রবিবার, ২১ এপ্রিল ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১১:৩৫:০০

নতুন বছরে গুম-খুন বন্ধ হবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে: মোশাররফ

নতুন বছরে গুম-খুন বন্ধ হবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে: মোশাররফ

ঢাকা: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নতুন বছরে গুম-খুন-অপমৃত্যু বন্ধ হবে এবং গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’

রবিবার (১ বৈশাখ, ১৪ এপ্রিল) বিকেলে নয়াপল্টনে  দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা( জাসাস ) এর আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘গত বছর ছিলো গণতন্ত্র হারানো বছর। গতবছর এদেশের মানুষ কথা বলতে পারেনি, গত বছর মানুষের ভোটের অধিকার ছিলো না, গত বছর এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের বছর ছিলো। হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ কারাগারে, গুম-খুন, অর্থনীতিকে ধস, ব্যাংক লুট, রিজার্ভ লুট এবং শেয়ার বাজার লুটের বছর। সব ঘটনাই গ্লানি, সব ঘটনা দেশের মানুষের জন্য বেদনার ও দুঃখের।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করতে চাই, এই নতুন বছরে আর বিএনপি নেতা ইলিয়াস চৌধুরীর মতো কেউ গুম হবে না, কেউ খুন হবে না। এই নতুন বছরে সাগর-রুনি-তনু-নুসরাতদের মতো আর কেউ অপমৃত্যুর শিকার হবে না। আমরা চাই, নতুন বছরে বর্তমানে যে অঘোষিত বাকশাল চলছে তার থেকে মুক্ত হবে। আমরা প্রত্যাশা করতে চাই, নতুন বছরে গণতন্ত্রকে ফিরে আসবে, সকল অস্থিরতা, অশান্তি, অসত্য, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটবে, পরিবর্তন ঘটবে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন,  ‘আগামী বছর হোক শান্তির বছর, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বছর, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বছর। আগামী বছর হোক মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সংগ্রাম-আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বছর। গত বাংলা বছরে আমরা ভালো ছিলাম না। আমরা এদেশের জনগন আগামী বছরে ভালো থাকতে চাই, শান্তি থাকতে চাই, নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে চাই। এদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলবে, নিজেদের উন্নয়ন করবে, সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে-এই প্রত্যাশা আমাদের।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা জানেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আইনি লড়াইয়ে প্রায় ১৪ মাস হয়েছে তিনি মুক্তি পাননি। কোনো স্বৈর সরকার তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে কখনো এমনিতেই মুক্তি দিয়ে দেয় না। ইতিহাস তা বলে না। তাই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনতে আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। গণতন্ত্রকে অতীতে বিএনপিই মুক্ত করেছে, এবারো এই দলের ওপর দায়িত্ব। দেশনেত্রীকে মুক্ত করেই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভুমিকা রাখবো।’

এসময় কারাবন্দি খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গত বছর কেমন গেল- আমরা যদি সংক্ষেপে বলি, ভালো ছিলাম না।নতুন বছর বরনের সময়ে সকলের প্রার্থনা থাকে গেলো বছরের যত গ্লানি-কালিমা সকল কিছু ধুয়ে-মুছে আমরা নতুন বছরের সুখ-সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে চাই। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা কী? বিগত বছরে এমন কোনো ঘটনা আছে যে, আমরা গর্বের বছর হিসেবে ধরে নিতে পারি। আমাদের গেলো বছরের সকল ঘটনা গ্লানিময়, সকল ঘটনা জাতীয় জীবনে অস্বাভাবিক ও বেদনা দায়ক। যা বলে শেষ করা যাবে না-আমরা গেলো বছরটি কিভাবে কাটিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি পরিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গত একবছর তাদের সামনে পায়নি। গত বছরে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেছে। দেশনেত্রী কারাগারে বলে নতুন বছর পালন করতে পারছেন না। সেই প্রেক্ষাপটে আজকে জাসাসের এই প্রতিবাদী বৈশাখি নামে বর্ষবরনের অনুষ্ঠান।’

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ তৈরি করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর উদ্যোগে বর্ষবরণ- ১৪২৬ সাল উপলক্ষে ‘প্রতিবাদী বৈশাখী’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান হয়। প্রতিবছর বাংলা নববর্ষের দলীয় এই অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকেন। এবার তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো অনুপস্থিতির কারনে নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ হিসেবে প্রতিবাদী বৈশাখ উদযাপন করছে।

অনুষ্ঠানের প্রথমে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং পরে জাসাস শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে  ও সিনিয়র- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র- যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?