রবিবার, ২৭ মে ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ১০:৩১:১৮

ভারত মহাসাগরে বলয় বাড়াচ্ছে চীন

ভারত মহাসাগরে বলয় বাড়াচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর কাছে সুবিধাজনক মূল্যে সাবমেরিন বিক্রি করে এই অঞ্চলকে নিজের বলয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে চীন। এরইমধ্যে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে সাবমেরিন কিনেছে। এছাড়া পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড এই যুদ্ধযানটি কিনতে রাজি হয়েছে।

জাপানী গণমাধ্যম আশাহি শিম্বুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কাছ থেকে এসব দেশ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করায় উদ্বিগ্ন ভারত। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-শক্তিতে ধীরে ধীরে চীনের অগ্রগতিকে ভারতীয় প্রশাসন নেতিবাচকভাবে দেখে।

এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে চীনের স্বল্পমূল্যের সাবমেরিন কেনার সুবিধা প্রথম গ্রহণ করে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে দেশটির কাছ থেকে ডিজেলচালিত মিং-ক্লাস সাবমেরিন কিনতে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সাবমেরিনটি ব্যবহার শুরু করে।

এসব সাবমেরিনের একেকটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলার, যা ইউরোপের দেশগুলোতে তৈরি সাবমেরিনের তুলনায় ১০ ভাগের একভাগ।

২০১৭ সালের এপ্রিলে চীনের দুটি ইউয়ান-ক্লাস সাবমেরিন কেনার চুক্তি করে থাইল্যান্ড। এগুলো মিং-ক্লাসের চেয়ে উন্নত। থাইল্যান্ডের একটি সামরিক সূত্র জানায়, ইউয়ান ক্লাসের একটি সাবমেরিনের মূল্য ৪২৪ মিলিয়ন ডলার।

এগুলো অন্য দেশে তৈরি একই ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম মূল্যের বলে জানান থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল প্রউইত উংসুয়ান। ইউয়ান-ক্লাসের আরো দুটি সাবমেরিন কেনার কথা ভাবছে ব্যাংকক।

২০১৫ সালে পাকিস্তান সফরের সময় চীনা সাবমেরিন কেনার প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাদের কাছ থেকে আটটি সাবমেরিন কিনতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান সরকার। এই আটটি হবে ইউয়ান-ক্লাসের সাবমেরিন, যার মধ্যে চারটি নির্মিত হবে পাকিস্তানে।

আশাহি শিম্বুন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, একুশ শতকে এসে চীন নৌ-শক্তিতে আর প্রতিরক্ষামূলক নীতি অনুসরণ করছে না; বরং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে নিজের বলয় বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন বিক্রির ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি।

বেইজিং নিজেও সোমালীয় জলদস্যুদের তৎপরতা ঠেকাতে ভারত মহাসাগরে মিং ও ইউয়ান-ক্লাসের দুটি সাবমেরিন মোতায়েন করেছে।

সাবমেরিন বিক্রির পাশাপাশি চীন ক্রেতা দেশগুলোকে আরো কিছু সুবিধা দিচ্ছে। যেমন, এই যানটির জন্য ব্যবহার উপযোগী পোতাশ্রয় নির্মাণ করে দিচ্ছে তারা। তাছাড়া যেকোনো সমস্যায় এগুলো মেরামতের দায়িত্বও চীনের। এতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর প্রভাব ধরে রাখা আরো সহজ হবে দেশটির জন্য।

বিভিন্ন চীনা গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, বর্তমানে দেশটির কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার কথা বিবেচনা করছে মিসর ও কিউবা।

চীনের সাবমেরিন বিক্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছে ভারত। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে চীন ভারত মহাসাগরে সাবমেরিন পরিচালনা করছে। এতে বছরে দুইবার ভারত মহাসাগরে তাদের মহড়া হয়ে যায়।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?