মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ১১:৫৫:২০

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের উদ্বেগ, সহিংসতা বন্ধের আহ্বান

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের উদ্বেগ, সহিংসতা বন্ধের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ব্রিটেন এবং সুইডেনের ডাকা নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নির্বিঘ্নে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে  সংস্থাটি।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সহিংসতা ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেছেন, বেসামরিক লোকদের ওপর হামলা ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিগত নির্মূল চলছে বলেও মত দেন তিনি। গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা ‘ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিতে’ পড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে মহাসচিব সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ব্রিটেন ও সুইডেনের প্রস্তাবে বুধবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা। আশঙ্কা ছিল মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে বৈঠকে কোনো প্রস্তাব বা বিবৃতি দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে শেষপর্যন্ত চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে সায় দিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাও ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি মাসের শুরুতে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও চীনের বিরোধিতায় কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি।
বৈঠক শেষে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত তাকেদা আলেমু সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিষদের সদস্যরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’ বৈঠকে সহিসংতার নিন্দা জানিয়ে রাখাইনে মানবিক ত্রাণ তৎপরতা চালানোর অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে জাতিসংঘে ব্রিটেনের উপরাষ্ট্রদূত জনাথন অ্যালেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সহিংসতার অবসান দেখতে চাই। আমরা বার্মায় ও রাখাইনে জনগণের জন্য অবিলম্বে ও ব্যাপকভাবে মানবিক ত্রাণ তৎপরতার সুযোগ চাই। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ওলফ স্কুগ বলেন, তিনি আশা করছেন যে এখন কী করতে হবে সে সম্পর্কে একটি ঐক্যবদ্ধ ফলাফল ও সুস্পষ্ট বার্তা (মিয়ানমারকে) দেয়া হবে। ব্রিটেন ও সুইডেন অং সান সুচিকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করেছে। বৈঠক আয়োজনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন সম্মেলনে যোগদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন সুচি।
 বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের প্রাক্কালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জাতিসংঘের ক্ষমতাধর এ অঙ্গ সংস্থাটি যদি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো কথা না বলে তবে দেশটিতে নিধনযজ্ঞ অব্যাহত থাকবে।
রাখাইন রাজ্যে বর্তমান সেনা অভিযান শুরুর পরও চলতি মাসের শুরুতে একবার নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার কক্ষে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে সেই আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে সাহায্য কর্মীদের রাখাইন রাজ্যে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বানসংবলিত একটি বিবৃতি দেয়ার প্রস্তাবের ব্যাপারে চীনের আপত্তি ছিল। এ কারণে বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি।



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?