বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৮:৫৭:৩১

আদালতে আ.লীগের কোনো বন্ধু পাওয়া গেল না?: তোফায়েল

আদালতে আ.লীগের কোনো বন্ধু পাওয়া গেল না?: তোফায়েল

ঢাকা: বিএনপিকে উৎফুল্ল করতেই সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং এর পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই রায় প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

এই রায় প্রসঙ্গে এমিকাস কিউরিদের (আদালতের বন্ধু) দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিস্মিত হই, এই দেশে এই আদালতে আওয়ামী লীগের কোনো বন্ধু পাওয়া গেল না?’  

বুধবার রাতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল এসব কথা বলেন। সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাংসদ মইনুদ্দীন খান বাদল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত হয়। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রতিস্থাপিত করেছিল জাতীয় সংসদ। ওই সংবিধানের ৯৬ ধারা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারতো সংসদ।

গত ১ আগস্ট এই মামলার যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে, তাতে শাসনব্যবস্থা, সংসদ নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নানা মন্তব্য এসেছে। ওই রায় এবং পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধুকে ‘খাটো করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সংসদকে কেউ যদি ছোট করার চেষ্টা করে তাহলে সমস্ত জাতিকেই ছোট করা হয়। কারণ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কোনো বড় দেশেই জুডিশিয়াল কাউন্সিল নেই। আজকে আমার অবাক লাগে এটি এখানে চালু করা হয়েছে। ১৯৫৬ এর সংবিধানে আছে সংসদ বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর ৭৭ এর সামরিক সরকারের প্রচলন করা আইনটি প্রধান বিচারপতির ভালো লেগে গেল।’

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে তোফায়েল বলেন, ‘তিনি বলেছেন তাকে মিস কোড করা হয়েছে। মিস কোড কখন হয় যখন বেশি কথা বলা হয়। বেশি কথা ভালো নয়। এ পর্যন্ত কয়জন প্রধান বিচারপতি এতো বেশি কথা বলেছেন?’

বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা যায়, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে গেলে তার বিরুদ্ধে করা যায়। কী বিস্ময়কর! বিচারপতিদের দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে না।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে কাদের আদালতের অ্যামিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধু হিসেবে নেয়া হয়েছে। কারা আদালতের বন্ধু হয়েছেন। ড. কামাল হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীবিরোধী। আমিরুল ইসলামের সঙ্গে আ.লীগের সম্পৃক্ততা নেই। রোকন উদ্দিন মাহমুদ আদালতে এক কথা বলেছেন, আর বাইরে আরেক কথা বলেছেন। এজে মাহমুদ আলী। তিনি দৌড় মাহমুদ আলী হিসেবে পরিচিত। হাসান আরিফ। তিনি বিএনপির সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হয়েছেন।  ফিদা কামাল। ওয়ান ইলেভেন সরকারের অ্যাটার্নি জেনারেল ছিলেন। আব্দুল ওয়াদুদ বিএনপির।  টিএইচ খান বিএনপির প্রতিষ্ঠা জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী ছিলেন। ফারুকিও তাদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। একমাত্র আজমালুল হক কিউসি বিপক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ড. কামাল বলেছেন আমাদের সংবিধান শুরুই হয়েছিল ‘আমরা’ দিয়ে। কিন্তু তিনি জানেন না স্বাধীনতার শুরু হয়েছিল ‘আমি’ দিয়ে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি। তিনি বেমালুন ভুলে গেছেন এটি। আমারত্ব একদিন হিমালয়ের আমিত্বে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। আমি এবং আমরা নিয়ে অহেতুক একটি বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।’

এই বিভাগের আরও খবর



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?