শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৯, ০৭:৫৬:২৪

প্রতি লিটার ২ হাজার টাকা! গাধার দুধেই কোটিপতি

প্রতি লিটার ২ হাজার টাকা! গাধার দুধেই কোটিপতি

কথায় বলে- গাধা পেটালে নাকি ঘোড়া হয় না, তার মানে গাধা এতটাই অবহেলার জিনিস! তবে এখন আর গাধা পিটিয়ে ঘোড়া তৈরির বোধ হয় প্রয়োজন নেই। কারণ প্রতি লিটার গাধার দুধের দাম প্রায় দুই হাজার টাকা। আর গাধার দুধ বেচেই কেউ হয়েছেন কোটিপতি।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, দেশটিতে গত কয়েক বছরে চমকে দেওয়ার মতো বাজার তৈরি হয়েছে গাধার দুধের! লিটারে যা ২,০০০ টাকা। গবেষণায় জানা গেছে, গাধার দুধে ফ্যাট কম। রয়েছে ভিটামিন, খনিজ। মানুষের দুধের সঙ্গে অনেক মিল। তাই ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে চাহিদা তৈরি হয়েছে এর। যে কারণে আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে এই দুধ কিনতে হুড়োহুড়ি পড়ে।

সেই ঝোঁক বাড়ছে ভারতেও। একাধিক সংস্থা গাধার দুধের প্রসাধনী তৈরি করছে। প্রয়োজনেই তারা গাধা পালকদের (যাদের অধিকাংশই যাযাবর) ছোট-ছোট গোষ্ঠী গড়েছে।

আনন্দবাজার বলছে, কেরালা রাজ্যের এর্নাকুলামের অ্যাবি বেবি যেমন- মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট পড়েছিলেন। এমন ব্যবসায় নামতে চেয়েছিলেন যেখানে বেশি প্রতিযোগিতা নেই। নেট-বইপত্র ঘেঁটে গাধার দুধের ব্যাপারটা মনে ধরে। শেষে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রামমঙ্গলমে গাধার খামার করলেন। গড়লেন ছোট কারখানাও। ২০১৭ সালে শুরু ব্যবসা। গাধার দুধ থেকে তৈরি ক্রিম ও শ্যাম্পু দিয়ে। আর্থারাইটিসের ক্রিমের দাম ৪,৮৪০ টাকা, এগজিমার ক্রিম ৬,১৩৬। ২০০ মিলিলিটারের মেডিকেটেড শ্যাম্পুও ২,৪০০ টাকার।

তার দাবি, গত অর্থবর্ষে সেই ব্যবসার অঙ্ক ছুঁয়েছে প্রায় ১.১৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের থেকে যা ৭০ শতাংশ বেশি।

অ্যাবি বলেন, ‘আমার জিনিস মূলত বিদেশে অনলাইনে বিক্রি হয়। ওষুধ ও প্রসাধন শিল্পে ব্যাপক চাহিদা। গোটা দেশে ব্যবসা ছড়াতে চাইছি। লগ্নিকারীও দরকার। আমার কাছে ফ্রান্স থেকে আনা ২১টি ‘পউট্যু’ জাতের গাধা রয়েছে। দশাসই চেহারা। দুধও বেশি দেয়। আমার ফার্ম থেকে প্রতি লিটার ৪,৭০০ টাকাতেও বেচেছি।’

টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স থেকে গত বছর স্নাতকোত্তর পাস করেছেন দিল্লির পূজা কল। সেই বছর অক্টোবরেই কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে একটি সংস্থা খুলে গাধার দুধের সাবান তৈরি শুরু করেন। বিক্রি করেন অনলাইনে। মূলত ১৪টি যাযাবর পরিবারকে নিয়ে গাজিয়াবাদের দাসনা এলাকায় তারা সমবায়ের মতো গড়েছেন। ৪২টি গাধা রয়েছে। প্রতিদিন সেখান থেকে দিল্লিতে পূজাদের কারখানায় ৫-১৫ লিটারের মতো দুধ এনে ঘণ্টা চারেকের মধ্যে ‘প্রসেস’ করতে হয়।

পূজার দাবি, ‘এখনও খুব কম লোক গাধার দুধের বিষয় জানে। কিন্তু ব্যবসার দূরন্ত ক্ষেত্র এটা। বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনীতে ও অনলাইনে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। মাসে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার জিনিস বিক্রি হচ্ছে। লাভ ২০-২৫ শতাংশ। দুধটাকে পাউডার করার যন্ত্রপাতি থাকলে দ্বিগুণ আয় হতো। বিদেশে রফতানি করতে পারতাম।’

রাজস্থানের জয়পুরের বিএসসি পড়ুয়া সময় সিংহ গুজ্জরও বছর দু’য়েক আগে ধার করে শহর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. দূরে ৪০টি গাধার খামার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘‘ভিলওয়াড়ায় বড় রফতানিকারী আছেন। তার লোকেরা প্রতি দিন ৫-৬ লিটার দুধ নিয়ে যান। দিনে আয় ২,৫০০-৩,০০০ টাকার মতো।’

পুণের রমেশ যাদবের ৫-৬টি গাধা। তিনি প্রতি মিলিলিটার দুধ ৭০০ টাকায় বেচেন। একেবারে ক্রেতার বাড়িতে গাধা নিয়ে গিয়ে টাটকা দুধ দুইয়ে।

খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ভারতে ওষুধ হিসেবে গাধার দুধের চাহিদা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন পূজারা। ১ চামচ দুধ বিক্রি হয় ৫০-১৫০ টাকায়!

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?