মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯, ১১:৫০:১৭

সাংবাদিক শুনেই ‘ক্ষেপলেন’ এএসআই!

সাংবাদিক শুনেই ‘ক্ষেপলেন’ এএসআই!

ঢাকা: ‘এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আপনি কি করেন? কার্ড দেখান। ওহ, এই কার্ড! সাংবাদিক! হু, এসব কোনও পত্রিকা হলো! এসব পত্রিকা মানুষ পড়ে?’

সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর এভাবেই ‘ক্ষেপে উঠলেন; হাতিরঝিল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) প্রদীপ বর্ধণ।

শনিবার (১৮ মে) বিকেলে রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বের ঢালে মন্দিরের সামনের ফুটপাতে এভাবেই এএসআই প্রদীপের হেনস্তার শিকার হয়েছেন ‘দৈনিক সময়ের আলো’ পত্রিকার অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক মোস্তফা ইমরুল কায়েস।

শুধু তাই নয়, তাকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন সেই এএসআই। তবে উপস্থতি লোকজনের কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি।

এএসআই প্রদীপের ভাষ্যমতে, দেশে সকল অবদান শুধু তার একার ও পুলিশ বাহিনীর, অন্যরা দেশের জন্য কোনও ধরনের অবদান রাখেন না। সকলেই (অন্য পেশার লোকজন) শুধু খায় দায় আর ঘুমায়। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবগত করলে তার বিরুদ্ধে তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইমরুল কায়েস প্রাইম নিউজকে জানান, শনিবার বিকেলে তার অফিসিয়িাল মিটিং থাকায় তিনি তড়িঘড়ি করে যাচ্ছিলেন। পথে রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম ঢালের নিচে মন্দিরের সামনের ফুটপাতে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার পাশেই বসেছিলেন তিন পুলিশ সদস্য। তাদেরই একজন তাকে বলেন, ‘এই আপনি এখানে দাঁড়াইছেন কেন? যান অন্যখানে চলে যান’। ওই পুলিশকে তখন তিনি (সাংবাদিক) পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছি, এ কারণে এখানে দাঁড়িয়েছি’। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সঙ্গে থাকা এএসআই প্রদীপ বর্ধণ ওঠে আসেন এবং হাত ধরে টান মারেন। বলতে থাকেন, ‘এদিকে আনেন, আপনি কি করেন? দেশের জন্য তো আপনাদের কোনও ধরনের অবদান নাই। সবটাই আমাদের করতে হয়। আপনাদের নিরাপত্তাও আমাদের দিতে হয়’।

এসআইয়ের এমন কথা শুনে ইমরুল কায়েস তখন প্রতিবাদ করে বলেন, ‘শুধু আপনারাই দেশের জন্য সব করেন, আর আমাদের মত আমজনতার কোনও অবদান নাই না? সবার অবদানেই আজকের এই বাংলাদেশ, বুঝলেন’। সাংবাদিক ইমরুলের এমন প্রতিবাদ শুনে এএসআই প্রদীপ এবার ক্ষেপে উঠে বললেন, ‘আপনি কি করেন?’ জবাবে ইমরুল বলেন- ‘ছাত্র। কার্ড হাতে দিলাম’। এবার তিনি সাংবাদিকতার কার্ড দেখে তাচ্ছিল্য করা শুরু করলেন। বলতে লাগলেন, ‘এই পত্রিকা কেউ পড়ে? বাজারে কেউ চিনে এই পত্রিকা? আজ জানেন কি দিন? কেন আপনি এখানে দাঁড়াবেন? আপনি তো কিছুই জানেন না’। তাচ্ছিল্যভরে এমন খিস্তিখেউর করে তাকে অপমান করতে থাকেন।

বিশেষ করে সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়ার পর তার গলার সুরটা বেশি বেড়ে যেতে থাকে। ওই সময় সাংবাদিক ইমরুল অফিসে যাবেন বলে এএসআই প্রদীপকে জানালে তিনি বলতে থাকেন- ‘আজ আপনার যাওয়া হবে না, আপনাকে থাকতে হবে, থানায় যেতে হবে’। পরে ইমরুল কায়েস কোনও প্রকার তর্কে না জড়িয়ে সেখান থেকে দ্রুত চলে আসেন এবং বিষয়টি হাতিরঝিল থানার ওসিকে জানান।

ওসি ইমরুলকে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ওই এসআইয়ের এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।  

এ ঘটনায় এএসআই প্রদীপ বর্ধণের ফোন নাম্বারে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. ফজলুর করিম বলেন, ‘তাকে (সাংবাদিক ইমরুল) অভিযোগ দিলে বলেছি, অভিযোগ পেলে তার (এএসআই প্রদীপ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে গত ৪ মে রাতে হাতিরঝিলে কয়েকজন মিডিয়া কর্মী আড্ডা দিতে গিয়ে এই এএসআইয়ের হুমকি ধামকির শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ইসতিয়াক ইমন জানান, তারা বন্ধুরা মিলে রাতের রাউন্ড ডিউটি শেষ করে হাতিরঝিলে মিলিত হয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় সেখানে আসেন এএসআই প্রদীপ বর্ধণ। এসেই বলেন, ‘তোমরা এখান থেকে চলে যাও, না হলে থানায় নিয়ে যাব’। পরক্ষণই আবার এসে তিনি তাদের কোনও ধরনের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সকলকে মারার হুমকি দিতে থাকেন। সবশেষে আড্ডা দেয়া তরুণদের পরিচয় গণমাধ্যমকর্মী জেনে দ্রুত সটকে পড়েন।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এভাবে প্রদীপ বর্ধণ প্রায়ই হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা তরুণ-তরুণীদের হয়রানি ও হেনস্তা করেন। অনেক সময় তাদের কাছে টাকা পয়সাও নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি হাতিরঝিলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গেও বাজে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ আছে।

হাতিরঝিলকে কেন্দ্র করে পুলিশি পাহারার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের হাতে প্রায়ই অনেক দর্শনার্থী হেনস্তার শিকার হন। এছাড়াও অনেক তরুণ-তরুণীকে জিম্মি করে হাতিরঝিল থানার কিছু পুলিশ সদস্য হাতঘড়ি, অলঙ্কার ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে।  

সর্বশেষ গত এপ্রিলে জনি নামের এক পাঠাও চালক হাতিরঝিল থানা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) হাতে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির শিকার হন। পরে তিনি তার পরিবারকে ডেকে নিয়ে এসে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পান। যদিও ঘটনাটি তখন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

  পাকিস্তানে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

  সময় বাড়ল অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধন আবেদনের

  দিল্লিতে মধ্যরাতে নারী সাংবাদিককে গুলি

  তিতুমীরের রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আশিক, সম্পাদক শাওন

  অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধন: আবেদনের শেষ সময় ৩০ জুন

  ‘হলোকাস্ট নিয়ে ইহুদিদের দাবি মিথ্যা’ বলায় চাকরি হারালেন ২ সাংবাদিক

  এসএ টিভির সিওওসহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  সাংবাদিক শুনেই ‘ক্ষেপলেন’ এএসআই!

  ওয়েজবোর্ড ঘোষণা না হলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা সাংবাদিকদের

  বেতন-ভাতার দাবিতে চ্যানেল ৯ এর সাংবাদিকদের স্মারকলিপি

  শমীকাণ্ডে বিএফইউজে-ডিইউজের বিবৃতিতে ‘আপত্তিকর বাক্য’

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?