মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর, ২০১৮, ০২:২০:৪৬

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই: রিজভী

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই: রিজভী

ঢাকা: রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে উপেক্ষা করে সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, 'সকল বিরোধী দলের দাবি ছিল মাঠ সমতল (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড)   এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণা। এমনকি পর্যাপ্ত সময়ও রয়েছে কমিশনের হাতে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধে নির্বাচন পিছিয়ে দিলে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটতো না।’

তিনি বলেন, 'নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাইকারি হারে গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি তল্লাশির নামে বাড়িতে বাড়িতে তাণ্ডব চলছে। চারদিকে শুধু আতঙ্ক আর ভয়। দেশে আইন, বিচার সবই একজন ব্যক্তির হাতের মুঠোয় বলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, নিম্ম আদালত সরকারের আজ্ঞাবাহী হওয়ার কারণে সারাদেশে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে প্রতিদিন হয় কোর্টের বারান্দায় না হয় কারাগারে থাকতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধান না হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত।

তিনি আরও বলেন, 'সংবিধানের বাইরে যাবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও মহাজোটের নেতারা মুখস্থ কথাই আউড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেরাই একের পর এক সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। মন্ত্রী ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীরা পদত্যাগ পত্র জমা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক কোনো পদে আসীন ব্যক্তি অথবা কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার সাথে সাথে সেটি কার্যকর হয়। এক্ষেত্রে চাকুরিজীবীদের মতো পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা বা না করার কোনো বিধান নেই। আমরা দেখতে পাচ্ছি, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন, কিন্তু আবার দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, 'সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক আওয়ামী কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি দণ্ডিত হলেও তাদের মন্ত্রীত্ব ও এমপিত্ব বজায় থাকে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দী করে সুচিকিৎসার অধিকারকেও কেড়ে নেয়া হয়েছে। আবারও একতরফা নির্বাচন করতে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে জোরপূর্বক কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কী অদ্ভুত ব্যাপার! বেগম জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্রের প্রয়োজন পড়েনি। ছাড়পত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়েছে পিজির চিকিৎসক নন এমন একজন শিক্ষার্থী-চিকিৎসক দিয়ে। এমনকি বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগরে নেয়া হয়েছে তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তা জানেনও না। বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নানামুখী চাপেরই এটি একটি অংশ। সরকার নিজ উদ্দেশ্য সাধনে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণের মাত্রা দিনকে দিন বৃদ্ধি করছে। সুতরাং চিকিৎসা শুরু না হতেই তড়িঘড়ি করে তাকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারের প্রতিহিংসায় বেগম জিয়ার জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও আশপাশের জেলায় চলছে গ্রেফতার অভিযান- এমন অভিযোগও করেন রিজভী।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'সময় অত্যাসন্ন, যে কারাগার অন্যের জন্য তৈরি করা হয় সেই কারাগারে নিজেদেরকে ঢুকতে হয়, এটাকেই বলে প্রকৃতির প্রতিশোধ। নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেদেরকেই পড়তে হয়, এ বিষয়টি ভাবার জন্যও ক্ষমতাসীনদের অনুরোধ করছি। আসলে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আওয়ামী লীগ এক সাথে চলতে পারে না।’

ঢাকায় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে গত চারদিনে ২৩০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?