মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১০:২৬:৪০

করোনায় ২১ বছরের তরুণীর মৃত্যু!

করোনায় ২১ বছরের তরুণীর মৃত্যু!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ভাইরাস শুধুমাত্র বয়স্কদের জন্যই আশঙ্কার কারণ। এমনটা যারা মনে করতেন, তাদের জন্য আতঙ্কের খবরই দিল ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল। পত্রিকাটি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ২১ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ তরুণী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আগে থেকে তার কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল না।

যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে কোল মিডলটন নামের ওই তরুণী মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল।

ওই তরুণীর মৃত্যুর পর তার মা ডায়ানা মিডলটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক পোস্ট করেছেন। বাকিমহামশায়ারের এই বাসিন্দা ফেসবুকে বলেছেন, ব্রিটেনের সব মানুষের উদ্দেশে বলছি; ‘যারা এই ভাইরাসকে শুধুমাত্র একটি ভাইরাসই মনে করেন। প্লিজ, এ ভাইরাসটি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করুন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তথাকথিত এই ভাইরাস আমার ২১ বছরের মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে। কয়েকদিনের তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেছে আমার মেয়ে।’

যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৫২৯ এবং মারা গেছেন ৪৬৫ জন। এই তরুণীর মৃত্যুর পর দেশটির অনেকেই ফেসবুকে শোক জানিয়ে পোস্ট করছেন। ওই তরুণীর ফুফু এমিলি মিস্ত্রি নিশ্চিত করেছেন, কোল মিডলটনের কোনও ধরনের শারীরিক অসুস্থতা ছিল না।

করোনা ভাইরাসে তার ভাইয়ের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো পরিবারের বিশ্বাস তছনছ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এই ভাইরাসের বাস্তবতা আমাদের চোখের সামনেই উন্মোচিত হয়েছে। প্লিজ, সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে চলুন। সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করুন। এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে না, মানুষই ভাইরাস ছড়াচ্ছে।

‘জীবন বলে আমরা যেটাকে জানতাম সেটা নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। কিন্তু আমরা যদি এখনই নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা না করি, তাহলে এই অশান্তি এবং যন্ত্রণা আরও দীর্ঘ হবে...।’

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে ইতালিতেই ৬৮৩ জন।
 
এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১ হাজার ২০০ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৭ হাজার ৯১৩ জন।
 
এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৩৩১ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৮ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬২০ জন।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮৭ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৫ জনের অবস্থা সাধারণ। ১৪ হাজার ৭৯২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়।
 
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
 
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
 
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
 
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?