শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০১:৪৫:১১

‘জনতার উত্তাল তরঙ্গে খালেদা জেলমুক্ত হবেন’

‘জনতার উত্তাল তরঙ্গে খালেদা জেলমুক্ত হবেন’

ঢাকা : জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্যে দিয়ে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসার শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
 
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রয়ারি) সকালে নয়পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ শপথ নেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
 
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে দলটি। যদিও বেলা ১১টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
 
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই কর্মসূচি থেকে আমরা শপথ নেই, জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করে আনবো।  সেই লক্ষ্য আন্দোলনকে আরও বেগবান করি।
 
খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়ে গিয়ে সরকার ভেবেছে বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার ভাবছে, বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে, সেটা যাবে না। তারা (জনগণ) কারাগারে থেকে খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্ত করে নিয়ে আসবে। অতীতে তাদের নেতা (শেখ মুজিবুর রহমান) মিথ্যা মামলার কারাগারে বন্দি ছিলেন। মানুষ তাকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিল। আর খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের নেত্রী। এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী। রাজপথে নামলে লাখ লাখ মানুষ তার পিছনে আসে।
 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সাথে আছেন। তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
 
সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে কারাগার পরিত্যক্ত ও নির্জন। সেই কারাগারে দেশনেত্রীকে রাখা হয়েছে। আজকে দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ একা নির্জন কারাগারে রেখে বর্তমান সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত করেছে। এর জন্য তাদের (সরকার) বিচার হবে।
 
আওয়ামী লীগের সরকার সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। এর জন্য  খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের  বিরুদ্ধে মামলা। সারাদেশে প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

ফখরুল বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন ও ব্যর্থ। তাদের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার  নাই।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই আমাদের এই লড়াই ও সংগ্রাম দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনবার লড়াই। এই লড়াই নেতাকর্মীদের মক্ত করবার লড়াই। বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার লড়াই।

অবস্থা কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে তিন দিন সাধারণ কয়েদী হিসেবে রাখা হয়েছে। যারা খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদী হিসেবে রেখেছেন তাদের বিচার চাই আমরা।
 
খালেদা জিয়া খুব শিগগির মুক্ত হবে- এমন আষা ব্যক্ত করে দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আন্দোলন ছাড়া দেশনেত্রীকে মুক্ত করার আর কোন বিকল্প পথ নেই। কিন্তু এর সাথে আইনি লড়াইও চলবে।
 
কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়া জেলে বন্দি মানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বন্দি। খালেদাকে জেলে রেখে দেশ পরাধীন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের জনগণ সেটা হতে দেবে না।
 
বিএনপিতে ভাঙ্গন সময়ের ব্যাপার মাত্র- সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, দেশের কোন শক্তিই বিএনপিকে ভাঙ্গতে পারবে না। দেশনেত্রীকে জেলে নিয়ে আওয়ামী লীগ তাকে দেশনেত্রী থেকে নেলসন ম্যান্ডেলা  বানিয়েছে। সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান  বলেন, বিচারের নামে প্রহসন করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে। সুতরাং আমরা সুবিচার পাইনি। এরকম অত্যাচারী সরকার  ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সুবিচার পাওয়ার আশা করা বোকামি। এরপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি লড়াই করছি।
 
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা (সরকার) ভাবছেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন করবেন। ভুলে যান। কারণ খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না।
 
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন রিজভী। পরবর্তী রাতে নয়াপল্টন থেকে প্রেরিত ক্ষুদে বার্তায় ভ্যেনু পরিবর্তন করে রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ আজ সকাল ১০টায় ফের ভেন্যু পরিবর্তন করে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, ডিএমপি কমিশনার আমাদেরকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করার কথা বলেছেন।
 
অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন,সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসানসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
 
জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈশা, পিজিপির আব্দুল মতিন সাউদ প্রমুখ।
 
এদিকে বিএনপির অবস্থান কর্মসূট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দলটি  কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেন।
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে গেছে। আপনি কি একমত?