শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৮, ১১:২৪:৪৪

‘আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক যেভাবে শয়তানের চোখ থেকে রক্ষা করবেন’

‘আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক যেভাবে শয়তানের চোখ থেকে রক্ষা করবেন’

সাদাফ ফারুকী : ‘হে আল্লাহ, তাদের দুজনকেই শয়তানের চোখ থেকে রক্ষা করুন।’

ইউটিউবে নিজস্ব ব্লগে প্রকাশিত ভিডিওতে এক মুসলিম তরুণ দম্পতির প্রেম নিবেদনের দৃশ্য এবং এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের বিরূপ মন্তব্যের কারণে আমি তাদের জন্য এই দোয়া করেছিলাম।

আমি দেখতে পেয়েছিলাম তাদের ইউটিউব চ্যানেলে তিন লাখেরও অধিক নিবন্ধনকারী রয়েছে। আমি জানি প্রতিদিন তাদের আপলোডকৃত প্রত্যেকটি ভিডিও হাজারেরও বেশি দর্শকের নিকট পৌঁছে। আমি একদিন তাদের আপলোডকৃত একটি ভিডিওতে একজন নারীর করা একটি মন্তব্য দেখতে পেয়েছিলাম, যেটা ছিল এরকম- ‘আমার স্বামী এবং আমি কখনো তোমাদের মত করে একজন আরেকজনের সাথে কৌতুক করিনি। আমাদের বিবাহের পর থেকে, এমনকি তিনি আমার সাথে উন্মুক্তভাবে কখনো কথাও বলেনি।’

স্বাগতম বর্তমানের নতুন ডিজিটাল দুনিয়ায় যেখানে আপনার অনুসরণকারীরা আপনার প্রতিদিনকার কাজ কর্মের খবর পেয়ে যাবে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে, আর অন্যদিকে আপনার রক্তের সম্পর্কীয় পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কে কিছুই জানবে না।

এই যুগে বেশির ভাগ ৪০ উর্ধ্ব মানুষরা ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ ১০০ শব্দের হৃদয়গ্রাহী একটি লিখার সাথে একটি আলোকচিত্র পোস্ট করে এবং তাদের আত্মীয় স্বজনের ফোন নম্বরে ফোন করে তাদের খোঁজ খবর নেয়।

এটি এমন একটি যুগ যেখানে কিছু কিছু যুবক-যুবতী হয়তো তাদের চাচাতো ভাই বোনদের নামও জানে না, অন্যদিকে অনলাইনে তাদের ৫ জনেরও অধিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকে এমনকি তাদের সাথে হয়তোবা সরাসরি কোনদিন দেখাও হয়নি।

এইরকম একটি ডিজিটাল যুগ আমাদের সন্তানদের জন্য অপেক্ষারত যেখানে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে ‘যুগ সন্ধিক্ষণের’ শিশু হিসাবে।

আমি নিশ্চিতভাবেই আরেকটি বিষয় জানি আর সেটি হচ্ছে তাদেরকে একটি বিষয় থেকে রক্ষা করতে হবে যা আরবী শব্দে ‘এইন’ এবং বাংলাতে যার অর্থ দাঁড়ায় ‘সুনির্দিষ্ট চোখ’ যাকে অবশ্য নজরও বলা যায়। এটা এ জন্য যে তারা হয়ত এমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিছু লাইক, কমেন্টের জন্য সোসাল মিডিয়াতে পোস্ট করবে যা তাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

‘সুনির্দিষ্ট চোখের অস্তিত্ব’
এ কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই যে এই পৃথিবীতে এমন ধারণাতীত কিছু অসুস্থতা এবং দুঃখ-কষ্ট রয়েছে যাতে অনেক মানুষই আক্রান্ত হন, কিন্তু এ বিষয়ে ডাক্তার বা বিজ্ঞানীদের কাছে কোনো চিকিৎসা নেই, কোনো যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা নেই।

সুনির্দিষ্ট চোখের কারণে সত্যি সত্যিই শারীরিক এবং মানসিক দুঃখকষ্টের উৎপত্তি হতে পারে। যার প্রভাব এমন অবস্থায় পৌঁছে যে গতানুগতিক চিকিৎসা বা মেডিটেশন থেরাপির মাধ্যমে এর থেকে সুস্থতা লাভ করা যায় না।

এই চোখের শিকার হওয়া ব্যক্তি তার জীবনে ‘নীচের দিকে’ নামতে থাকে তার পরিবারের বন্ধুদের সামনে, তার স্বাস্থ্য হানি হতে থাকে, সুখ উবে যায়, তার ধীরে ধীরে একটি বৃক্ষে পরিণত হয়, হতাশা এবং রোগ শোক তাদের উপর ঝেঁকে বসে। তার আশেপাশের লোকজন চিন্তা করতে থাকে ‘তার কি হয়েছে এবং কিভাবে এ থেকে তাকে মুক্তি দেয়া যায়?’ ডাক্তার এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। একমাত্র ইসলামী শিক্ষাই এই সমস্যার সমাধান দেয়।

অধিকন্তু একজন মুসলিমের জন্য উত্তম হচ্ছে ‘Prevention is better than cure’ এই পথ অনুসরণ করা এবং এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো সুন্নাহ।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) তিনি আল্লাহর রাসুলকে (সাঃ) বলতে শুনেছেন- ‘দুষ্ট চোখের প্রভাব রয়েছে এবং এটি সত্য। যদি এমন কিছু থেকে থাকে যা ভাগ্যকে প্রভাবিত করে তবে তা হচ্ছে (দুষ্ট চোখের প্রভাব)।’ সহি মুসলিমঃ ২১৮৮।

উপরোক্ত হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে ওই চোখ কতটা ক্ষতিকর।

আবু ইবনে সাইদ আল খুদরী(রাঃ) বলেন, ‘সুরা আল ফালাক এবং সুরা আল নাস নাজিল হওয়ার আগে রাসুল (সাঃ) সবসময় দুষ্ট জিন এবং শয়তানের চোখ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। পরবর্তীতে এই সুরাগুলো নাজিল হওয়ার পর তিনি এই সুরাগুলো পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।’

উপরের হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, খারাপ চোখ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুরআনের শেষ দুই সূরা নিয়মিত পড়তে হবে।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘নবী(সাঃ) আমাকে আদেশ দেন (বা অন্য যে কাউকে) রুকাইয়া করার জন্য যদি আমি বুঝতে পারি সেখানে কোনো দুষ্ট চোখের (বিপদের আশংকা) প্রভাব রয়েছে।’

রুকাইয়া বুঝায় কুরআনের কোনো অংশ তিলাওয়াত করে ফুঁ দেয়া। পবিত্র কুরআন খুবই কার্যকরভাবে শয়তানের দুষ্টু চোখ থেকে এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করে।

উপরোল্লেখিত রাসুল(সাঃ) এর সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি একজন মুসলিমের উচিত সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করা যখন তারা মানুষদের সাথে কথা বলবে এবং তাদের নিকটবর্তী হবে তারা যেন খোলাখুলিভাবে তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা যে অনুগ্রহ করেছেন তা প্রকাশ না করে দেয়। এটি মুসলিমদের অনলাইন এবং সোসাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

যখন আল্লাহ আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়ে, বিশেষত যাদেরকে গভীর জ্ঞান দেয়া হয়েছে যা অর্জন করা অনেক কঠিন এবং যা অনন্য তখন আমাদের উচিত আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা এবং অবিবেচনা প্রসূত এসব প্রকাশ না করে দেয়া।

দুইজন মানব মানবীর সুখী দাম্পত্য জীবন আল্লাহ প্রদত্ত রহমতেরই প্রকাশ যাতে তারা ইসলামের পথে থাকতে পারে, যেটি সবময়ে সফল থাকে। এমনকি মাঝে মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য হওয়ার পরেও, আর এইরকম সুখী দাম্পত্য জীবন হচ্ছে উপরোল্লেখিত আল্লাহর বিশেষ রহমতের মতোই।

সুতারাং, সত্যের পথে থাকতে হবে, ইসলামী জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এবং এসবের মাধ্যমে ভালো কাজ করার মত দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এর মাধ্যমে সত্যের পথে চলা দম্পতি হতে হবে যাতে একটি সুখী দাম্পত্য জীবন, সুন্দর সন্তানসন্ততি এবং জীবনে স্পষ্ট শান্তি আসে। অনুরোধ থাকবে ‘দুজনের সেলফি’ তুলে সোসাল মিডিয়াতে পোস্ট না করার জন্য।

সোসাল মিডিয়ায় কিছু দেখানোর চাইতে প্রার্থনা করুন একটি স্থায়ী দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের জন্য।

সূত্রঃ পাকিস্তানের করাচি ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার, লেখিকা, ব্লগার সাদাফ ফারুকীর কলাম থেকে।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?