শনিবার, ২৮ মার্চ ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২০, ০৯:১৯:৪২

বগুড়ায় লাল আলুর বাম্পার ফলন দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

বগুড়ায় লাল আলুর বাম্পার ফলন দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

বগুড়া: চলতি মৌসুমে আবাদ কমলেও আলুর ফলন ভালো হয়েছে বগুড়ায়। এতে সরবরাহ বাড়ায় প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না চাষীরা। তারা বলছেন, যে দাম পাওয়া  যাচ্ছে, তাতে কোনোমতে উৎপাদন খরচ উঠে আসছে। প্রত্যাশিত দাম না পেলে জেলায় আলু আবাদ আরো কমে যেতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি বগুড়া। ২০১১-১২ মৌসুমে এ জেলায় আলু উৎপাদন হয় ১১ লাখ ৭ হাজার ২২৫ টন। পরের মৌসুমে জেলাটিতে আলু পাওয়া যায় ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টন। এরপর থেকে প্রতি বছর আলুর উৎপাদন বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত ছিল গত মৌসুমেও। এ মৌসুমে জেলায় আলু আবাদ হয় ৬৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে, যা থেকে আলু পাওয়া যায় ১৩ লাখ টন। তবে এবার বগুড়ায় আলু আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টরে। এবার আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার টন।

কৃষকরা জানান, গত মৌসুমে ভালো দাম না পাওয়ায় জেলার এবার আলু আবাদ কম হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আবাদ কম হলেও আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। তাছাড়া এবার আলু ক্ষেতে তেমন রোগবালাই না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ জমি থেকে আলু উত্তোলন শেষ হয়েছে।

তারা জানান, ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে আলু সরবরাহ বেড়ে গেছে। এতে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আলু প্রায় আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে খোলাবাজারে ভালো মানের আলু কেজিপ্রতি ২৮ থেকে ৩০ টাকা এবং এর চেয়ে নিম্নমানের আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৬ টাকায়।

ঘোড়াধাপ বন্দর এলাকার আলুচাষী খোকন হোসেন জানান, এবার আলুর দাম কম। চাষের পর হাটে বিক্রি করে কেবল খরচ তুলতে পারছি। এভাবে চলতে থাকলে সামনে আলু চাষ করা যাবে কিনা, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

শেরপুর উপজেলার বেলতা গ্রামের আলুচাষী জানান, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। গত বছরে এ পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করেও লাভ করতে পারেননি। বর্তমান বাজার দেখে মনে হয় না এবারো কিছু পাব। মহাস্থান বাজারে আলু কিনতে আসা আব্দুস সালাম জানান, এ হাটে এবার প্রচুর আলু উঠেছে। তবে নতুন আলুর দাম কম।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে উচ্চফলনশীল জাতের আলু আবাদে এবং জৈবসার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব কারণে জেলায় আলুর উৎপাদন বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহারের কারণে এবার জেলায় আলুর উৎপাদন সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াবে। শিবগঞ্জ, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর উপজেলায় কিছু আলুর ক্ষেত এখনো সতেজ রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমন ধান কাটতে দেরি হয়েছিল। সে কারণে আলু আবাদও দেরিতে শুরু হয়। তবে এবার কোনো রোগবালাই দেখা না দেয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, যারা আগে আলু চাষ করেছেন, তারা আগে আলু তুলেছেন। শেষের দিকে এসে আলুর ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি, কৃষকরা ভালো দামও পাবেন।



আজকের প্রশ্ন