রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৯:৫৫:৪৭

‘দেশে দানব সরকার বিরাজ করছে’

‘দেশে দানব সরকার বিরাজ করছে’

ঢাকা: দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা, নির্বাচন, খুন-ধর্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশের স্বনামধন্য অনলাইন কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদিকা ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা।
: বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন?
হেলেন জেরিন খান: বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভয়ঙ্কর। একটি চরম নৈরাজ্যকর অবস্থার মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। রাজনীতি বলতে এখন আর কিছু নেই বাংলাদেশে।বাংলাদেশে এখন যেটা হচ্ছে সেটা হল জোড় যার মুল্লুক তার। আমিত্যের রাজত্ব চলছে এখন দেশে।একনায়কতন্ত্র চলছে বাংলাদেশে।কাজেই এখানে কারো কোনো বাক স্বাধীনতা নেই, ভোটের স্বাধীনতা নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ের কোনো জায়গা নেই।

৩০ লাখ নর নারীর রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি তার যে মূল লক্ষ্য ছিলো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু আজ সেই গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মানুষের ভোট দেয়ার কোনো অধিকার নেই। নির্বাচনের নামে দেশে চলছে প্রহসন, খুন খারাপি, কেন্দ্র দখল, কারো পকেট ছিনতাই, ভোটারদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে আক্রমণ করা। এই রকম একটা নৈরাজ্যকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।

আজকে দেশে যে বন্যা হয়েছে তাতে তো আগামীতে খাদ্যের অভাব দেখা যাবে কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছে দেশে যথেষ্ট খাদ্য মজুদ আছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশে খাদ্যের অভাব দেখা যায়।তারা যখনই ক্ষমতায় আসে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে আর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

২০০৮ সালে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দিব সেই শেখ হাসিনাই ক্ষমতার আসার পর সর্ব প্রথম ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

: সুপ্রিম কোর্টের দেয়া ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল নিয়ে বিএনপির অবস্থান কি?
হেলেন জেরিন খান: এ রায় নিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের দলের মহাসচিব। যুগ্ম মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেত্রীবৃন্দ বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের দলের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ রায় নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট। শুধু বিএনপি নয়, কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া আপামর জনসাধারণের মনের কথা উঠে এসেছে রায়ের মাধ্যমে। বিশেষ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে যে বলা হয়েছে,বাংলাদেশে এখন একটা পঙ্গু সমাজ ব্যবস্থা বিরাজ করছে।যেখানে মানুষ ভালো চিন্তা করতে পারে না। ক্ষমতা ও দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। আমি মনে করি এটা বাংলাদেশের মানুষের মনের কথা। দেশের ১৬ কোটি মানুষ যেটা সব সময় অনুভব করে সেগুলোই এ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি এই রায়ের মধ্য দিয়ে যে বলা হয়েছে একটা দানব সরকার এখানে বিরাজ করছে।দানব তো কখনো রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না। তাই এই দানবরা পদত্যাগ করুক এটাই বিএনপির দাবি।বিএনপি সব সময় একটাই দাবি করে আসছে যাদের কাছে আজ মানুষ নিরাপদ নয়,মানুষ আজ তাদের ভোট দিতে পারছে না। গুম, খুন, শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে সেই সরকারের পদত্যাগ দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী বলেন, এ্ই যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে ঠিক একইভাবে এ রায়ের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগকেও ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল। তাই প্রধান বিচারপতিসহ যে সাত জন মিলে যে রায় টা দিয়েছেন সেটা যুগান্তকরী।যতদিন এই বিচারপতি বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের মানুষ তাকে স্বরণ করবে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে তিনি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আমরা অবশ্যই এটাকে সাধুবাদ জানাই।

মহিলা দলের এই নেত্রী আরো বলেন, বিএনপি তো আন্দোলনের মধ্যেই আছে। ২০০৮ সালে যে নির্বাচন টি হয়েছে।তখনও আমরা বলেছি এটি একটি বির্তকিত নির্বাচন। তখন থেকে আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির যে নির্বাচান এটা তো কোনো নির্বাচনই হয়নি। এ সব বিষয়ে তো বিএনপির আন্দোলন চলছেই। এ আন্দোলন এক সময় এমন একটা জায়গায় দাঁড়াবে যে সরকার তখন পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে। সরকারের পতন হবে,তখন সেটিই বাংলাদেশের মানুষ দেখবে। আমাদের আন্দোলন আছে, চলছে, চলবে আগামীতে আরো বেগবান হবে এই আন্দোলন।

: সহায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির ভাবনা কি?
হেলেন জেরিন খান: সহায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত। বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে সেটি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু স্বাধীন নির্বাচন হতে যা যা করা দরকার বিএনপি তাই তাই করবে। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, বাংলাদেশের মানুষ যেন সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোট দিতে পারে বিএনপি সব সময় এটাই প্রত্যাশা করে।যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে না পারবে বিএনপি ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ করে যাবে।

: আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন কিনা ?
হেলেন জেরিন খান: ইচ্ছা তো আছে জণগনের সেবা করা।গতবারই নমিনেশন পেয়েছি নির্বাচন করেছি।এখন দল যেটা ভালো মনে করবে। আমিও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি।যদি দল সিদ্ধান্ত দেয় যে নির্বাচন করতে করবো। জণগনের সেবা করতে চাই।

: মহিলা দলের মধ্যে কোনো কোন্দোল আছে কিনা?
হেলেন জেরিন খান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা সবাই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। আমরা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকব। আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দোল নেই। সম্মিলিতভাবেই কাজ করছি।

 



  0

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?