বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০২:০১:৩৪

সম্পর্ক নষ্ট নয়, বরং ভালোবাসাকেই বাড়াক 'দূরত্ব'!

সম্পর্ক নষ্ট নয়, বরং ভালোবাসাকেই বাড়াক 'দূরত্ব'!

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রেম-ভালোবাসা জীবনের এক সৃষ্টি। এই একই প্রেম কারো জীবনে আশীর্বাদ আবার কারো জীবনে অভিশাপ হিসেবে পরিগণিত হয়। যুগে যুগে প্রেম নিয়ে লক্ষাধিক কাব্য-গল্প রচিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন আর্টিকেল ও ম্যাগাজিনের পাতায় ও প্রেম সম্পর্কিত নানা টিপস উঠে এসেছে। কিন্তু ভালোবাসা যখন দূরত্বের, দুটি মানুষ যখন চাইলেও একসাথে থাকতে পারেন না, তখন কিন্তু পুরো ব্যাপারটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। জীবন বা চাকরির প্রয়োজনে অনেক সময়েই হয়তো দেখা যায় প্রিয় মানুষটির সাথে আমাদের হয়ে দাঁড়ায় অনেকটা দূরত্ব। দেখা হচ্ছে অনেকদিন পর পর, হয়তো পৃথিবীর দুই প্রান্তে থেকে সংসার করতে হয় দুজনকে। এমন সময়ে  সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্কের জন্য কী করবেন?    

ভয়ের কিছু নেই, দূরত্ব থাকলেও সম্পর্ক হতে পারে মধুর। কীভাবে, চলুন আজ সেটাই জেনে নিই।

১। প্রত্যেকটা দিন ছোটখাটো মধুচন্দ্রিমার করে তোলা সম্ভব। অনেকদিন পর দেখা হলে কোথায় কোথায় যাবেন, কী কী করবেন সেটি পরিকল্পনা করুন। দেখা হওয়ার পর অবশেষে আপনাদের প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে শুরু করুন। দেখবেন, জীবনটা কি সুন্দর।

২। আমরা কেউই সমস্যার বাইরে নই। কিন্তু এগুলো নিয়ে ঝগড়া না করে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করতে পারেন ফোনে কিংবা ভিডিও কলে।

৩। অনেক সময় পাশে বসে থাকা মানুষটার মনের কথাও আমরা বুঝে উঠতে পারিনা কিন্তু এক্ষেত্রে স্কাইপ, ভাইবার এগুলোতে যোগাযোগ করে প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্য পেতে পারেন আপনি। দুরত্ব এক্ষেত্রে আপনাকে জোর করবে অপর পাশের মানুষটির মনের অবস্থা বুঝতে পারার জন্য।

৪। হাতে লেখা চিঠি সবচেয়ে আদুরে হতে পারে দুরত্বমাখা সম্পর্কের ক্ষেত্রে। আপনি চিঠি কতোটুকু ভালোবাসেন  তা প্রিয় মানুষটিকে জানান এবং তার কাছে চিঠির আবদার করুন।

৫। এমন সম্পর্কে আপনি খুব শক্তিশালী অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবেন কথার মাধ্যমে। ইচ্ছে হলেই যেহেতু তার সান্নিধ্যে যেতে পারছেন না, সেহেতু এটি আপনার সম্পর্কের উন্নয়নে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬। স্বাধীনতা খুব জরুরী এমন সম্পর্কগুলোতে। জ্বি, আপনি প্রিয় মানুষকে খুব ভালোবাসেন কিন্তু স্বকীয়তা বলতেও একটা ব্যাপার আছে, তাই না? নিজের অবসর সময়ে শখের কাজগুলো করে, পরিবার ও বন্ধুদের সময় দিন। দিন শেষে বেশ শান্তি অনুভব করবেন।

৭। একে-অপরকে বেশ ভালোভাবে বুঝতে, জানতে ও পড়তে পারবেন এহেন সম্পর্কে। প্রিয় মানুষটির পছন্দ, অপছন্দ, অবসর, শখ, লক্ষ্য এগুলো নিয়ে কথা বলার অধিক সুযোগ পাবেন।

৮। আপনাদের আশেপাশে যদি এমন জুটি দেখেন যে তারা পরষ্পর থেকে দূরে বাস করেন, খুব খেয়াল করে দেখবেন যে তারা খুব ধৈর্যশীল। তাদের সম্পর্কের বিধানই তাদের ধৈর্য ধরা শিখিয়ে দেয়। বেশ ইতিবাচক একটি দিক, তাইনা?

৯। নিয়মানুবর্তিতার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দিন দেশে  একটি নির্দিষ্ট সময়ে সকল কাজ গুছিয়ে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে আড্ডা দেয়ার সময় বের করে নিন।

১০। একটি সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্কের বাইরেও অনেক কিছু। সম্পর্কে সফল হওয়ার জন্য আপনাদের দু'জনের মধ্যে অবশ্যই আত্মিক মিল থাকা জরুরী। তা না হলে কখনোই স্থায়ী একটি সম্পর্কে যেতে পারবেন না আপনারা। তাই দূরে থাকার সময়ে মজবুত করুন আত্মার সম্পর্ক।

সুতরাং, যারা এতোদিন সম্পর্কে দুরত্বকে এক ধরণের অভিশাপ মনে করতেন তারা আজ থেকে এটিকে আশীর্বাদস্বরুপ ভাবার চেষ্টা করুন। সর্বোপরি, ধৈর্যশীল হোন এবং নিজের ওপরে বিশ্বাস স্থাপন করুন। শুভকামনা রইলো।

সূত্র: HuffingtonPost, Thought Catalog , Life Hack



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?