বুধবার, ২২ মে ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯, ১১:৫৮:৫৫

৩০১ এ মাত্র ১ জন!

৩০১ এ মাত্র ১ জন!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটটির কমিটি না দেয়া ও ইউনিটটিকে গতিশীল করতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি অবহেলা ও অবমূল্যায়নের অভিযোগ করে আসছেন নেতা-কর্মীরা। সর্বশেষ সোমবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এই ইউনিট থেকে মাত্র একজন সদস্যকে রাখায় ক্ষোভ আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চবি ছাত্রলীগকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এভাবে অবমূল্যায়ন করতে থাকলে ছাত্র রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাবেন ইউনিটটির নেতা-কর্মীরা।

জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রার্থীদের বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে দীর্ঘদিন যাচাই-বাছাইয়ের পর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সিংহভাগ পদ দিলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছে মাত্র ১ জন। এই নিয়ে চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হতাশা ব্যক্ত করে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দিতে থাকেন। এসময় অনেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বৃহত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি বলে অবিহিত করেন।

সামিউল আলম নামের এক কর্মী লিখেন, কেন্দ্রীয় কমিটি না বলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি বলেন। ছাত্রলীগ শুধু ঢাবিতে আছে আর কোথাও নাই। কেন্দ্রীয় কমিটি বর্জন করলাম।

মাহমুদুল হাসান শাওন নামের আরেক কর্মী লিখেন, শোভন-রাব্বানী কমিটি মনে করছিলাম অনেক ট্যালেন্ট, দেখি সোহাগ-জাকিরের চেয়ে বড় তেলের ড্রাম। প্রচুর তেল আহোরণ করে।

কনক সাহা জয় নামের আরেক কর্মী লিখেন, রাজনীতি নয়, তেলবাজি ও লবিং করা শিখুন। পদ আসবেই। আফসোস,  কাউরে অভিনন্দন জানাতে পারলাম না।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক আরাফাত ব্রেকিংনিউজকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। একসময় শিবিরের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত এই ক্যাম্পাস এখন শিবিরমুক্ত এবং সর্বত্রই প্রগতির চর্চা চলছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে মূল্যায়িত না করায় আমরা অত্যন্ত হতাশ। আমাদের সিনিয়র নেতৃত্বের এই অবমূল্যায়নের তীব্র নিন্দা জানাই।
 
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে নেতৃত্বহীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। ২০১৭ সালের ৪ মে শাখা ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। কিন্তু কার্যক্রম স্থগিত করার পরও সংঘর্ষ চলতে থাকায় ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের গৌরব ও ঐতিহ্যে এই ইউনিটকে গতিশীল, সুসংহত করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করার লক্ষে ২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ নভেম্বর চবিতে সাংগঠনিক সফরে আসেন ৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। তখন প্রতিনিধি দল পদ প্রত্যাশী ৯৬০ জনের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে। যদিও পরে আর কমিটি দেয়া হয়নি।

তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের আগ মুহূর্তে শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।

সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে চবি ছাত্রলীগের কমিটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে দেয়া হবে জানালেও এর কার্যকারিতা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?