বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:৪৪:২৯

রিফাতকে মারাতে নয় বাঁচাতে চেয়েছিলেন মিন্নি, নতুন ভিডিও প্রকাশ

রিফাতকে মারাতে নয় বাঁচাতে চেয়েছিলেন মিন্নি, নতুন ভিডিও প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের আরেকটি নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভিতে ধারণ করা বলে বলা হচ্ছে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, রিফাতকে মারাতে নয় বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন মিন্নি। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করার পর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনের একটি সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া ভিডিওতে এটা দেখা যায়।

নতুন ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১মিনিটে মিন্নি একাই একটি রিকশায় করে অচেতন রিফাতকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন।

এসময় সেখানে দাঁড়ানো মামুন নামের একজন রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। রিফাতের অবস্থা দেখে তিনি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন।

এসময় সেখানে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর রক্ত মাখা হাতে মিন্নি হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কল দিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের ভেতরে যান। এর কিছু সময় পরে মিন্নির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন কিশোর হাসপাতালে আসেন।

এরপর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। ১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের দিকে রওনা হয় অ্যাস্বুলেন্সটি।

জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ও বরগুনা জেলা পুলিশের একটি সিসি ক্যামেরা আছে। তবে এই ভিডিওটি কোনো ক্যামেরায় ধারণ করা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বামী হত্যায় অভিযুক্ত হওয়ার পর মিন্নি এখন জামিনে কারামুক্ত হয়ে বরগুনার মাইঠা এলাকায় বাবার বাসায় অবস্থান করছেন। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে মিন্নি কোনো কথা বলেননি।

এ বিষয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি আমি সংগ্রহ করেছি। মিন্নি যে রিফাত শরীফতে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, তা কলেজের সামনের ভিডিও এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিডিওতে সুষ্পষ্টভাবে দেখা গেছে। আমার মেয়ে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই কলেজের সামনের আরেকটি ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু হাসপাতালের সামনের এই ভিডিওটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়ছে।’ ‘এরকম আরো একটি ভিডিও আমার সন্ধানে আছে। আমি সেই ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’

গুরুতর আহত রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন-বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র টেকনিশিয়ান সুভাষ চন্দ্র।

তিনি বলেন, ‘রিফাত শরীফকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিফাতের অবস্থা খুব খারাপ ছিল।

চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রের আঘাতে তার বাম পাশের ফুসফুস দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে সব ব্যবস্থা করেও তার জীবন সংশয় হতে পারে ভেবে রিফাতকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় মিন্নি তার স্বামীকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে কী আছে সেটা আমি এখনো দেখিনি। কারণ আদালতে দেয়া পুলিশের অভিযোগপত্রের কপি এখনো পাইনি।’ তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ যদি এই ভিডিওর বিষয় উল্লেখ না করে তবে তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ বলেও দাবি করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা তার (মিন্নি) বিরুদ্ধে যতটুকু অভিযোগ পেয়েছি তা বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি। এখন নতুন করে কোনো ভিডিও বের হয়েছে কিনা, সেটা আমাদের জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় নামে। এরপর ২ জুলাই এ হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়।

কিন্তু মিন্নির শ্বশুরই পরে হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। এরপর ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে সেদিন রাতে তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান মিন্নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?