহ্বরের পাশে লালচে ভাব রয়েছে। এই জাতীয় প্রাণীদের গোত্র নির্ধারণ করতে মুখের অভ্যন্তরের রং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এই নতুন প্রজাতির সন্ধান শুধু মাদাগাস্কারেই পাওয়া গেছে তাই এর নামকরণও করা হয়েছে সেখানকার ভাষা দিয়েই। এই নামটি এসেছে মাদাগাস্কার শব্দ ‘সাই’ (বাংলা অর্থ চতুর) থেকে। জিহ্বা বের করে আবার খাবার মুখে নিয়ে কুঁচকে ফেলা এমন অভিব্যক্তির কারণেই হয়তো ফেটসিকে চতুর বলা হচ্ছে। সরীসৃপজাতীয় প্রাণীদের নিয়ে মিউনিকের বেভারিয়ান স্টেট কালেকশন অফ জুওলজিতে কাজ করেন গবেষক মার্ক ডি স্কার্জ। তিনি বলেন, ‘এই প্রাণীটিকে অনেক আগেই পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু একে খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন বলে এতদিন ধরে তার বিষয়ে আলাদা করে আর কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারছিলাম না।’

ইলেকট্রিক ইলস: সম্প্রতি ইলেকট্রিক শক্তি যুক্ত নতুন প্রজাতির একটি মাছের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। অন্য যে কোনো প্রাণীর চেয়ে দ্রুতগতিতে যে কাউকে হত্যা করতে পারে এই মাছ। সুপারচার্জ যুক্ত ইলেকট্রোফোরাস ভোল্টাই একটিমাত্র শকে ৮৬০ ভোল্ট বিদ্যুৎ দিতে পারে। যেখানে অন্যান্য ইলেকট্রিক ইলসের কারেন্ট শক দেওয়ার ক্ষমতা ৬৫০ ভোল্ট। একজন মানুষের জন্য এই কারেন্টের শকেই ব্যথার তীব্রতা প্রচ- হতে পারে। কখনো কখনো এটা একটা টেজার গানের চেয়েও বেশি ব্যথা তৈরি করে। নতুন উদ্ভূত আরেকটি ইলের নাম দেওয়া হয়েছে ইলেকট্রিক ভ্যারি। এই মাছ সর্বোচ্চ ৫৭২ ভোল্ট পর্যন্ত বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এই দুটি প্রাণীর তথ্য জানার পর গবেষকদের ইলেকট্রিক ইলের বিষয়ে ভাবনা একদম বদলে গেছে। এতদিন ভাবা হতো, ২৫০ বছর আগে আবিষ্কার হওয়া ইলেকট্রিক ইলের ‘ইলেকট্রিক ইলেকট্রিকাস’ নামে কেবলমাত্র একটি প্রজাতিই আছে। নতুন এই সন্ধান নিঃসন্দেহে প্রাণীজগতের গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য।

পোডোসেরাস জিনবি অ্যাম্ফিপড: ২০১৭ সালে ওকিনাওয়া দ্বীপে সংরক্ষিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেয়ে হাঙরের মুখের ভেতর দন্তক আর ফুলকাওয়ালা কিছু মাছের সন্ধান পান জাপানের বিজ্ঞানীরা। মাছগুলো দেখতে চিংড়ি আকৃতির। এমন একটি জায়গায় কীভাবে এই মাছগুলো এলো সেটি নিয়ে গবেষণা করা শুরু করা হয়। পানির নিচে স্কুবা ডাইভাররা গিয়ে এই মাছগুলোকে তুলে আনেন। বিস্তর গবেষণার পর জানা যায়, এটি অ্যাম্ফিপড প্রজাতির একটি মাছ। এরা সাধারণত খোলস ছাড়া হয় আর মৃতপ্রায় গাছ এবং প্রাণীদের অবশিষ্টাংশ খেয়ে বেঁচে থাকে। আর তাই এদের খোঁজ পাওয়া যায় পরিষ্কার পানি থেকে শুরু করে সমুদ্রের গভীর পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবেশে। অ্যাম্ফিপডের প্রাণীরা সাধারণত মেরুদ-বিহীন হয়। এদের যে আবার একদমই মেরুদ- নেই তা নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এদের মিল আছে কয়েক ধরনের মাছ, কিছু সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে।

এই মাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কো তোমিকাওয়া। তিনি বলেন, ‘মাত্র ৩-৫ সেন্টিমিটারের ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি সত্যিই অদ্ভুত। তারা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে বাস করতে পারে। তবে আমরা এটাও আশা করিনি যে, একটি হাঙরের মুখের ভেতর থেকে একটি নতুন প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যাবে।’ গবেষকরা ৩৫৭টি পুরুষ এবং ২৯১টি নারী পোডোসেরাস জিনবির সন্ধান পেয়েছেন হাঙরের মুখ থেকে। দেখে মনে হচ্ছিল তারা সবাই যেন হাঙরের শরীর থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছে। সত্যি বলতে বাসস্থান হিসেবে হাঙর খুব ভালো একটি জায়গা। পরিষ্কার সামুদ্রিক পানির কারণে এদের বেঁচে থাকতেও বেশ সুবিধা হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে কোনো শিকারির হাত থেকে একদম নির্বিঘ্ন থাকা যায় এখানে।’ গবেষকরা নতুন এই প্রাণীটিকে খুঁজে পাওয়ার তিন মাস পর বিশালাকার এই হাঙরটি মারা যায়। তবে এটির মৃত্যুর কারণ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হয়তো সে অনেক বেশি দুর্বল আর ক্ষুধার্ত ছিল



আজকের প্রশ্ন