রবিবার, ২৯ মার্চ ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ০৩:৫০:০৯

কতিপয় ছিদ্রান্বেষী প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করছে: কাদের

কতিপয় ছিদ্রান্বেষী প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করছে: কাদের

ঢাকা : করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণ নিয়ে কতিপয় মহল বা কিছু ব্যক্তি সংকট ও সম্ভাবনার কথা বিশ্লষণ না করে বরাবরের মতো ছিদ্রান্বেষী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণে

মিথ্যার ফানুস উড়াননি। তিনি অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বাস্তবতার নিরিখে স্বাভাবিক জীবনের দরজায় কড়া নাড়া অনাকাক্ষিত করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলার রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি, অনাকাক্ষিত সংকট নিরসনে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যম যেখান জাতীয় ঐক্য প্রয়াজন সেখানও তারা (কতিপয় ব্যক্তি বা মহল) বিভদের রাজনীতি করতে চায়।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মোকাবিলা প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত দিক-নির্দশনাগুলা নির্মোহ, নির্মেদ ও আশা জাগানিয়া। তিনি স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দিকনির্দশনা দিয়ে জাতির উদ্দশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাঙালি জাতির নেতা হিসেব করোনা ভাইরাস প্রতিরাধ পূর্ব প্রস্তুতি ও বর্তমান প্রস্তুতিসহ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় বিদেশ ফেরত যাত্রীদর স্কিনিং করা থেকে শুরু করে কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা, হাসপাতাল প্রস্তুত ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে সরকার কর্তৃক সম্পন্ন সকল কার্যক্রমের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনাকাক্ষিত সংকটের মুখে নিশ্চিত সমাধানে যেখান সারা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদশ সরকার সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস মোকাবিলাকে একটি যুদ্ধ ঘাষণা করে সকলকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যায়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির অভিভাবক হিসেবে দেশবাসীক উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে। বাঙালি বীরের জাতি, নানা দুর্যোগ-সংকট বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করেছে”।’

কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, “১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধে মিলিয় আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনা ভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার প্রধানতম দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হবো ইনশাল্লাহ। ঘরে বসেই সচতনতার মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলুন”।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণের একজন হয়েই গণ-দায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সংকটের মোকাবিলা করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সহায়তার কথা সুনির্দিষ্টভাব বলেছেন। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য, নগদ অর্থ প্রদান এবং বিনামূল্য ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কজি দরে চাল সরবরাহের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যার দ্বারা শ্রমিক কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলা আপদকালীন এই সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বাজার যোগান ও চাহিদার সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতির সচলতা কিভাবে ধরে রাখতে হয় সেটা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর তাঁর সরকারের সময় করে দেখিয়েছেন।’

কাদের বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযাগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বরাবরের মতো এ দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ প্রদান করেছেন। দেশের জনগণের একজন হয়েই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আশা করি, দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচষ্টায় আমরা এ সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।’



আজকের প্রশ্ন