সোমবার, ১৯ নভেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
SHARE

বুধবার, ০৭ নভেম্বর, ২০১৮, ০৬:১৫:২২

হার্ডলাইনে যাবে সরকার!

হার্ডলাইনে যাবে সরকার!

ঢাকা : নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার। যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ধরণের রাজনীতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না সরকার। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের সহিংসতা হলে তা বরদাশত করা হবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে আওয়ামী লীগই। তাই আমরা চাই, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করুক। এজন্য আমরা অনেক ছাড় দিচ্ছি। কিন্তু সংলাপের আড়ালে কেউ যদি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে সে ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। অন্তত আমি বেঁচে থাকতে এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।

প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যদি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান, জনগণের অধিকারের নির্বাচন চান সেটি আলাদা কথা। কিন্তু আপনাদের যদি অন্য মতলব থাকে তাহলে সেই মতলব ঝেড়ে ফেলুন। আমি বেঁচে থাকতে সেই মতলব সফল হতে দেব না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য তারা জামিন চেয়েছে। আমরা বলেছি এটা আদালতের বিষয়। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, তারা সংসদ ভেঙে দিয়ে উপদেষ্টা সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। যা সংবিধান সম্মত নয়। সে প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে আর কোনো সংলাপ নয় আলোচনা হতে পারে বলেও জানান কাদের।

একটি সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ১০ উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপের গণভবনে এসে লিখিতভাবে এ প্রস্তাব দেয়। তবে আওয়ামী লীগ এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। জবাবে বলেছে, এটা সংবিধান সম্মত না, এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি আবারো জানিয়েছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট। নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি দাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানা গেছে।

বেলা ১১টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসে ঐক্যফ্রন্ট। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে একে একে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা গণভবনে প্রবেশ করেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. ‌মোশাররফ হো‌সেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ‌মোস্তফা মহ‌সিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত ‌চৌধু‌রী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

সংলাপে সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছিলেন, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মণি, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, স ম রেজাউল করিম, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?