শনিবার, ০৬ জুন ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ০৩:২৪:৩৭

যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীতল যুদ্ধের দামামা নতুন করে শুরু

যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীতল যুদ্ধের দামামা নতুন করে শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীতল যুদ্ধের দামামা কি নতুন করে শুরু হলো? অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে চাপে রাখতে নতুন এক চাল চেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটির আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটে নতুন একটি আইন পাস হয়েছে, যার কারণে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। খবর ব্লুমবার্গ।

অর্থনৈতিক শক্তিমত্তায় প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিতে এরই মধ্যে চীনের ওপর একের পর এক বাণিজ্য শুল্ক চাপিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের শুরুতে ‘ফেজ ওয়ান’ বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে যখন এ বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তাপ কিছুটা প্রশমনের উদ্যোগ নেয়া হলো, ঠিক তখনই আগুনের সলতেতে ঘি ঢেলে দিল নভেল করোনাভাইরাস। মহামারীটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনই দায়ী। কারণ তারা সঠিক সময়ে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেনি। এমনকি তারা সংক্রমণের প্রকৃত তথ্য গোপন করেছে। এসব অভিযোগ তোলার পর ‘ফেজ ওয়ান’ বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টই।

অর্থাৎ করোনাভাইরাস ইস্যু নিয়ে নতুন করে এক দফায় চীনকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর বুধবার মার্কিন পুঁজিবাজারে কোম্পানির তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত আইনটি পাস করার মাধ্যমে নতুন কৌশলে দেশটিকে কোণঠাসা করে রাখতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের চির বিবদমান দুই রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্রেটিক পার্টি একাট্টা হয়েই চীনকে নতুন এ আইনের প্যাঁচে ফেলার বন্দোবস্ত করেছে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি ও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভন হোলেন যৌথভাবে বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। আর সিনেটরদের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

কিন্তু কী বলা আছে এ আইনে? আর যুক্তরাষ্ট্রের আইনের কারণে চীন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? নতুন আইনটিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত হতে চাইলে তাকে আগে মার্কিন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে এমন প্রমাণ দিতে হবে যে তারা কোনো বিদেশী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। যদি কোনো কোম্পানি এমন প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয় অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক কোম্পানি অ্যাকাউন্টিং ওভারসাইট বোর্ড (পিসিএওবি) টানা তিন বছর এ বিষয়ে কোম্পানিটির নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে না পারে, তারা কোনো মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না। যদি এ ধরনের কোনো কোম্পানি এর আগে তালিকাভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে তাদের তালিকাভুক্তি বাতিল করা হবে।

এখন আসা যাক চীনা কোম্পানিগুলো কীভাবে এ আইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয়ে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা আইনটি পাসের পেছনে যে যুক্তি দেখিয়েছেন তা হলো, চীনের বড় কিছু কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার থেকে শত শত কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে। আর এর বেশির ভাগই আসছে বিভিন্ন পেনশন ফান্ড ও কলেজ এনডোর্সমেন্টস থেকে। ভালো রিটার্নের আশায় এসব তহবিল থেকে চীনা কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ করা হয়।

অর্থাৎ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুক্তিই বলে দিচ্ছে, চীনা কোম্পানিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত মার্কিন পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ নিয়ে যায়। আর এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আলিবাবা গ্রুপ, বাইদু ইনকরপোরেশনের মতো টেক জায়ান্টরা। আলিবাবা নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাইদু নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত। এখন নতুন আইনের কারণে মার্কিন পুঁজািবাজরের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা অন্যান্য চীনা কোম্পানি এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তাদের মধ্যে রয়েছে আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল ও মাসায়োশি সনের সফটব্যাংক গ্রুপের তহবিলপুষ্ট বাইটড্যান্স।

এ তো গেল ‘অপরচুনিটি লস’ এবং ভবিষ্যতের লোকসানের কথা। তবে তাত্ক্ষণিক নেতিবাচক ফল ঠিকই দেখতে পেয়েছে মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই চীনা কোম্পানি আলিবাবা ও বাইদু। সিনেটে আইন পাসের খবর প্রকাশের পর গতকাল দুটি কোম্পানিরই শেয়ারদর ছিল পড়তির দিকে, যেখানে সার্বিকভাবে বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি এ আইন পাসের মাধ্যমে নতুন করে শীতল যুদ্ধ শুরু করল? বিলটির উত্থাপক দুই আইনপ্রণেতা অবশ্য এমনটা মনে করছেন না। জন কেনেডি বলেন, ‘আমি নতুন কোনো শীতল যুদ্ধ চাই না।’ অন্যদিকে ভন হোলেন বলছেন ন্যায্যতার কথা। তিনি বলেন, ‘তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সবার জন্যই একই মানদণ্ড থাকা উচিত। বিলটির মাধ্যমে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্য ছিল আমাদের। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, এতে বিনিয়োগকারীরা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

এই বিভাগের আরও খবর

  নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা, নিহত ২১

  ট্রাম্পের ‘দারুণ দিন’ দিয়ে ফের বিতর্ক!

  ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আক্রান্ত ৯ হাজারেরও বেশি, মোট মৃত্যু বেড়ে ৬৬৪২

  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ব্রাজিল ছাড়া করার হুমকি প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর

  সেই ‘ফ্লয়েড স্টাইলে’ এবার গলা চেপে ধরল ভারতীয় পুলিশ!

  শুধু ঢাকাতেই করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি: ইকোনমিস্টের দাবি

  বক্তব্য পাল্টে ফেললো ডব্লিউএইচও, এবার যা বললো মাস্ক পরা নিয়ে

  সরকারি অফিসারকে জুতোপেটা করলেন নেত্রী!

  জেদ্দায় আবারও মসজিদে নামাজ বন্ধের ঘোষণা

  বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব

  আগের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?