শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০১৭, ০১:৫৮:৫৯

গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধার করা হলো মাতৃহারা লাবণীকে

গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধার করা হলো মাতৃহারা লাবণীকে

ঢাকা: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের আইতলা গ্রামের মাতৃহারা শিশু লাবণীকে (৭) গোয়াল ঘরে আটকে রাখতো তার সৎ মা, বাবা ও দাদী। বিষয়টি জানতে পেরে সমাজসেবা অধিদফতরের সহায়তায় শনিবার দুপুরে পুলিশ গোয়াল ঘর থেকে লাবণীকে উদ্ধার করেছে।

একই সঙ্গে শিশু লাবণীর প্রতি অবহেলা ও তাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তার সৎ মা রুপা বেগম (২০), বাবা আফজাল খান (৪৬) এবং দাদী মর্জিনা বেগমকে (৬৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাঠকর্মী (ডুমুরিয়া ইউনিয়ন) আফছার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিকেলে আদালত গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠিয়েছেন এবং লাবণীকে খুলনার শেখ রাসেল পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আফজাল বছরখানেক আগে তার প্রথম স্ত্রীকে মানসিক প্রতিবন্ধী দাবি করে তালাক দিয়ে রুপা বেগমকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই সন্তান আব্দুর রহমান (১৫) ও লাবণী খান। লাবণীর মা বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন। মাস খানেক তিনি মারা যান।

আফজাল খান তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে আনার পর শিশু লাবণীর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে লাবণীকে তারা নিজেদের সঙ্গে না রেখে রাত-দিন বাড়ির গোয়াল ঘরে রশি দিয়ে বেঁধে তালাবদ্ধ করে রাখতে থাকে। লাবণীর মাকে তালাক দেয়ার পর তার মা তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবা নিয়ে যেতে দেয়নি।

সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পায়। সেটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলে শনিবার সমাজসেবা অধিদপ্তর খুলনার প্রবেশন অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে শিশু লাবণীকে উদ্ধার করেন।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে নির্যাতন এবং গোয়াল ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি ফেসবুকে দেখে তিনি তাকে উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করেন। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের অপরাধে সৎ মা, বাবা ও দাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আসামি করে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তিনি পুলিশ পাঠিয়ে শিশুকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা এসআই কেরামত আলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?