বুধবার, ১৯ জুন ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯, ০৪:০১:৩৮

বিজেপির সাফল্য তাহলে এ কারণে

বিজেপির সাফল্য তাহলে এ কারণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কয়েক মাস আগেই ভারতের মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরের আশা ছিল, এই তিন রাজ্যে বিজেপির ফল ব্যাপক খারাপ হবে। কিন্তু তা ভুল প্রমাণ করে আবারও সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি।

আর এতেই ব্যাপক হতাশায় পড়েছেন বিরোধীরা। ভোট গণনায় পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বাড়লেও সরকার গঠনের ধারে-কাছেও যাওয়ার সম্ভাবনা নেই তাদের। নির্বাচনকে সামনে রেখে চন্দ্রবাবু নায়ডু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মায়বতী-অখিলেশরা যে জোট গড়ার চেষ্টায় ছিলেন, তাতেও ব্যর্থ। কারণ নিজেদের রাজ্যেই শোচনীয় ফল তাঁদের। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে এক ধাক্কায় আসন বাড়ছে বিজেপির। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ৫০টির কাছাকাছি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত। অন্ধ্র প্রদেশেও ব্যাপক উত্থান ওয়াইএসআরসিপির।

যদিও বিরোধীদের কাছে কার্যত তুরুপের তাস ছিল উত্তর প্রদেশ। কারণ, আসন সংখ্যায় ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই রাজ্যে দীর্ঘ দিন পর দুই চির-প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি বহুজন সমাজ পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টি এক হয়ে ভোটে লড়েছে। সঙ্গে ছিল অজিত সিংহের আরএলডিও। কিন্তু তাতেও ফল আশানুরূপ নয় বললেই চলে। কারণ উত্তর প্রদেশে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির ৭১টি থেকে আসন কমলেও ৫০ এর কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা। জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ২৫টির মতো আসন।

মহাজোটের আরেক নেতা চন্দ্রবাবু নায়ডু নিজের রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশেও একই অবস্থা। ভোট গণনায় রাজ্যের ২৫ আসনের মধ্যে ২০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস। এছাড়া পাশের রাজ্য তেলঙ্গানাতেও ভাল ফলের আবাস বিজেপির।

এছাড়া এই জোটের উদ্যোক্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যেও ব্যাপক আসন কমছে তৃণমূলের। সেই জায়গায় বিজেপি ১৬টি আসন পেতে যাচ্ছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ২৪টিতে এগিয়ে আছে তৃণমূল। অথচ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে ৩৪টি আসন পেয়েছিল দলটি। অর্থাৎ, ১০টি আসন হাতছাড়া হচ্ছে মমতার দল তৃণমূলের। অন্যদিকে গতবারের চেয়ে এবার বিজেপির আসন বাড়ছে ১৪টি। বাকি দুটিতে জয় পেতে যাচ্ছে কংগ্রেস।

এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভোটের লাইভ ফল থেকে দেখা যায়, এককভাবে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২৯৪টি আসনে। জোটগতভাবে তারা এগিয়ে রয়েছে ৩৪৭টি আসনে। কংগ্রেস এককভাবে এগিয়ে রয়েছে ৫৪টি আসনে। আর জোটগতভাবে তারা এগিয়ে রয়েছে ৮৭টি আসনে। আর অন্য দলগুলো ১০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ভারতে কোন দলকে সরকার গঠন করতে হলে ২৭২টি আসনে জয়ী হতে হবে। বেসরকারি ফলাফলে ইতোমধ্যেই এই সংখ্যা পার করে ফেলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

তবে সবার মনে প্রশ্ন বিজেপি তথা এনডিএর এই বিরাট সাফল্যের কারণ কী? দেশটির রাজনীতিবিদদের মতে, একাধিক কারণেই বিজিপির সাফল্য। প্রথমত, অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করলে গোবলয়ে (বিজেপি অধ্যুষিত রাজ্য) বিজেপির ভোটবাক্সে ব্যাপক ধসের ইঙ্গিত থাকলেও, তা হয়নি। দ্বিতীয়ত, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে নিজেদের আসন ধরে রেখেছে বিজেপি এবং তাদের সহযোগী দলগুলো। এছাড়া বিজেপি অধ্যুষিত যেসব রাজ্যে তাদের সামান্য সংখ্যক আসন কমেছে, তা তারা পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও বিহারে পূরণ করে নিয়েছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?