বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৮ অক্টোবর, ২০১৮, ১০:৪৭:৫১

গণগ্রেপ্তারের ভয়, এলাকায় ৭ দিন ধরে নামাজ বন্ধ

গণগ্রেপ্তারের ভয়, এলাকায় ৭ দিন ধরে নামাজ বন্ধ

 সিরাজগঞ্জ : পুলিশের হাতে গণগ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য। এমনকি প্রায় ৭ দিন ধরে বন্ধ আছে মসজিদের আজান ও নামাজ আদায়। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া চরপাড়া গ্রামের। উপজেলার একাধিক মামলার আসামি জামায়াত সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ ছিনতাই হওয়ার পর এলাকায় এমন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর মরহুম জয়নাল আবেদীন তালুকদারের কুলখানিতে সংসদ সদস্য তানভীর ইমামসহ থানা-ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণকে আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু ওই কুলখানিতে এলাকার একাধিক মামলার আসামি জামায়াত নেতা আলাউদ্দিন আল  আজাদ আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন।

সেখানে আমন্ত্রিতদের মধ্যে জামায়াত নেতা উপস্থিত হলে বিষয়টি পুলিশ টের পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরায়। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকার কিছু জামায়াত সমর্থক তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালাতে সাহায্য করে।

কিন্তু পুলিশ পলাতক ওই আসামি গ্রেপ্তার করতে না পেরে ওইদিন রাতে আওয়ামী পরিবারসহ বেশকিছু সাধারণ মানুষের বাড়িতে অভিযান চালায়। এতে গ্রামের সাত-আটটি পরিবারের বাড়িঘর ও পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি এলাকার মানুষদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও তারা জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে গ্রামের সাধারণ মানুষের মন থেকে ভীতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নির্যাতনের শিকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুস সালামের পুত্র মো. রকিবুল ইসলাম রকিব লিখিত অভিযোগে জানান,উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম, উল্লাপাড়া মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ঝরনা খাতুন, কয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকার পরিবার পুলিশের অভিযানে মারধরের শিকার হন। এমনকি পুলিশ তাদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের এমন কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছেন। এমনকি ভয়ে অন্য গ্রামের মানুষও এখন চরপাড়া গ্রামে প্রবেশ করছে না।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান,পুলিশ কোনো হামলা বা ভাঙচুর করেনি। এলাকায় আসামি ধরতে রুটিন ওয়ার্ক করছে মাত্র।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি এলাকায় একটি প্রতিপক্ষ থাকে। ওই এলাকাও তার ব্যতিক্রম না। বিধায় এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য প্রতিপক্ষ সুযোগ নিচ্ছে। আর এর দায় পুলিশের উপর চাপানো হচ্ছে।

গ্রামে পুরুষশূন্য এবং মসজিদের নামাজ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন,‘কেউ যদি আতঙ্কে গোপনে থেকে গ্রামে না আসে, সেই ক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি। তারপরও ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ দেওয়া আছে, টহল অব্যাহত থাকবে।’

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?