শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০, ০২:৩৩:১০

দেড়শ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত

দেড়শ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত

ঢাকা: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯টি পোশাক কারখানার বিভিন্ন পরিমাণে অর্ডার স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ পরিস্থিতিতে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

রোববার রাতে এক ভিডিও বার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক  বলেন, ‘ভয়াবহ অবস্থা চলছে আমাদের। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন মহাদেশ থেকে সব ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশ আপাতত বালিত বা স্থগিত করছে। বলছে স্থগিত, কিন্তু আমাদের জন্য স্থগিত করা কিংবা বাতিল করা একই কথা। কাজেই সবকিছু মিলিয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯টি কারখানা আমাদের ওয়েব পোর্টালে এন্ট্রি করেছে। এর মধ্যে ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৬ হাজার ৬২২টি পোশাক কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার (১৪৮ কোটি ডলার)।
এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।’

রুবানা হক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে আমরা একটি ওয়েব পোর্টাল করেছি। সেখানে প্রায় ৪ হাজার কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৮৯টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এন্ট্রি দিয়েছে। এটা বাড়তে বাড়তে কোন অবস্থায় যায়, আমরা এখন সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি। এ পরিস্থিতি দেশের পোশাক খাতের জন্যে খুবই উদ্বেগের।

এর আগে রোববার বিকালে সংগঠনটি জানায়, এখন পর্যন্ত ৩৪৭টি কারখানার ৯২৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্যের অর্ডার স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ওয়েবসাইটে ১৮৪টি কারখানার ৫৬১ মিলিয়ন ডলার ও ইমেইলে ১৬৩টি কারখানার ৩৬৫ মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ স্থগিতের তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন, বিশ্বের স্বনামধন্য প্রায় সব বায়ারই ক্রয়াদেশ বাতিল করছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। সেখানে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্রয়াদেশ বাতিলের পরিমাণ বাড়বে।
তারা বলছেন, একদিকে ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে ক্রয়াদেশও আসছে না। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম এই খাতটি। এই অবস্থা আরও কিছুদিন চলতে থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন দেয়াও সম্ভব হবে না। তা হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

এদিকে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের বড় একটি অংশ এখনই কারখানা বন্ধের পক্ষে নয়। অন্য একটি পক্ষ অবশ্য শ্রমিকের সুরক্ষায় গার্মেন্টস বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, আমরা গার্মেন্টস চালু রাখার পক্ষে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি, কারখানা বন্ধ করে দিলেই সমাধান হবে না। বরং বন্ধ করে দিলে তা আরও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি মনে করেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানা বন্ধ করা উচিত।

এই বিভাগের আরও খবর

  বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘের ‘পূর্বাভাস’ ফাঁস, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

  রাজধানীতে ৭ হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা মেলেনি অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার, অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু

  সর্দি-জ্বর নিয়ে সোহরাওয়ার্দীর আইসোলেশনে ভর্তি দুজনের মৃত্যু

  করোনায় মৃত ব্যক্তি থেকে করোনা ছড়ায় না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  মৃত্যুর মিছিলে ৭৮ বাংলাদেশি, যুক্তরাষ্ট্রেই ৫০ প্রবাসী

  দেশে করোনা সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে ৮৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

  চীনের দেয়া আক্রান্ত-মৃতের সংখ্যা ভুয়া: গোয়েন্দা রিপোর্ট

  তথ্য গোপন করে মহামারি এড়ানো যাবে না: রিজভী

  বাংলাদেশে আরও ২ জন করোনা রোগী শনাক্ত, মোট ৫৬

  লাশের শহরে পরিণত হয়েছে নিউইয়র্ক!

  করোনা আতংকের মধ্যেই বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত



আজকের প্রশ্ন