মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ০৭:১০:৪৯

দিল্লি সহিংসতা: মুসলিমদের আশ্রয় দিয়েছে হিন্দুরাও

দিল্লি সহিংসতা: মুসলিমদের আশ্রয় দিয়েছে হিন্দুরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দিল্লির সহিংসতায় হিন্দু উগ্রবাদীরা পুড়িয়ে দিয়েছে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ধ্বংস করেছে তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু ধর্মকে পেছনে ফেলে প্রতিবেশীর প্রতি ভ্রার্তৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ওই এলাকার হিন্দু পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাটি দিল্লির অশোকনগরে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উগ্রবাদীরা ওই এলাকার মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট পুড়িয়ে দিলে হিন্দু প্রতিবেশীরা সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকশ উগ্র হিন্দুত্ববাদী অশোকনগর এলাকায় ঢুকে পড়ে। তারা মুসলমানদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেখানকার স্থানীয় মসজিদে ওই সময় অন্তত ২০ জন নামাজ পড়ছিলেন। তাদেরকে বেধড়ক পেটানো হয়। তারা মসজিদে ভাংচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা বলছেন, দাঙ্গাবাজরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। তাদেরকে বারবার করে এসব করতে নিষেধ করা হলেও শোনেনি। বেশিরভাগ যুবকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।

অশোক নগরের স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ খেত্রি বলেন, আমরা ব্যাপক ভয় পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমাদের মেরে ফেলা হবে। এখানে মুসলমানদের ছয়টি বাড়ি রয়েছে। তারা সেগুলো ভেঙে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমাদের চেনে বলে কিছু বলেনি।

তিনি আরো বলেন, আমি ২৫ বছর ধরে এখানে বাস করছি। হিন্দু-মুসলমান এক পরিবারের মতো থাকি।

পিন্টু নামে এক হিন্দু যুবক বলেন, আমি হিন্দু হলেও মুসলমানদের নির্যাতন সমর্থন করি না। আমরা কখনোই মুসলমানদের কু-নজরে দেখি না। তাদের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করি।

নিরাজ কুমার বলেন, সহিংসতার সময় আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাইনি। মুসলমানদের সব রকম সহায়তা করেছি। তাদের দোকান ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে আমরা বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে রক্ষা করেছি।

মোহাম্মদ রশীদ নামের আরেক ব্যক্তি জানান, দোকানগুলো পোড়ানোর পর তারা ছয়টি বাড়িকে লক্ষ্য করে আগুন ধরিয়ে দেন। রশিদ বলেন, এ এলাকায় মাত্র ছয়টি বাড়িতেই মুসলমানরা বাস করে। লোকগুলো তা জানত। কারণ তারা শুধু ওই বাড়িগুলোতেই আগুন দিয়েছে। বাকীগুলোতে কিছু করেনি। তিনি আরও বলেন, ওরা আমাদের ঘরের সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে। কিছুই রাখেনি। আমরা এখন ঘরহারা।

রশিদ জানান, বাড়িঘর হারিয়ে তারা যখন রাস্তায় আশ্রয়ের কথা ভাবছিলেন তখনই হিন্দু প্রতিবেশীরা তাদের নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেন। রশিদ বলেন, আমরা এ এলাকায় ২৫ বছর ধরে বাস করছি। এত বছরে কোনোদিন কোনো হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিবাদ হয়নি। আমরা সবাই পরিবারের মতো একসঙ্গে থাকছি।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?