বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭, ০৭:২০:৩৪

মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ৬ শতাধিক অভিযোগ এসেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ৬ শতাধিক অভিযোগ এসেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা: ভোক্তা অধিদফতরে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেলসহ দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ৬০০টির বেশি অভিযোগ এসেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সোমবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর টিসিবি ভবনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ১৬তম সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে রবি, গ্রামীণ, এয়ারটেল ও বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কলড্রপসহ নানা ধরনের ৬০০ এর বেশি অভিযোগ এসেছে। কোনো কোনো অভিযোগে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে কোম্পানিগুলোর কেউ কেউ হাইকোর্টে রিট করেছে।’

ভোক্তা অধিকার সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অপারেটর রবিকে ৫ থেকে ৬টি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর তারা হাইকোর্টে রিট করে। চলতি সপ্তাহে সে বিষয়ে শুনানি হতে পারে। এছাড়া বাংলালিংকও একটি রিট করেছে। তাও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে গ্রামীণফোনকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু তারা কোনো রিট করেনি।

বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন ছিলো উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরে শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রফতানি করেছি। নেপালে ভূমিকম্প হওয়ার পর তাদের ১০ হাজার টন চাল সাহায্য করেছি। কিন্তু হঠাৎ বন্যার কারণে উৎপাদনে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।’

বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভারত ও নেপালসহ অনেক দেশেই গড়ে প্রতি কেজি চালের মূল্য ৪০ টাকার উপরে এমন তথ্য দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশে চাল রফতানি করবে না- এমন সংবাদের কারণে দেশে চালের দাম বেড়েছে। নতুবা বাড়তো না। এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। তবে বাংলাদেশে একটা রেওয়াজ আছে যে, কোনো জিনিসের দাম বাড়লে তা সহসায় আগের দামে ফিরে আসে না।  তবুও চালের দাম এখন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।’

কখনও কখনও দুই-একটা পণ্যের দাম বাড়ে মন্তব্য করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দুই-একটা পণ্যের দাম বাড়লেও এটা তো বলা যাবে না যে, সব পণ্যের দাম বেড়েছে। যেমন ডালের বা ভোজ্য তেলের দাম তো বাড়েনি।’

তিনি বলেন, ‘আমিও এক সময় এক টাকায় চাল কিনেছি। কিন্তু এখন কি তা সম্ভব? কারণ মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। এক সময় ডলারের দাম ছিল ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। এখন তা ৮০ টাকা।’

তবে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারক, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী সবার সাথে নিয়মিত বৈঠক করা হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
 
তৃণমূল পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তাদের আরো সচেতন করতে থিম সং তৈরি করে তা শিগগিরই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে ভোক্তাদের না ঠকাতে পারে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

ভোক্তরা যত বেশি সচেতন হবে ততো কম ঠকবে বলে উল্লেখ করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠনের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিক্রেতা বা উৎপাদনকারীরা ওজনে কম দেয়, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেয়। কিন্তু ভোক্তারা সচেতন হলে এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। তবে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বেশি করে প্রচার করার দরকার।’

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি কাজী আাকরাম উদ্দিন বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি আরো শক্তিশালী করে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১০ সালে ভোক্তা অধিদফতরের কার্যক্রম চালু হয়। ওই বছর মাত্র ৭৩টি অভিযোগ করেছিল ভোক্তারা। আর চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩ হাজার ৮৯টি। যাচাই-বাছাই করে এসব অভিযোগের শতভাগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এছাড়া কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৭৫ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম চালিয়েছে ভোক্তা অধিদফতর। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩৩ হাজার ২২৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা আদায়ের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?