সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৮, ১০:০৪:২০

ওরাংওটাংকে বছরের পর বছর শেকলে বেঁধে ধর্ষণ!

ওরাংওটাংকে বছরের পর বছর শেকলে বেঁধে ধর্ষণ!

ঢাকা : সভ্য যুগে বাস করেও অসভ্যতা আমাদের মাঝে মাঝে থমকে দেয়। কখনো কখনো সে অসভ্যতা আমাদের মানবজীবনকে প্রশ্নবিদ্ধও করে। তেমনই একটি ঘটনার কথা জানা গেল আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে; যেখানে উঠে এসেছে কীভাবে একটি নিরীহ জীবকে বছরের পর বছর নির্যাতিত হতে হয়েছে ধর্ষণের মতো বিষয়ে।

আনন্দবাজারের ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের জঙ্গলে জন্ম হয়েছিল পনি নামের এক ওরাংওটাংয়ের। কিন্তু শিশুকালেই তাকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কিছু দুর্বৃত্ত। পরে তাকে পতিতালয়ে নিয়ে গিয়ে যৌনদাসীতে পরিণত করে। সেখানে প্রতিদিন তার গায়ের পশম কামিয়ে দেওয়া হতো আর পরানো হতো গয়নাগাটি। গায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো পারফিউম। তারপর দালালরা টাকার বিনিময়ে পাশের তেলের কারখানা থেকে আসা শ্রমিকদের তার কুঁড়েঘরে ঢুকিয়ে দিত। শেকলে বেঁধে রেখে ইচ্ছেমতো তার ওপর নিজেদের যৌন লালসা মিটিয়ে যেত একের পর এক মানুষ। সেই অবস্থাতেই দিন কাটছিল তার।

সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে ১৫ বছর লেগে যায় তার। ব্রিটেনের ‘দ্য সান’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ১৯৯৪ সালে মা-বাবাহারা ওরাংওটাংদের উদ্ধারে নামেন মিশেল ডেসিলেটস নামের এক শিক্ষিকা। বোর্নিওতে ওরাংওটাংদের শুশ্রূষার একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখানে ২০০৩ সালে পনিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় খুবই শোচনীয় অবস্থা ছিল পনির। রোজ পশম তুলে দেওয়ায় মশা-মাছি এবং পোকামাকড়ের কামড়ে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে শেকল বাঁধা অবস্থায় লালসার শিকার হতে হতে মানুষের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে সে। তাই কোনো মানুষকে কাছে আসতে দেখলেই ভয়ে সিঁটিয়ে যেত সে। সে অবস্থা থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে সংস্থাটি যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যায়। বর্তমানে সে স্বাভাবিক।

পনিকে বন্দীদশা থেকে উদ্ধারের অভিযানটিও ছিল সাংঘর্ষিক। তাকে মুক্ত করতে ৩৫ জনের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। গ্রামবাসীরা পুলিশ বাহিনীকে প্রথমে তাদের এলাকায় ঢুকতেই দেননি; এ কারণে যে, পাছে তাদের আয়ের উৎসটি হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে রীতিমতো সংঘর্ষের পর পনিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তারপর থেকে তার চিকিৎসা এবং শুশ্রূষা চলছিল।

অবাক করা মতো তথ্য হলো, পনিকে উদ্ধার করা গেলেও, তার মতো অসহায় জীবদের নিয়ে অনেক দেশেই দেহ ব্যবসা চালানো হয় রমরমিয়ে। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও দরাদরি চলে। তাতে একেকটি জন্তুর দাম ওঠে লাখ লাখ টাকা।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?